চলো জানি খুটিনাটিঃ পর্বঃ২৬- হায়ারোগ্লিফিক লিপি

[ষষ্ঠ শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ের দ্বিতীয় অধ্যায়ে হায়ারোগ্লিফিক লিপির উল্লেখ আছে]

গ্রিক শব্দ ‘হায়ারোগ্লিফ’-এর অর্থ ‘পবিত্র খোদাইকৃত লিপি’। মিসরে এসে গ্রিকরা এই লিপির কথা জানতে পারে। গ্রিকরা ধরে নিয়েছিল, এ লিপিতে ধর্মসংক্রান্ত বিষয়াবলি ও পবিত্র বাণী উল্লেখ আছে।

সেই ধারণা থেকেই এমন নামকরণ। যদিও পরে জানা যায় বিষয়টা সে রকম কিছু নয়। মিসরের শাসক ফারাওদের রাজত্বকালের নানা ঘটনা ও যুদ্ধবিগ্রহের কাহিনি লিখে রাখতেই ব্যবহার করা হতো এই লিপি।

হায়ারোগ্লিফিক লিপির শুরুটা ঠিক কবে থেকে সেটা নিয়ে অবশ্য যথেষ্ট বিতর্ক আছে। ধারণা করা হয়, ফারাও মেনেসের রাজত্বকালে এই লিপির শুরু। ভাষাবিদরা বলেন, হায়ারোগ্লিফের শুরু সুমেরীয়দের আবিষ্কৃত লিখন পদ্ধতির পরপরই; আর সেটা ধরে বছরকাল হিসাব করলে ৩২০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ।

আনুমানিক ৪০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সাধারণ লোকজন বুঝতেই পারত না এই লিপি। তবে গুটিকয়েক মানুষ কিন্তু এসবের অর্থ জানত। চর্চার অভাবে ধীরে ধীরে দুর্বোধ্য হয়ে ওঠে এই চিত্রময় বর্ণগুলো। এরপর দৈনন্দিন আর দাপ্তরিক কাজে ব্যবহারের জন্য তত দিনে মানুষ আরো সহজে লেখা ও পড়া যায় এমন বর্ণমালা তৈরি করে ফেলে। একসময় হায়ারোগ্লিফিক লিখন পদ্ধতির কথা ভুলে যায় মানুষ।

এই লিখন পদ্ধতিতে ভিন্ন ধরনের প্রায় ২০০০ প্রতীক ছিল। ২৪টি ব্যঞ্জনবর্ণ ছিল এই লিপিতে। ছিল না কোনো স্বরবর্ণ কিংবা বিরতিচিহ্ন। এই লিপি লেখা হতো ওপর থেকে নিচে, বাঁ থেকে ডানে বা ডান থেকে বাঁয়ে। আবার কোনো কোনো সময় ডান থেকে শুরু হয়ে পরের লাইনে আবার বাঁ থেকে। আসলে অঙ্কিত মানুষ বা পশু-পাখির মুখ যেদিকে ফেরানো থাকত, সেদিকটা সে লাইনের শুরু বলে ধরে নেওয়া হতো।

একই প্রতীক দিয়ে হায়ারোগ্লিফে তিন ধরনের ভাব প্রকাশ করা যেত। প্রতীকে যে প্রাণী বা বস্তুর ছবি থাকত, অনেক সময় হয়তো সরাসরি সেটাই বোঝাত। কখনো বোঝাত সেই প্রতীকের উচ্চারণ। আবার অন্য একটি প্রতীক কী অর্থে ব্যবহৃত হচ্ছে, সেই ব্যাখ্যার জন্যও এটি ব্যবহৃত হতো।

এ জাতীয় আরও সংবাদ

Back to top button