করোনা শহিদদের শেষ বিদায় এর পাশে মানবিক সংগঠন “কোয়ান্টাম”

কুল্লু নাফসিন যা-ইক্বাতুল মাউত” – প্রতিটি প্রাণকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে।

করোনাভাইরাস সংক্রমণে বাংলাদেশেও মৃত্যুবরণ করছে মানুষ। আর আতঙ্কগ্রস্ত স্বজনের অনীহা বা অপারগতার কারণে তাদের জুটছে শেষ বিদায়ে হৃদয়বিদারক সব অনাদর আর অবহেলার ঘটনা।

এই সময়ে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাকর্মী মিলে সারাদেশে করোনা-মৃতদের দাফন ও সৎকারে বিশেষ টিম।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে দাফনের বিশেষ প্রশিক্ষণ নিয়ে।

এ পর্যন্ত ঢাকা ও ঢাকার বাইরে ৪৮১টি দাফন ও ৬৭টি সৎকার সম্পন্ন হয়েছে।

মৃতদের মধ্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সংসদ সদস্যের মতো বিশিষ্টরা যেমন ছিলেন, তেমনি ছিলেন সাধারণ মানুষ।

কোভিডে আক্রান্ত হয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বী যারা মৃত্যুবরণ করছেন, তাদের জন্যেও ছুটে গেছেন স্বেচ্ছাসেবীরা।

মৃতা নারী হলে তার দাফনের জন্যে রয়েছে নারী স্বেচ্ছাসেবীর দল।

কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের দাফন কার্যক্রমের সমন্বয়ক সালেহ আহমেদ জানান, করোনায় নিহতদের লাশ ফেলে স্বজনদের পালিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়ার পর সংগঠনের পক্ষ থেকে ওইসব শেষ বিদায় জানানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। করোনা পজিটিভ মরদেহ সৎকারে স্বেচ্ছাসেবক টিম গঠন করা হয়। গত ৭ এপ্রিল থেকে ওই স্বেচ্ছাসেবকরা কাজ শুরু করেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিধি মেনে হাসপাতাল বা বাসায় গিয়ে মৃতদেহ গোসল করানো, কাফনের কাপড় পরানোসহ পুরো দাফন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন স্বেচ্ছাবেসকরা।

স্বেচ্ছাসেবকরা বলেন, কবরস্থানে মৃতের স্বজন হাতেগোনা কয়েকজন থাকেন। কখনো কখনো কেউই থাকেন না। তবে পুরো সময়ে স্বজনদের কাছে না পেলে খুব কষ্ট লাগে। পরিবারের যে মানুষটা এতোটা বছর একসঙ্গে ছিলেন সেই মানুষটার শেষযাত্রায় স্বজনদের অনুপস্থিতি সত্যিই কষ্টদায়ক বলে তারা বলেন।

সংগঠন এর দায়িত্বশীল বলেন, কবরস্থ করার পর মৃতের জন্যে আন্তরিক প্রার্থনা করি আমরা। একজন মানুষ মারা গেলে পরিবারের মানুষ কাছে থাকবে না, আত্মীয়রা জানাজায় আসবে না- এটা আমাদের দেশের সংস্কৃতি নয়। করোনার এই সময়ে স্বজনহীন সেই সব মৃতকে শেষ সম্মান জানানোর মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই দিন-রাতের যেকোনো সময়ে এ সেবায় নিয়োজিত আমরা। সকলের দোয়া, সহযোগিতা নিয়ে শেষ পর্যন্ত সেবা দিতে প্রস্তুত আমাদের স্বেচ্ছাসেবক দল।

তারা আশা করেন —
করোনার সাথে লড়াই করে যিনি মারা গেছেন তিনি আপনার আপনজন। তাকে শহিদ হিসেবে সম্মান জানানোর এই মানবিক উদ্যোগে আপনিও শামিল হোন! অর্থ, সময় বা শ্রম দিয়ে বা স্রেফ তার জন্যে দোয়া করে আপনি এ শহিদদের পাশে থাকুন।

তথ্যা সংগ্রহ :সাংগঠনিক website >>>
“জুলকার নাইন সাদমান “

এ জাতীয় আরও সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button