চলো জানি খুটিনাটিঃ পর্বঃ৩২- কচুরিপানা

[পঞ্চম শ্রেণির প্রাথমিক বিজ্ঞান বইয়ের প্রথম অধ্যায়ে কচুরিপানার উল্লেখ আছে]

কচুরিপানা (Water Hyacinth) আইকরনিয়া গণের এক ধরনের মুক্তভাবে ভাসমান বহুবর্ষজীবী জলজ উদ্ভিদ। এর বৈজ্ঞানিক নাম Eichhornia crassipes। আদি নিবাস দক্ষিণ আমেরিকা।

পুরু, চকচকে ও ডিম্বাকৃতির পাতাবিশিষ্ট কচুরিপানা পানির উপরিপৃষ্ঠের ওপর এক মিটার পর্যন্ত বাড়তে পারে। এর কাণ্ড থেকে দীর্ঘ, তন্তুময় বেগুনি-কালো বর্ণের মূল বের হয়। একটি পুষ্পবৃন্ত থেকে ৮-১৫টি আকর্ষণীয় ছয় পাপড়িবিশিষ্ট ফুলের থোকা তৈরি হয়। কচুরিপানা খুব দ্রুত বংশবিস্তার করতে পারে। এটি প্রচুর পরিমাণে বীজ তৈরি করে, যা ৩০ বছর পরও অঙ্কুরোদগম ঘটাতে পারে। এরা রাতারাতি বংশবৃদ্ধি করে এবং প্রায় দুই সপ্তাহে দ্বিগুণ হয়ে যায়।

ধারণা করা হয়, অর্কিডসদৃশ কচুরিপানার ফুলের সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হয়ে এক ব্রাজিলীয় পর্যটক অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষভাগে বাংলায় কচুরিপানা নিয়ে আসেন। এরপর তা এত দ্রুত বাড়তে থাকে যে ১৯২০ সালের মধ্যে বাংলার প্রায় প্রতিটি জলাশয় কচুরিপানায় ভরে যায়। নদ-নদীতে চলাচল দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে। পাশাপাশি জলাভূমির ফসল আমন ধান আর পাট চাষ অসম্ভব হয়ে পড়ে। ফলে বাংলার অর্থনীতিতে স্থবিরতা দেখা দেয়।

এমন পরিস্থিতিতে ১৯৩৬ সালে কচুরিপানা আইন জারি করা হয়, যার মাধ্যমে বাড়ির আশপাশে কচুরিপানা রাখা নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়। পাশাপাশি সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত কচুরিপানা পরিষ্কার অভিযানে অংশ নেওয়াকে নাগরিক কর্তব্য ঘোষণা করা হয়। ১৯৪৭-এর মধ্যে বাংলার জলাশয়গুলো কচুরিপানাবদ্ধতা থেকে মুক্তিলাভে সক্ষম হলেও এখনো বাংলার জলাশয়ে কচুরিপানা প্রায়ই দেখা যায়।

কচুরিপানা আমাদের বেশ কিছু উপকারও করে থাকে। এটি এখন প্রধানত সার হিসেবেই অধিক ব্যবহৃত হয়। বর্ষাকালে বন্যা আক্রান্ত অঞ্চলে গবাদি পশুর খাদ্য জোগায়। হাওরাঞ্চলসংলগ্ন এলাকায় বাঁশ দিয়ে আটকে রেখে ঢেউয়ের আঘাত থেকে ভিটামাটি রক্ষায় ব্যবহৃত হয়। এ ছাড়া পানিতে স্তূপীকৃত পচা কচুরিপানার ওপরে ভাসমানভাবে নানা রকম শাক-সবজিও ফলানো যায়। ফলে ভূমিহীন চাষিরা পানিতে ভাসমান কচুরিপানার স্তূপগুলোকে কৃষিকাজে ব্যবহার করে।

এ জাতীয় আরও সংবাদ

Back to top button