চলো জানি খুটিনাটিঃ পর্বঃ১৭- ইউক্যালিপটাস

[অষ্টম শ্রেণির বাংলা সাহিত্য কণিকা বইয়ের অতিথির স্মৃতি গল্পে ইউক্যালিপটাসের উল্লেখ আছে]

ইউক্যালিপটাস Myrtaceae গোত্রের Eucalyptus গণের লম্বা, মসৃণ বাকলবিশিষ্ট বৃক্ষ। এরা কষ্টসহিষ্ণু, অযত্নে বেড়ে উঠতে পারে। অস্ট্রেলিয়া, তাসমানিয়া ও নিউগিনির স্থানীয় উদ্ভিদ।

এর কাণ্ড সোজা, মসৃণ ও দীর্ঘ। ১২০ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। ধারণা করা হয়, ৩৫ থেকে ৫০ মিলিয়ন বছর আগে এ গাছটির উৎপত্তি। ইউক্যালিপটাস দ্রুত বর্ধনশীল হওয়ায় ১৭৭০ সালে স্যার জোসেফ ব্যাংকস নামের এক উদ্ভিদবিজ্ঞানী সারা বিশ্বের মানুষের সামনে গাছটি তুলে ধরেন।

পৃথিবীতে ৬০০ প্রজাতির বেশি ইউক্যালিপটাস গাছ আছে। বাংলাদেশে Eucalyptus citriodora প্রজাতিটি ১৯৬০ সাল থেকে মূলত পথতরু হিসেবে রোপিত হচ্ছে।

গাছ পরিবেশবান্ধব হলেও ইউক্যালিপটাস পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। গাছটি আশপাশের প্রায় ১০ ফুট এলাকার এবং ভূগর্ভের প্রায় ৫০ ফুট নিচের পানি শোষণ করে আকাশে উড়িয়ে দেয়। রাত-দিন ২৪ ঘণ্টাই পানি শোষণ করে বাতাসে ছাড়ে।

ফলে মাটিতে পানিশূন্যতা দেখা দেয়। এ কারণে আশপাশে থাকা অন্যান্য প্রজাতির গাছ পানির অভাবে বেড়ে উঠতে পারে না। আবার এ গাছের তেল দাহ্য হয়। ফলে যেখানে ইউক্যালিপটাস চাষ করা হয়, সেখানে অগ্নিকাণ্ডের মতো ঘটনা ঘটার আশঙ্কা বেশি থাকে। এ গাছ মাটিকে শুষ্ক করে; ফলে মাটির উর্বরতা কমে যায়।

ইউক্যালিপটাস গাছের কিছু উপকারী দিকও আছে। এর তেল মসলা হিসেবে ও সুগন্ধি তৈরি করতে ব্যবহার করা হয়। ওষুধ ও অ্যান্টিবায়োটিক তৈরিতেও এই তেল কাজে লাগে। এমনকি সর্দি নিরাময়ে এই তেল উপকারী। ভূমিধস রোধে ইউক্যালিপটাস গাছের সুনাম আছে। পরিবেশের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতেও রাখছে ভূমিকা।

তাই বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে বনায়নে এ গাছটি দেখা যায়। এ গাছের কিছু প্রজাতির কাঠ বেশ মজবুত ও মূল্যবান হয়। জাহাজ নির্মাণ, কাগজ তৈরিসহ বিভিন্ন কাজে গাছটির কাঠ ব্যবহৃত হয়। 

এ জাতীয় আরও সংবাদ

Back to top button