ইমামকে জুতার মালা পরিয়ে অপমানিত করার আসামি গ্রেফতার

বরিশাল জেলার মেহেন্দিগঞ্জ থানার মধ্য দড়ির চর খাজুরিয়া দাখিল মাদ্রাসা অফিস সহকারি ও স্থানীয় মসজিদের ইমাম মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম ওরফে আলাউদ্দিন কে জুতার মালা পরানো ঘটনার মূল হোতা দরির চরখাজুরা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মোস্তফা রাঢ়ী ও সাবেক মেম্বার সাত্তার শিকদার কে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ০৫-০৬-২০২০ তারিখ বিকেল ৩ ঘটিকায় আদালতে প্রেরণ করা হয়।

জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জনাব মোহাম্মদ মওদুদ আহমেদের নিকট উক্ত মামলার প্রধান আসামি দরিরচর খাজুরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মোস্তফা রাড়ী এবং সাবেক মেম্বার আব্দুস সাত্তার শিকদারের ঘটনায় নিজেদের জড়িত থাকার অভিযোগ স্বীকার করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করে ।

জবানবন্দি প্রদান শেষে তাদেরকে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রেরণ করা হয়। নাঈমুল হক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ,জেলা বিশেষ শাখা, বরিশাল জানান, জিজ্ঞাসাবাদে চেয়ারম্যান মোস্তফা রাঢ়ী এবং সাবেক মেম্বার আব্দুস সাত্তার শিকদার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ।


চেয়ারম্যান নিজেই তার সালিশি অন্যান্য মেম্বারদের সাথে আলোচনা ক্রমে ছাত্রীর উপবৃত্তির টাকা আত্মসাৎ করার দায়ে ছাত্রীর বাবা এবং সাবেক মেম্বার আব্দুস সাত্তার শিকদার এর অভিযোগের প্রেক্ষিতে মাদ্রাসার অফিস সহকারি ও মসজিদের ইমাম মোঃ শহিদুল ইসলাম ওরফে আলাউদ্দিন কে জুতার মালা পরায়।

উল্লেখ্য যে গত বুধবার সন্ধ্যাবেলা ফেসবুক, ইউটিউব এবং অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়ায় বরিশাল জেলার মেহেন্দিগঞ্জ থানা দরিচর খাজুরা ইউনিয়নের দাখিল মাদ্রাসার অফিস সহকারি এবং স্থানীয় মসজিদের ইমাম মোঃ শহিদুল ইসলাম ওরফে আলাউদ্দিন কে জুতার মালা পরানোর ঘটনাটি ভাইরাল হয়।

ঘটনাটি বরিশাল জেলা পুলিশ প্রশাসনের দৃষ্টিতে আসা মাত্রই বাদী কে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মামলা রেকর্ড করে পুলিশ আসামি গ্রেফতার অভিযানে নামে।

বরিশাল জেলার পুলিশ সুপার জনাব মোঃ সাইফুল ইসলাম (বিপিএম-বার )বিষয়টি নিজেই মনিটরিং করেন এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হক কে এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা প্রদান করেন এবং আসামি ধরার নির্দেশ প্রধান করেন।

মোহাম্মদ নাঈমুল হক , অতিরিক্ত পুলিশ সুপার যিনি ইতিপূর্বে আরো অনেক চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলাসহ অন্যান্য মামলার রহস্য উদঘাটনে তার দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। তিনি তার নিজ দক্ষতায় এবং আধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োগ করে আসামিদের অবস্থান নিশ্চিত করে নিজেই অভিযান পরিচালনা করে বরিশাল জেলার মুলাদী থানার পৌরসভা এলাকায় ফারুক হাওলাদার এর বাড়ির সামনে রাস্তার উপর থেকে পালিয়ে ঢাকায় যাওয়ার সময় উক্ত মামলার মূল হোতা খাজুরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ মোস্তফা রাঢ়ী এবং সাবেক মেম্বার আব্দুস সাত্তার শিকদার কে গ্রেফতার করেন।

মামলা রেকর্ড হওয়ার মাত্র ৮ ঘন্টার ভিতরে মামলার মূল হোতাদের নাঈমুল হক,অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ,জেলা বিশেষ শাখা, বরিশাল এর দক্ষতায় গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় থানা পুলিশ।এই নিয়ে এপর্যন্ত মামলার মোট তিনজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতার করার অভিযান চলছে।

জনাব মোঃ নাইমুল হক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জেলা বিশেষ শাখা জানান, এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনা সমাজে কখনোই কাম্য নয় । বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তির যুগে এ সমস্ত ঘটনা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। বাংলাদেশ পুলিশ এই সমস্ত স্পর্শকাতর বিষয়ে সবসময় সতর্ক অবস্থানে থাকে। আমাদের পুলিশ সুপার মহোদয় শুরু থেকেই বিষয়টি মনিটরিং করছেন এবং প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা প্রদান করে আসছেন।

সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এই মামলার আসামিদের গ্রেফতার করার জন্য আমি তথ্য প্রযুক্তির সহায়তা নেই। পেশাদারিত্বের সাথে কাজ করলো যে কোন কাজে সফলতা পাওয়া যায়। মামলার অন্য আসামিদের ও দ্রুত গ্রেফতার করা হবে এবং এই মামলায় সকলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হবে বলে তিনি আশা করেন কিন্তু আর কখনো এমন খারাপ কাজের সাথে কেউ জরিতো না হয় তার দিক লক্ষ্যে রেখে কাজ করে চলছি। তবে দেশের যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে তার থেকে কিভাবে আমরা সুস্থ থাকবো সে কথা না ভেবে খারাপ কাজের দিকে লক্ষ্য করছি তবে আমাদের সচেতন থাকবে হবে দেশের প্রতিটা নাগরিক অধিকার নিশ্চিত থাকবে আমি মনে করি দেশ রত্ন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ কারন আমাদের দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখনো চলমান আমরা মনে করি কোনো অপরাধী আমাদের কাছ থেকে পালিয়ে বেড়াতে পারবে না। তবু ও টা দুঃখ জনক কথা আমার দেশে এখন মসজিদ এর ইমামকে জুতার মালা পরিয়ে অপমানিত করা হয়।
আমরা এর সুষ্ঠ বিচার এর দাবি করছি।

এ জাতীয় আরও সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button