গল্পের নাম বিভ্রাট -সাগর আহমেদ

বড় রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে আছি। ঠিক দাঁড়িয়ে আছি বললে ভুল হবে, দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে মোবাইলে গেম খেলছি। হোম কুয়ারেন্টাইনে থেকে বেশ অলস আর বোর হয়ে গেছি। তাই একটু রিফ্রেশমেন্ট!! কিন্তু সমস্যা হচ্ছে আশে পাশে একজন আঙ্কেল টাইপের লোক ঘুরঘুর করছে। কে হতে পারে? কোনো চোর/ডাকাত নয়তো? মন দিয়ে গেম খেলছি,হঠাৎ হাত থেকে ফোন টা ছোঁ মেরে দিয়ে দিল ভোঁ-দৌঁড়! এমনটা হতেই পারে! তাই মোবাইল টা পকেটে ঢুকিয়ে লোক টার দিকে ভালো করে তাকালাম!

নাহ, ইনি আর যা-ই হোক চোর হতে পারেন না! বয়স মোটামুটি ৪০, পরনে সাদা ফুল শার্ট, কালো ফুল প্যান্ট। শার্টের হাতা টা কনুই পর্যন্ত গোটানো। ক্লিন শেভড ফেইস। চুল গুলো সুন্দর করে আঁচড়ানো! এমন সুন্দর পুরুষ আজ অবধি দেখিনি। বিশ্ব সুন্দরী প্রতিযোগীতার মতো বিশ্বসুন্দর প্রতিযোগীতা কি আছে? আছে হয়তো। থাকলে এই ভদ্রলোকটা নিশ্চয় বাংলাদেশ থেকে প্রথম হতো!
প্রত্যেকটি সুন্দর জিনিসেরই খুঁত থাকে। আমি ভদ্রলোকের খুঁত খুজতে শুরু করলাম। পেলাম না। হতে পারে তার দাঁত সুন্দর না। দেখা গেল,তার দাঁত একটা নেই।
ভদ্রলোকের দাঁত দেখার জন্য মন উশখুশ করছে! আচ্ছা, তাকে একটু চমকে দিলে কেমন হয়?
“হ্যালো মিস্টার,আমি আপনার দাঁত দেখতে চাই। মুখ খুলে আপনার দাঁত দেখান তো” – এটা বলে ভড়কে দিব?
নাকি পেছন থেকে গিয়ে “হালুম” করে জোরে শব্দ করবো? তাতে কি হবে? ভড়কে গিয়ে উনি কি করবেন? দৌড় দিবেন? নাকি কষে একটা থাপ্পড়?
সাতপাঁচ ভাবতে ভাবতে হঠাৎ খেয়াল করলাম একটা ডানা কাটা পরী রাস্তার ওপাড়ে দাঁড়িয়ে আছে। কাউকে খুঁজছে হয়তো। পরীটাকে ডানা ছাড়াই বেশ মানিয়েছে। ডানা থাকলে হয়তো তাকে মানাতোনা।
পরী আমাকে ডাক দিলো, ভাই….
হার্টের মধ্যে বিদ্যুৎ খেলে গেল, ভাইয়া ডাক শুনে। পরবর্তিতে হিসেব করলাম –
V = Valobasi
A = Apnake
i = Ami

আমি তার ডাকে সাড়া না দিয়ে,সেখানেই ঠাঁই দাঁড়িয়ে রইলাম। শত হলেও নিজের একটা আত্ম-সম্মান আছে। মেয়েদের কাছে গেলে, নিজেকে ছোট ছোট মনে হয়। দরকার হলে সে-ই আসবে!
পরী নিজেই এলো আমার কাছে। চোখ টা ভালো করে খেয়াল করলাম! কবিদের ভাষায় এই চোখের নাম কাকের চক্ষু! চোখে হালকা করে কাজল দেয়া।

ভাইয়া আমার ফোনে ইউটিউব চলছে না। একটু দেখুন তো কি হয়েছে! পরীর কথায় হুশ ফিরে পেলাম, ফোন টা হাতে নিয়ে ইউটিউবে ঢুকেই চমকে গেলাম! ঠিকঠাক -ই তো চলছে! পরীটার মুখের দিয়ে তাকালাম। বুঝলাম, সে আমার নাম্বার চাইছে।
দিলাম তাকে নাম্বার। পরীটা চলে গেল। আঙ্কেল টাও তার পিছু নিল। যাক গে, যা ইচ্ছা করুক।
আমার এখন খুশিতে লাফাতে ইচ্ছা করছে..!

রাত ১০ টা! অচেনা নাম্বার থেকে sms আসলো “I Love You”
আমি রিপ্লাই দিলাম, “কে বলছেন?”
ওপাশ থেকে রিপ্লাই আসলো – ” আমি সে,যার দিকে তুমি মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে ছিলে, বড় রাস্তার মোড়ে”!
তখন তো আমার খুশিতে মরে যেতে ইচ্ছে করছে। তাহলে এটা সেই পরী!!!

আমি সাথে সাথে I Love You Too লিখে রিপ্লাই দিলাম! সাথে অনেকগুলো Love Emoji

ওপাশ থেকে রিপ্লাই আসলো, আমি ভাবিনি তুমি রাজি হয়ে যাবা। কাল সন্ধ্যায় আমার দেয়া ঠিকানায় চলে এসো। আমার বাসা ফাকা থাকবে!
এবার আমি সত্যি সত্যি হার্ট এটাক করে ফেলবো মনে হচ্ছে!

সারাদিন উত্তেজনায় কাটলো, কখন সন্ধ্যা হবে! সন্ধ্যা হওয়ার পর তার দেয়া ঠিকানায় চলে গেলাম। কলিংবেল টিপতেই এক আঙ্কেল দরজা খুললো। সাথে সাথেই হাই ভোল্টেজের চমক খেলাম! ইনি তো সেই- যাকে কাল দেখেছিলাম।
তখন ব্যাপার টা মাথায় এলোনা,ইনি কি পরীটার বাবা? হতেই পারে! কিন্তু পরী তো বলেছিল, বাসা ফাঁকা থাকবে। তবে কি আমার আসতে লেইট হয়ে গেছে? সন্ধ্যায় হয়তো তার বাবা বাসায় ফিরেছে। সারাদিন ফাকা ছিল? নিজেকে গালি দিতে ইচ্ছা করছে।

এমন সময় আচমকা ভদ্রলোক আমাকে গভীর চুমু দিয়ে ভেতরে নিয়ে গেল!
-” শোনো বাবা,আমার মেয়েদের প্রতি ইন্টারেস্ট নেই। তাই বিয়ে করিনি। কাল প্রথমবার দেখেই তোমাকে আমার ভালো লেগেছিল। কৌশলে মেয়েটার থেকে তোমার ফোন নাম্বার নিয়েছিলাম। তোমাকে প্রপোজ ও করি। তুমি যে সাথে সাথেই রাজি হয়ে যাবা, ভাবিনি। যাই হোক, লজ্জার কিছু নেই। তুমি বেড রুমে যাও,আমি একটু ফ্রেশ হয়ে আসি। “

আমি হাই ভোল্টেজের শক খেলাম। মাথাটা বন বন করে ঘুরছে। পাশে কেউ থাকলে তাকে বলতাম, মাথা টা ধরে রাখতে! যেন ঘোরা বন্ধ হয়! সেন্সলেস হয়ে যাবো যাবো ভাব, কোনোমনে নিজেকে সামলে নিলাম।

সে যাত্রায় কোনোমতে পড়িমড়ি করে দৌড়ে সেখান থেকে পালালাম। এমন স্পিডে দৌড়াচ্ছি, বাস/ ট্রাক ও আমায় ধরতে পারবেনা..! আর যাই হোক, প্রেম করা শখের চেয়ে নিজের মান-সম্মান টা বড়..!
ছুটতে ছুটতে কোনো একটা শক্ত কিছুর সাথে ধাক্কা খেলাম।

চোখ মেলতেই নিজেকে হাসপাতালে আবিষ্কার করলাম..! তবু ভালো, মাথাটা একটু ফাটলেও নিজের মান-সম্মান তো বেঁচেছে..।

এ জাতীয় আরও সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button