চলো জানি খুটিনাটিঃ পর্বঃ২৭- সোনারাম সাংমা

[পঞ্চম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ের একাদশ অধ্যায়ে সোনারাম সাংমার উল্লেখ আছে]

সোনারাম সাংমার পুরো নাম ফা সোনারাম রংরকগ্রি সাংমা। তিনি ছিলেন গারো জাতির মধ্যে প্রথম রাজনৈতিক নেতা। তাঁকে গারো জাতির রাজনীতির পথপ্রদর্শকও বলা হয়। তাঁর সঠিক জন্ম কবে জানা না গেলেও ১৮৮৯ সালে তাঁর বিয়ের রেজিস্ট্রিতে বয়স ২২ বছর লিপিবদ্ধ করা হয়। সে অনুযায়ী তাঁর জন্ম আনুমানিক ১৮৬৭ সালে। তাঁর বাবা ক্লাং জি মোমিন ছিলেন প্রভাবশালী মানুষ এবং মা চামরে রংরকগ্রি সাংমা ছিলেন ধর্মানুরাগী। ছয় ভাই-বোনের মধ্যে সোনারাম ছিলেন দ্বিতীয়।

১৮৮১ সালে নিশান গ্রামের এলপি স্কুলে ভর্তি হন। পড়াশোনায় দুর্বল ছিলেন। তবু নিজের ইচ্ছায় অনেক দূর পড়াশোনা করেন। তিনি সাংসারেক ধর্ম বাদ দিয়ে ১৮৮৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি যিশু খ্রিস্টকে ত্রাণকর্তা হিসেবে মেনে নিয়ে খ্রিস্ট ধর্ম গ্রহণ করেন এবং ১৮৮৯ সালের ৭ জুন থকজে গাবিল মোমিনকে বিয়ে করেন। ছিলেন তিন ছেলে ও তিন মেয়ের জনক।

ব্রিটিশ সরকারের অধীনে ১১ বছর চাকরি করেন সোনারাম। এর মধ্য ১০ বছর মুহুরি এবং ভেসিলেশন ইন্সপেক্টর পদে এক বছর। চাকরির সুবাদে ভিন্ন ভিন্ন গারো এলাকা পরিদর্শন করতে পেরেছিলেন বলে নিজের চোখে গারোদের দুঃখ-কষ্ট, অভাব-অভিযোগ, আশা-আকাঙ্ক্ষা, শোষণ, জামিদারদের হয়রানি—এই সব বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পেয়েছিলেন। এর ফলে নিজ জাতির জন্য কিছু করার তাগিদ অনুভব করেন। তাঁর নেতৃত্বে ১৯০০ সালে গোয়ালপাড়া জেলার দলগুমা নামের স্থানে বিশাল এক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেই সম্মেলনে গারোদের ভূমি পুনরুদ্ধারের জন্য কতগুলো সিদ্ধান্ত হয়। সরকার ও জমিদারের বিরুদ্ধে আদালতে মামলার টাকা সংগ্রহের ব্যাপারটিও ছিল একটি সিদ্ধান্ত। দুই বছরের মধ্যে লস্কর ও নকমাদের সহায়তায় দুই লাখ রুপি সংগৃহীত হয়। তখন থেকেই ব্রিটিশ সরকার গারো নেতাদের গ্রেপ্তার করা শুরু করে। এর পরও মামলা থেমে থাকেনি।

আন্দোলনের শেষ ও চূড়ান্ত ফলাফল পাওয়ার আগেই মাত্র ৪৮ বছর বয়সে ১৯১৬ সালের ২৭ আগস্ট বাকরাপুর গ্রামে এই মহান গারো নেতা পরলোকগমন করেন। ভারতে আজ যে গারো হিলস, তা তাঁর আন্দোলনেরই ফসল।

এ জাতীয় আরও সংবাদ

Back to top button