আফিফ নুরুলের অস্ট্রেলিয়া বধ

প্রথম ম্যাচে গতকাল তার ১৭ বলে ২৩ রানে ১৩১ রানের পুঁজি পায় বাংলাদেশ। তিনি এমন মুহূর্তে তেঁড়েফুড়ে মারছিলেন; যখন তার সতীর্থরা নেমেছিলেন আসা-যাওয়ার মিছিলে। তার ব্যাটিং ছিল ভয়ডরহীন। মিচেল স্টার্ক-হ্যাজেলউডদের পাত্তাই দিচ্ছিলেন না। বাউন্ডারি হাঁকানোর পাশাপাশি প্রান্ত বদলেও তিনি ছিলেন কার্যকর। দলের জয়ও এসেছে ২৩ রানে। আজ বুধবার দ্বিতীয় ম্যাচেও আফিফ আর সোহান এমন সময়ে জুটি বাঁধেন, যখন বাংলাদেশ শিবিরে জেঁকে বসেছে পরাজয়ের শঙ্কা। টপ অর্ডার ধসে পড়েছে। ৬৭ রানে নেই হয়ে গেছে ৫ উইকেট। দলের জয়ের জন্য তখনো দরকার ৫২ বলে ৫৫ রান।

এদিন নামার সময় তাঁর প্রতি বার্তা ছিল ‘স্বাভাবিক’ খেলার, ‘নামার সময় (মাহমুদউল্লাহ) রিয়াদ ভাই বলেছিলেন, গিয়ে যেন দু–তিন ওভার স্বাভাবিকভাবে খেলি। কিন্তু আমার পরিকল্পনা ছিল শেষ পর্যন্ত টিকে থাকা, ম্যাচটা শেষ করে আসা। ব্যাটিংয়ে নেমে আমি উইকেট বোঝার চেষ্টা করেছি। উইকেট কেমন করছে, সেটা বুঝে খেলার চেষ্টা করেছি।’

এরপর প্রয়োজনীয় রান রেট নিয়ে ভাবেননি আফিফ, ‘আমার বিশ্বাস ছিল, প্রয়োজনীয় রান রেট যা–ই থাকুক না কেন, উইকেটে শেষ পর্যন্ত টিকতে পারলে আমি ম্যাচটা ভালোভাবে শেষ করতে পারব।’ দলের জয়ের জন্য তখনো দরকার ৫২ বলে ৫৫ রান। এমন সময়ে এই দুজন দায়িত্ব নিয়ে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন। গড়েন ৪৪ বলে ৫৬* রানের অবিচ্ছিন্ন ৬ষ্ঠ উইকেট জুটি। আফিফের মারকাটারি ৩১ বলে ৫ চার ১ ছক্কায় ৩৭* রানের ইনিংসের পাশাপাশি নুরুলের ২১ বলে ২২* রানের অবদান কম নয়।

আফিফ এ ক্ষেত্রে দারুণ সহায়তা পেয়েছেন নুরুলের, ‘(নুরুল) সোহান ভাই দারুণ ব্যাটিং করেছেন। তাঁর সঙ্গে ব্যাটিংয়ের সময় কীভাবে উইকেট না দিয়ে রান তোলা যায়, সে পরিকল্পনা ছিল। তাঁর দিক থেকে ভালো সমর্থন পেয়েছি আমি। ফলে আমার ওপর তেমন কোনো চাপ পড়েনি আর।’

প্রথম ম্যাচে কম রানের সম্বল নিয়েও জেতার পর আজ রান তাড়ায় চাপে পড়েও ম্যাচ বের করেছে বাংলাদেশ।

আফিফ বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ের সিরিজগুলো আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে তাঁদের, ‘শেষ কয়েকটি সিরিজে আমরা অনেক ভালো করেছি। জিম্বাবুয়েতে ভালো করেছি, তার আগের সিরিজটিতেও ভালো করেছি। ওই সিরিজগুলোর আত্মবিশ্বাস আমাদের সহায়তা করছে। সিনিয়র যাঁরা আছেন, তাঁরাও আমাদের বিভিন্ন বিষয়ে সাহায্য করছেন। খুব ভালো একটা পরিবেশ এখন আমাদের দলে আছে।’

পাঁচ ম্যাচের টি–টোয়েন্টি সিরিজে দুই ম্যাচ শেষে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে বাংলাদেশ। পরের লক্ষ্য তাই সিরিজ জয়, ‘অবশ্যই আমাদের প্রতি ম্যাচ নিয়ে চিন্তা থাকে। এখন সামনের ম্যাচ নিয়েও চিন্তা রাখছি। ওই ম্যাচ জিতলে সিরিজটাও আমাদের পক্ষে আসবে। ইনশা আল্লাহ চেষ্টা থাকবে সামনের ম্যাচও জেতার।’

বাংলাদেশের ক্রিকেটে সঠিক দিকনির্দেশনা এবং পরিচর্যার অভাবে অনেক প্রতিভা অকালে হারিয়ে গেছে। এই তরুণদের সামনে এখন বন্ধুর পথ। সাফল্যের পর ব্যর্থতা আসবে। ২-৩টি ম্যাচ খারাপ করলেই দেশজুড়ে শুরু হবে সমালোচনা। আবার তারকাখ্যাতির সামলানো শিখতে হবে। তাহলেই বিপথে যাওয়ার ভয় থাকবে না। দেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যত হয়ে উঠতে এই তরুণদের ট্র্যাকে থাকতে হবে। আফিফ, শরীফুল, নাঈম, নাসুম, মেহেদিদের  ট্র্যাকে রাখার দায়িত্ব বোর্ডেরও কিন্তু কম নয়।

এ জাতীয় আরও সংবাদ

Back to top button