চলো জানি খুটিনাটিঃ পর্বঃ১৫- ওয়ানগালা

[পঞ্চম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ের ১১তম অধ্যায়ে ওয়ানগালার উল্লেখ আছে]

ওয়ানগালা (Wangala) উত্তর-পূর্ব ভারতের মেঘালয় অঙ্গরাজ্য ও বাংলাদেশের বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলে বসবাসকারী গারো জাতির প্রধান ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব।

এ উৎসবকে ওয়ান্না, ওয়ানাগালা, ওয়ানমা রংচুয়া ও দ্রুয়া ওয়ানবলা প্রভৃতি নামেও ডাকা হয়। ওয়ান্না বা ওয়ানা শব্দের অর্থ দেব-দেবীর দানের দ্রব্যসামগ্রী এবং গালা শব্দের অর্থ উৎসর্গ করা। মূলত জুমচাষকে কেন্দ্র করেই ওয়ানগালা উৎসব পালিত হয়।

প্রতি বছর সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর মাসে গারো পাহাড়ে এই

উৎসব পালিত হয়। ওয়ানগালা উৎসবের নিয়ম অনুসারে জুমক্ষেতের মাঝখানের কিছু অংশের ধান কাটা হয় সবশেষে। ওই স্থানটিকে গারোরা বলে আসিরকার স্থান। ধান কাটা হয় দেবতার উদ্দেশে ধূপ উৎসর্গ করে।

অতঃপর গোড়া থেকে কেটে আঁটি বেঁধে এরা ধান নিয়ে আসে বাড়িতে। গারোরা এ সময় সবাই মিলে আনন্দ ধ্বনি করে। এদের বিশ্বাস, শেষ ফসলের সঙ্গে তারা ক্ষেতের দেবতাদেরও বাড়িতে নিয়ে আসে।

ধান ঘরে এনে প্রথমে এরা মোরগ উৎসর্গ করে মিসি সালজং বা সূর্য দেবতার নামে। কারণ সূর্য দেবতার নামেই ওই স্থানে ধান রোপণ করা হয়েছিল। অতঃপর নতুন ধানের চাল দিয়ে এরা ওয়ানগালার জন্য মদ তৈরি করে।

এ অনুষ্ঠানের পর সংনি নকমা (গ্রামপ্রধান) সবাইকে ডেকে সভা করে ওয়ানগালা উৎসবের দিন নির্ধারণ করেন। উৎসবের দিন ঘনিয়ে আসার আগেই গ্রামগুলোতে মদ তৈরির ধূম পড়ে যায়।

সবাই পূজার স্থান, বাড়িঘর ও গোলাঘর মেরামত ও পরিষ্কার করে। উৎসবের জন্য বাজার থেকে কিনে আনা হয় গরু, শূকর, ছাগল, মোরগ। বাড়ির লোকদের জন্য কেনা হয় নতুন পোশাক ও অলংকারাদি।

উৎসবে ব্যবহারের জন্য জোগাড় করা হয় মোরগ ও ডুকুয়া পাখির পালক।

সাধারণত দুই দিন ধরে এই উৎসব চলে। কখনো কখনো এক সপ্তাহ ধরেও এটি চলতে পারে। উৎসবের প্রথম দিনে গোত্রপ্রধানের ঘরে রাগুলা নামের অনুষ্ঠান পালিত হয়। উৎসবের দ্বিতীয় দিন কাক্কাত নামে পরিচিত।

এই দিন ছোট-বড় সবাই রংবেরঙের পোশাক ও পাখির পালক মাথায় দিয়ে লম্বা ডিম্বাকৃতি ঢোলের তালে তালে নাচে।

[আরো বিস্তারিত জানতে উইকিএডুকেটর ও পত্রপত্রিকায় ওয়ানগালা সম্পর্কিত লেখাগুলো পড়তে পারো।]

এ জাতীয় আরও সংবাদ

Back to top button