চলো জানি খুটিনাটিঃ পর্বঃ২৮- বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আবদুর রউফ

[পঞ্চম শ্রেণির আমার বাংলা বইয়ের ‘বীরের রক্তে স্বাধীন এ দেশ’ প্রবন্ধে বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আবদুর রউফের উল্লেখ আছে]

বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে চরম সাহসিকতা ও অসামান্য বীরত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ যে সাতজন বীরকে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়—মুন্সী আবদুর রউফ তাঁদের অন্যতম।

১৯৪৩ সালের ৮ মে ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার সালামতপুর গ্রামে (বর্তমান নাম রউফনগর) জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তাঁর বাবা মুন্সী মেহেদি হাসান ছিলেন স্থানীয় মসজিদের ইমাম এবং মাতা মুকিদুন্নেসা গৃহিণী। তাঁর ডাকনাম রব। তাঁর দুই বোন জোহরা ও হাজেরা।

শৈশবেই তিনি পিতৃহারা হন। সংসারের অভাব দেখে আবদুর রউফ ১৯৬৩ সালের ৮ মে পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলসে যোগ দেন।

১৯৭১ সালের মার্চ মাসে আবদুর রউফ ইপিআরের ১১ নম্বর উইং চট্টগ্রামে কর্মরত ছিলেন। ২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনারা সারা দেশে ব্যাপক গণহত্যা চালায়। চট্টগ্রাম ইপিআরের বাঙালি সদস্যরা সময়োচিত পদক্ষেপ নিয়ে রুখে দাঁড়ান শত্রুর বিরুদ্ধে। রাতেই তাঁরা পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন।

যোগ দেন অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে। ক্যাপ্টেন খালেকুজ্জামানের নেতৃত্বে অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট ও ইপিআরের ১৫০ জন সেনাকে দায়িত্ব দেওয়া হয় রাঙামাটি-মহালছড়ি নৌপথে নিরাপত্তাব্যূহ তৈরির।

১৯৭১ সালের ৮ এপ্রিল পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ২ নম্বর কমান্ডো ব্যাটালিয়নের দুই কম্পানি সেনা সাতটি স্পিডবোট ও দুটি লঞ্চ সহযোগে রাঙামাটি-মহালছড়ি নৌপথের আশপাশে অবস্থানরত মুক্তিবাহিনীর ওপর আক্রমণ চালায়।

বিপদ দেখে ক্যাপ্টেন খালেকুজ্জামান পেছনে হটার সিদ্ধান্ত নেন। মুন্সী আবদুর রউফ নিজের জীবন বাজি রেখে পাকিস্তানি সেনাদের ওপর কাভারিং ফায়ার করে সঙ্গীদের নিরাপদে পিছু হটতে সাহায্য করেন।

সঙ্গীরা নিরাপদে পিছু হটতে পারলেও অকস্মাৎ শত্রুর একটি গোলার আঘাতে ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় মুন্সী আবদুর রউফের দেহ। সহযোদ্ধারা পরে তাঁর লাশ উদ্ধার করে নানিয়ারচরের চিংড়ি খালসংলগ্ন একটি টিলার ওপর সমাহিত করেন।

মুক্তিযুদ্ধে তাঁর বীরত্ব ও আত্মদানের জন্য বাংলাদেশ রাইফেলস ১৯৭৩ সালে সিপাহি মুন্সী আবদুর রউফকে অনারারি ল্যান্স নায়েক পদে মরণোত্তর পদোন্নতি দান করে।

এ জাতীয় আরও সংবাদ

Back to top button