চলো জানি খুটিনাটিঃ পর্বঃ২২- জাবপোকা

জাবপোকা (Aphid) Homoptera বর্গভুক্ত Aphididae গোত্রের অতি ক্ষুদ্র পতঙ্গ। এদের দেহ কোমল। ডানা বা ডানাবিহীন উভয় অবস্থায় এদের দেখা যায়। তরমুজ, স্ট্রবেরি, শসা, ফুলকপি, বেগুন প্রভৃতি উদ্ভিদের জন্য এই পোকা বিশেষভাবে ক্ষতিকারক।

পৃথিবীর প্রায় সব অঞ্চলে জাবপোকা রয়েছে, তবে নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলেই এদের  বংশ বিস্তার হয় অপেক্ষাকৃত বেশি। এটি উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা, মধ্য এশিয়া, আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, মেক্সিকো এবং বেশির ভাগ ইউরোপে দেখা যায়।

পৃথিবীজুড়ে ২৫০ প্রজাতিরও অধিক জাবপোকা রয়েছে।

বাংলাদেশে বেশির ভাগ জাবপোকা শনাক্ত করা যায়নি। বিভিন্ন পোষক উদ্ভিদ থেকে ২০টি গণের অন্তর্ভুক্ত ৩০টি জাবপোকার নাম শুধু তালিকাভুক্ত হয়েছে।

ডানাবিহীন স্ত্রী জাবপোকার দেহের পরিবর্তনশীল সবুজ বর্ণের আড়ালে প্রায় দুই মিলিমিটার দীর্ঘ ডিম্বাশয় থাকে। পা হলুদ এবং অ্যান্টেনা সবুজ বর্ণের। ডানাযুক্ত স্ত্রী পতঙ্গের একটি মাকু আকৃতির দেহ থাকে। এদের মাথা ও বক্ষদেশ কালো থাকে।

জাবপোকা গাছের কচি কাণ্ড, ডগা ও পাতার রস খেয়ে জীবনধারণ করে। এরা গাছের পাতার নিচে বা অঙ্কুরের ক্রমবর্ধমান শীর্ষগুলো খেয়ে থাকে।

এর ফলে জাবপোকায় আক্রান্ত উদ্ভিদের পাতা হলুদ হয়ে যায়, প্রায়ই পাতা কুঁচকে যায় এবং বিকৃতি ঘটে থাকে এবং সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া বাধাপ্রাপ্ত হয়। ফলে জাবপোকায় আক্রান্ত উদ্ভিদটি মরে যায়।

এ ছাড়া জাবপোকা ক্রিংকেল, মোজাইক, রোসেট, সিটিভি এবং অন্যান্য ভাইরাসজনিত রোগ সংক্রমিত করে থাকে।

জাবপোকা দমনের জন্য ইমিডাক্লোরোপ্রিড জাতীয় কীটনাশক যেমন—এডমায়ার বা টিডো ৭ থেকে ১০ মিলিলিটার ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে প্রতি পাঁচ শতাংশ জমিতে ১০ দিন পর পর দুই থেকে তিনবার স্প্রে করলে উপকার পাওয়া যায়।

এ ছাড়া সাবানযুক্ত পানি বা আধাভাঙা নিমবীজের পানি আক্রান্ত গাছে ১০ দিন পর পর তিনবার স্প্রে করে পোকা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। তামাকের গুঁড়া (১০ গ্রাম), সাবানের গুঁড়া (৫ গ্রাম) ও নিমের পাতার রস প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়েও ব্যবহার করা যায়।

এ জাতীয় আরও সংবাদ

Back to top button