কেন বিয়ের সাজে পরীক্ষা দিতে বাধ্য হল শিবাঙ্গী

পড়াশোনার যেমন কোনও বয়স নেই তেমনি পড়াশোনার কোনও বিকল্প ও নেই। কথাগুলো শুনতে বেশ ভালো লাগে তাইনা?

তবে বাস্তবে এর মর্ম বুঝে চলা বেশ কঠিন। অনেকেই অনেক সময় বিভিন্ন অজুহাতে মাঝপথে পড়াশোনা ছেড়ে দেয়। কেউ বিয়ের অজুহাতে, কেউ আবার টাকার অভাবের দোহাই দিয়ে। কিন্তু অনেকে রয়েছেন যারা জীবনের সমস্ত প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করেও পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারেন। রাজকোটের এই মেয়ে তেমনই একজন।


বিয়ের সাজে পরীক্ষার হলে বসলো ব্যাচেলার অব সোশ্যাল ওয়ার্কের এক শিক্ষার্থী। এদিন তার পঞ্চম সেমিস্টারের পরীক্ষা ছিল। গা ভর্তি সোনার গহনা, হাতে মেহেদি, পরনে বেনারসি— একদম বধূ সাজে বাকি শিক্ষার্থীর সঙ্গে পরীক্ষা দিলেন। ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের রাজকোটে। সেই ছবি ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ভালো-মন্দ মন্তব্যে ভরে উঠেছে ছবিটিতে।

জানা গেছে, ওই তরুণীর নাম শিবাঙ্গী।ব্যাচেলার অব সোশ্যাল ওয়ার্ক (বিএসডব্লিউ) নিয়ে পড়ছেন শিবাঙ্গী। হবু স্বামীর বিষয়ও একই। দুজনই শান্তিনিকেতন কলেজের শিক্ষার্থী। এদিন পঞ্চম সেমিস্টারের পরীক্ষা ছিল। শিবাঙ্গী কনের সাজে সেই পরীক্ষা দেওয়ার পরই বিয়ের পিঁড়িতে বসেন।

কেউ কেউ বলেন, ‘এতটা বাড়াবাড়ি না করলেই কি নয়! শিবাঙ্গীর ইচ্ছেটা অতিরঞ্জিত!’ তাদের পাল্টা উত্তর দিয়ে অন্য একটি অংশ বলছে, ‘নিন্দুকদের কথায় কান দিও না শিবাঙ্গী। বিয়ের চেয়ে শিক্ষাকে বড় করে দেখানোর তোমার এই যে প্রয়াস, তাকে শ্রদ্ধা জানাচ্ছি।’অন্য একজনের কথায়, ‘নিজের চোখ দিয়ে অপরকে বিচার করা বন্ধ করুন। শিক্ষাকে শিবাঙ্গী যে গুরুত্ব দিয়েছেন, সেটাকেই বড় করে দেখুন।’

সব শুনে মন্দ কথার জবাব দিয়েছেন শিবাঙ্গীও। তিনি বলছেন, ‘আমার বিয়ের দিন ঠিক হয়ে যাওয়ার পরই পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা হয়। দিনটি বাতিল করা আমাদের পরিবারের পক্ষে সম্ভব ছিল না। আর বিয়ের দিন সকাল থেকেই প্রথা মেনে পাত্রীর বাড়িতে নানা অনুষ্ঠান লেগেই থাকে। তাতে কনেকে অংশ নিতে হয়। আমি ব্যতিক্রম নই। তাই বিয়ের পোশাক পরে পরীক্ষা দিয়েছি। তা দেখে কেউ তির্যক মন্তব্য করতেই পারেন। তবে আমি মনে করি, বিয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে পারে। কিন্তু পরীক্ষা নয়।


তিনি আরো বলছিলেন, ‘এছাড়া আমার কাছে আর কোনো উপায় ছিল না। হবু স্বামীর পরিবার থেকেও কোনো আপত্তি ওঠেনি। বরং তারা আমাকে উৎসাহ যুগিয়েছেন।’

এ জাতীয় আরও সংবাদ

Back to top button