চলো জানি খুটিনাটিঃ পর্বঃ৩৩-শৈত্যপ্রবাহ

[নবম-দশম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ের একাদশ অধ্যায়ে শৈত্যপ্রবাহের উল্লেখ আছে]

২৪ ঘণ্টা সময়ের মধ্যে বাতাসের তাপমাত্রা দ্রুততার সঙ্গে নেমে যাওয়াকেই শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়। এটি আবহাওয়াসংক্রান্ত শব্দগুচ্ছ। শৈত্যপ্রবাহ মানে হচ্ছে কোনো স্থানের বায়ুুর তাপমাত্রার নিম্নগামিতাকে নির্দেশ করা। শৈত্যপ্রবাহ হলে কুয়াশার প্রকোপ বেড়ে যায়, শস্য উৎপাদন ব্যাহত হয়, ফসলের নতুন চারা মরে যায়, বোরো ধান ও অন্যান্য শস্য চাষের জন্য প্রথমে যে বীজতলা তৈরি করতে হয় সেগুলো অধিক ঠাণ্ডায় নষ্ট হয়ে যায়, যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হয়, ঠাণ্ডাজনিত রোগ বেড়ে যায় এবং এর ফলে প্রাণহানি ঘটে। সাধারণত বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি, বাতাসের একটানা বাধাহীন শীতল প্রবাহ এবং জলবায়ুগত পরিবর্তনের ফলে শৈত্যপ্রবাহ দেখা দেয়।

আমাদের দেশের ওপর দিয়ে উত্তরের শুষ্ক ও শীতল বায়ু প্রবাহের ফলে শীতকালে তাপমাত্রা কখনো কখনো অস্বাভাবিকভাবে কমে গিয়ে শৈত্যপ্রবাহের সৃষ্টি করে। যেমন—আমাদের দেশে ঢাকায় শীতকালে সাধারণত গড়ে তাপমাত্রা থাকে ১০ থেকে ১২ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড। সেই তাপমাত্রা যদি ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে হঠাৎ কমে ৮ থেকে ৯ ডিগ্রি হয়ে যায়, তখন আমরা তাকে শৈত্যপ্রবাহ বলি।

আন্তর্জাতিকভাবে পৃথিবীর সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড আছে অ্যান্টার্কটিকার ভোস্টক স্টেশনের। ১৯৮৩ সালের ২১ জুলাই সেখানকার তাপমাত্রা এই রেকর্ড গড়ে। তখন সেখানকার তাপমাত্রা ছিল মাইনাস ৮৯.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রেকর্ড অনুযায়ী এটিই বিশ্বের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।

বাংলাদেশের ইতিহাসে শৈত্যপ্রবাহে সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড পাওয়া যায় পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়। ২০১৮ সালের ৭ জানুয়ারি সকালে সেখানে ব্যারোমিটারে তাপমাত্রা ছিল ২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা ৭০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। সে সময় দেশের উত্তরে কয়েক দিন ধরে চলা তীব্র শৈত্যপ্রবাহ এদিন আরো মারাত্মক আকার ধারণ করে। নীলফামারীর সৈয়দপুরেও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ২.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

বাংলাদেশে ২০১৮-এর আগে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৯৬৮ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি সিলেটের শ্রীমঙ্গলে ২.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটাই এত দিন ছিল দেশে সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড। আর ঢাকায় ১৯৫৩ সালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৪.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এ জাতীয় আরও সংবাদ

Back to top button