উখিয়া-টেকনাফে রোহিঙ্গা আগমনের চার বছর ফূর্তি আজ;স্হানীয়দের দাবি তাড়াতাড়ি প্রত্যাবাসন”

আজ ২৫ আগষ্ট।কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফে রোহিঙ্গা আগমনের চার বছর পূর্ণ হলো। ২০১৭ সালের ২৫ আগষ্ট মিয়ানমারের আরাকানে রোহিঙ্গা মুসলমান নারী – পুরুষের ওপর মিয়ানমারের সেনারা হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন ও বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের ফলে জীবন বাঁচানোর তাগিদে সরকারি হিসাব মতে প্রায় বার লক্ষ রোহিঙ্গা সীমান্ত পার হয়ে কক্সবাজারের উখিয়া -টেকনাফে আশ্রয় গ্রহন করে।

এ দিবসটিকে রোহিঙ্গারা প্রতিবছর ক্যাম্পে গণহত্যা দিবস হিসেবে পালন করলে ও ২০১৯ সালে রোহিঙ্গাদের মহাসমাবেশের প্রভাব ও করোনাভাইরাসের কারণে আর দিবসটি পালন করার জন্য তারা অনুমতি পায়নি।

এদিকে ক্যাম্প প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, আজ ২৫ আগষ্ট এ দিবস উপলক্ষে যেন রোহিঙ্গারা কোন জায়গায় সভা সমাবেশ করতে না পারে সে দিকে ক্যাম্প ভিত্তিক সকল আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রয়েছে। তাছাড়া যেকোন মিছিল, মিটিং, প্লাকার্ড, ব্যানার ও ফেষ্টুন প্রদর্শন ও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে জেলা পুলিশ সুপার হাসানুজ্জামান বলেন,রোহিঙ্গারা যাতে এ দিবস উপলক্ষে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘঠাতে না পারে সে ব্যাপারে ক্যাম্পে আইন শৃঙ্খলার দায়িত্বরত সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। যদি এর ব্যর্থয় ঘটে তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উখিয়া-টেকনাফের স্হানীয় সচেতন মহলের সাথে কথা বলে জানা যায় ,২০১৭ সালে বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গাদেরকে মানবতা দেখাতে এ অন্ঞলে জায়গা দিয়ে বিগত ৪ বছরে তাদের আচরণ ও কর্মকাণ্ডে স্হানীয়রা কেবল অতিষ্ঠ নয় বরং রোহিঙ্গাদের নিয়ে তারা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে । তাদের মতে,রোহিঙ্গারা এখন স্থানীয়দের জন্য এক আতংকের নাম। রোহিঙ্গারা প্রতি নিয়ত চুরি, ডাকাতি, মাদক ব্যাবসা,স্হানীয়দের গুম-খুনসহ নানান অপরাধ করতে দ্বিধা করছে না। তাই মানবতা দেখাতে গিয়ে এ যেন খাল কেটে কুমির আনা। এ রোহিঙ্গা সংকট থেকে মুক্তি ও আগামী উখিয়া-টেকনাফের নিরাপত্তার জন্য রীতিমত অস্থিরতায় আছে স্থানীয়রা। তাই দ্রুত তাদের ভাসানচর কিংবা মায়ানমারে পাঠানোর দাবি জানাচ্ছে স্হানীয় সচেতন মহল।

উল্লেখ্য যে, রোহিঙ্গারা উখিয়া-টেকনাফে আসার পর থেকে ৩৪টি আশ্রয় কেন্দ্রে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সহায়তায় জরুরি মানবিক সহায়তা দিয়ে আসছে বাংলাদেশ সরকার।
আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যে মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে ২০১৭ সালের শেষের দিকে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি করলে ও তা আলোর মুখ দেখেনি। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে ১৫ নভেম্বর রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের দিন তারিখ ঠিক করলে মায়ানমার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে অস্বীকৃতি জানায়।

এ জাতীয় আরও সংবাদ

Back to top button