গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে অতর্কিত আক্রমণ –

গত ৩১ মে রবিবার আনুমানিক ৬ টা ৩০ মিনিটের সময় পুরনো শত্রুতার জের ধরে ইউনুস সমাদ্দারের আদেশক্রমে, তাঁরা সমাদ্দারের নেতৃত্বে দলবল নিয়ে গাড়িয়াডাঙ্গা ,বিলে জমিতে কর্মরত অবস্থায় পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে বালিয়াডাঙ্গা উত্তরপাড়ার মোঃ বাবলু শেখ এর উপর আক্রমণ চালায়।

ঘটনা স্থলে পরিদর্শন করে প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়-
বাবলু শেখ যখন তার জমিতে কাজের উদ্দেশ্যে রওনা করে -ইতোপূর্বে ইউনুস সোমাদ্দারের লোকজন তাকে টার্গেট করে। অতঃপর বাবলু শেখ যখন কর্ম স্থানে পৌঁছে যায় এবং পুরোপুরি কাজে নিয়োজিত হয়। ঠিক তখনই তারা আট দশজন দেশিয় অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে বাবলু শেখ কে চারিদিকে ঘিরে ফেলে। একপর্যায়ে ইউনুস সোমাদ্দারের ভাস্তে-সুনা সমাদ্দার তাকে পাকড়াও করে জড়িয়ে ধরে রাখে এবং ইউনুস সোমাদ্দার ওয়ার্ডার করে বাবলু শেখ কে আঘাত করতে।

সেই লক্ষ্যে আর ৭-৮ জন (তাঁরা সমাদ্দার, আতিয়ার সোমাদ্দার ,জাহিদ সমাদ্দার, শহীদ সমাদ্দার, সুহাগ সমাদ্দর, জুয়েল সমাদ্দার এবং রুবেল সমাদ্দার) প্রথমে তারা সোমাদ্দার দেশিয় অস্ত্র দিয়ে মাথায় কোপ ছাড়ে।বাঁচার তাগিদে বাবলু শেখ হাত দিয়ে ঠেকানোর চেষ্টা করে এবং ভাগ্য ক্রমেই মাথার কোপ হাতে লেগে যায়-তারপর শুরু হয় বেধরক মারধর। একপর্যায়ে লাঠির আঘাতে মাজা ভেঙ্গে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে বাবলু শেখ-তবুও কমে না তাদের নিসংসতা মাটিতে লুটিয়ে পড়ার পরও ওল্টা পাল্টা লাথি ও পাড়াতে থাকে কয়েকজন।


পরিশেষে মার সহ্য করতে না পেরে যখন বাবলু শেখ জ্ঞানহারিয়ে ফেলে তখন দুর্বৃত্তরা মারা গেছে মনে করে ঘটনাস্থলে বাবলু শেখকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
স্থানীয় লোকজনের চিল্লাপাল্লা শুনে মাঠের অন্য কৃষক ও এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। পরবর্তীতে তাকে কাশিয়ানী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। ডাক্তার জানিয়েছে তার অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক।

এই মারামারি সূত্রপাত ঘটে আরো দিন ১৫ আগে থেকে । বাবলু শেখের ভাতিজা, দাউদ শেখের ক্ষেত থেকে ইউনুস সোমাদ্দারের ছাগলে পাট খেয়ে ফেলে। ইউনুস সমাদ্দারের স্ত্রীরির কাছে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন এই ছাগল আমাদের না। তখন দাউদ শেখ ছাগল খহড়ে নিয়ে যেতে চাইলে তাকে বাধা দেয় এবং কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে দাউদ শেখ কে থাপ্পর মারে।

এই বিষয়টি নিয়ে ইউনুস সমাদ্দারের কাছে অভিযোগ করলে তখন তিনিও আবার তাকে দুটি থাপ্পর মেরে ঘটনাস্থল থেকে তাড়িয়ে দেয়।

তার দুইদিন পরে দাউদ শেখের চাচা বাবলু শেখ (আক্রমণের শিকার) এবং আলমগীর শেখ ও আলামিন শেখ , ইউনুস সমাদ্দারের কাছে মারার কারণ শুনতে চাইলে তাদের সাথে অনেক বাজে ব্যবহার করে এবং বলে -যদি কিছু করতে পারো তাহলে করে দেখাও। ।

এ নিয়ে রোববার সন্ধ্যায় কাশিয়ানী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়।এই অভিযেগের দায়িত্ব পান এস আই উসমান। পুলিশ ঘটনাস্থলে তদন্ততে আসলে ইউনুস সমাদ্দারের লোক প্রশাসনের লোকদের সাথে উশৃংখল আচরণ করে-
এবং এক পর্যায়ে ইউনুস সোমাদ্দারের মেয়ে নাসিমা ,এস আই ওসমান কে বলেই ফেলে আমাদের টাকা আছে আপনারা আসামি ধরে নিয়ে যান,আমরা টাকা দিয়ে ছাড়িয়ে নিয়ে আসবো।

পরবর্তিতে এস আই উসমান জানিয়েছেন এ ব্যাপারে দ্রুত আইগনত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মোঃ তরিকুল ইসলাম
গোপালগঞ্জ জেলাপ্রতিনিধি

এ জাতীয় আরও সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button