কেমন ছিল বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার আগের ম্যাচগুলো

আর্থিক বিষয়াদি হলে অনায়াসে লেখা যেত, এক সপ্তাহে পয়সা দ্বিগুণ। সেটা না হলেও এক সিরিজেই ম্যাচ দ্বিগুণের বেশি তো হচ্ছেই! টি-টোয়েন্টিতে ১৪ বছর বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া মুখোমুখি হয়েছিল মাত্র চারবার। সেটা মাত্র সাত দিনে ৯ ম্যাচে রূপ নিচ্ছে এবার। প্রথমবারের মতো দ্বিপক্ষীয় সিরিজে মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া। আর সে সিরিজেই কিনা পাঁচ ম্যাচ খেলছে দুই দল।টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখেই সিরিজে ম্যাচের সংখ্যা বেড়েছে। আর সে সুবাদে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর একটি ভালো সম্ভাবনাও সৃষ্টি হয়েছে।

এ নিয়ে যে চারবার দুই দলের দেখা হয়েছে প্রতিটিই বিশ্বকাপে, বিশ্ব মঞ্চে দেখা হওয়া চার ম্যাচের কোনোটিতেই জয় পায়নি বাংলাদেশ। আজ থেকে শুরু হওয়া টি-টোয়েন্টি সিরিজে সে অচেনা স্বাদ পেতেই পারে স্বাগতিক দল। তার আগে চলুন দেখে নেওয়া যাক আগের চার ম্যাচে কী হয়েছিল।

২০০৭, প্রথম দেখা

এ ম্যাচ কেউ যদি মনে রাখেন, সেটা ব্রেট লির সুবাদে। খুব যে ভালো বল করেছিলেন, তা নয়। কিন্তু যা করেছেন, সেটাই বাংলাদেশকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। তামিম ইকবাল (৪০ বলে ৩২ রান) ও আফতাব আহমেদের (৩৪ বলে ৩১ রানে) বাংলাদেশ টেনেটুনে ১৩৫-১৪০–এর দিকে এগোচ্ছিল। কিন্তু ১৭তম ওভারে সাকিব আল হাসানকে (১১ বলে ১৬) উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন লি। দলে অলক কাপালি, মুশফিকুর রহিম থাকার পরও নামানো হয় মাশরাফি মুর্তজাকে।

ব্রেট লির বল বোঝার আগেই স্টাম্প উড়ে যায় মাশরাফির। এরপর নামা কাপালিও লির পেসে বিভ্রান্ত হয়ে এলবিডব্লু।

একদিকে আফতাব ও অন্যদিকে ফরহাদ রেজা (১৩ বলে ৪ রান) মিলে দলের অলআউট হওয়া ঠেকানোতে মন দিয়েছিলেন। ইনিংসের শেষ ২ বল খেলা মুশফিক নেমেছিলেন নয়ে! বাংলাদেশ ৮ উইকেটে ১২৩ রান তুলেছিল।জবাবে অ্যাডাম গিলক্রিস্ট ও ম্যাথু হেইডেনই ম্যাচ শেষ করে দেবেন বলে মনে হচ্ছিল। ১২তম ওভারে রানআউট হয়ে যান ২৮ বলে ৪৩ করা গিলক্রিস্ট। ৪৮ বলে ৭৩ রান করা হেইডেন অবশ্য ৩৭ বল আগেই ৯ উইকেটের জয় এনে দিয়েছেন।

২০১০, দ্বিতীয় ম্যাচ

ম্যাচের প্রথম এক ঘণ্টা ঘোরে ছিলেন সবাই। ডেভিড ওয়ার্নার, শেন ওয়াটসন, মাইকেল ক্লার্ক, ডেভিড ও মাইকেল হাসি, ক্যামেরন হোয়াইটের অস্ট্রেলিয়া ৬৫ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে বসল! ১৩ ওভার শেষে অস্ট্রেলিয়ার রান ওভারপ্রতি ৫!

উইকেটে মাইক হাসি আর লেগ স্পিনার বলে পরিচিত স্টিভ স্মিথ। সে ম্যাচেই নিজের পরিচয় কিছুটা দিলেন স্মিথ। কঠিন পরিস্থিতিতে ১৮ বলে ২৭ রান করে হাসিকে সঙ্গ দিলেন স্মিথ। বাকিটা হাসিই করলেন। তাঁর ২৯ বলে ৪৭ রানে অস্ট্রেলিয়া ১৪১ রান তোলে। দুজনের ৭ ওভারের জুটিতে ৭৪ রান এসেছিল সেদিন।

বাংলাদেশ ব্যাটিংয়ে নামার আগপর্যন্ত জয়ের আশা করছিল। প্রথম বলের পরই সেটা শেষ। শন টেইটের বলে ইমরুল কায়েস ব্যাট চালিয়েছেন, কিন্তু সে বল দেখেছিলেন কি না, প্রশ্ন থাকবেই। টেইটের প্রথম চার বলে ব্যাটও ছোঁয়াতে পারেননি। যে ৪টি রান এসেছে, সেটা টেইটের গতি ও ইমরুলের শরীরের সুবাদে। প্রথম পাঁচ বলে গতি দিয়ে ভড়কে দিয়ে শেষ বলে স্লোয়ারে বধ করলেন ইমরুলকে।

বাংলাদেশের ইনিংসের বাকিটা শুধু আসা–যাওয়ার গল্প। টেইটের বলে রান নেওয়ার তো প্রশ্নই ওঠেনি (১/১৫), অন্যদিকে ডার্ক ন্যানেসও ১৮ রানে তুলে নিয়েছেন চারজনকে। রায়ান হ্যারিস, স্মিথ ও ডেভিড হাসি মিলে বাংলাদেশকে ১১৪ রান গুটিয়ে দিয়েছেন। সাকিব আর মুশফিকই শুধু ২০ পেরিয়েছিলেন।

২০১৪, তৃতীয় ম্যাচ

চার ওভারের মধ্যে দুই ওপেনার বিদায় নেওয়ার পর জুটি বেঁধেছিলেন সাকিব ও মুশফিক। ১৩ ওভারে ১১২ রানের দুর্দান্ত একটা জুটিও হয়েছিল। ৩৬ বলে ৪৭ রান করা মুশফিকের বিদায়ে শেষ সে সুখ। এক ওভার পর সাকিবও বিদায় নিয়েছেন ৫২ বলে ৬৬ রান করে। শেষে ঝড় বলে কিছু ওঠেনি। মাহমুদউল্লাহ-নাসির মিলে ওয়ানডে গতিতে দলকে ১৫৩ রান এনে দিয়েছেন।

আবারও অস্ট্রেলীয় ওপেনারদের দাপট দেখেছে বাংলাদেশ। ডেভিড ওয়ার্নার (৩৫ বলে ৪৮) ও অ্যারন ফিঞ্চ (৪৫ বলে ৭১) ১২ ওভারের মধ্যেই ৯৮ রান তুলে দিয়েছেন। দুই ওপেনার আউট হয়ে গেলেও অস্ট্রেলিয়ার ক্ষতি হয়নি। ১৫ বল ও ৭ উইকেট হাতে রেখে জিতেছে অস্ট্রেলিয়া।

২০১৬, সর্বশেষ দেখা

৩ উইকেটে হার বলে লড়াই শব্দটার ব্যবহার। না হলে এ ম্যাচেও খুব একটা প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়নি। আগে ব্যাট করা বাংলাদেশ ১৬তম ওভারে পঞ্চম উইকেট হারিয়েছিল। সাকিব যখন ফিরছেন, বাংলাদেশের রান তখন ১০৫। মাহমুদউল্লাহ (২৯ বলে ৪৯*) ও মুশফিক (১১ বলে ১৫*) ২৮ বলে ৫১ রান এনে দিয়েছিলেন।

১৫৭ রানের লক্ষ্যে ২ উইকেটে ১১৫ রান তুলেছিল অস্ট্রেলিয়া। ৫৮ রান তোলা উসমান খাজাকে বোল্ড করে দেন আল-আমিন হোসেন। ৪ রান পরে ডেভিড ওয়ার্নারকে ফেরান সাকিব। নিশ্চিত জয়ের আগে টানা কিছু উইকেট হারিয়ে একটু উত্তেজনার সৃষ্টি করেছিল অস্ট্রেলিয়া। ১৫২ রানে সপ্তম উইকেট হারায় দলটি। কিন্তু ৯ বল আগেই ৩ উইকেটের জয় পেয়ে যায় তারা।

এ জাতীয় আরও সংবাদ

Back to top button