তবে মেসির ঠিকানা কোথায় হবে এবার?

এর মধ্য দিয়ে বার্সার সঙ্গে দীর্ঘ ২১ বছরের সম্পর্ক ছিন্ন হচ্ছে মেসির। প্রতিভায় মুগ্ধ হয়ে ২০০০ সালে তাঁকে ন্যাপকিনে সই করিয়েছিলেন বার্সার তখনকার মূল দলের পরিচালক কার্লেস রেক্সাস। বাকিটা ইতিহাস এবং সোনার অক্ষরে লেখা সেই ইতিহাস সবারই জানা। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম জানিয়েছিল, ৪৩০ মিলিয়ন ইউরোয় মেসিকে পাঁচ বছর মেয়াদে নিতে চায় ম্যানচেস্টার সিটি। পেট্রোডলারসমৃদ্ধ ক্লাব হওয়ায় মেসির বেতন দেওয়ার সামর্থ্য রয়েছে ইংলিশ ক্লাবটির।

এ তালিকায় সবার আগে রয়েছে ফ্রান্সের ক্লাব প্যারিস সেইন্ট জার্মেইর (প্যারিস সেইন্ট জার্মেই) নাম। বার্সার  সঙ্গে চুক্তি না হওয়ায় এখন নিজের পছন্দমতো পারিশ্রমিক ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করে পিএসজিতেই যোগ দিতে পারেন মেসি। যেখানে তিনি সতীর্থ হিসেবে পাবেন বার্সেলোনার সাবেক সতীর্থ নেইমার জুনিয়র এবং আর্জেন্টিনার তারকা ফরোয়ার্ড অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়াকে। ফরাসি তরুণ কাইলিয়ান এমবাপের পিএসজি ছাড়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি, তাই মেসির মতো বড় তারকাকে দলে ভেড়ানোর ইচ্ছা প্রবল ক্লাবটির। দলের চেয়ারম্যান নাসের আল খেলাইফি নিজেও অনেক বেশি আগ্রহ দেখিয়েছেন মেসিকে নেয়ার ব্যাপারে। গত মৌসুম শেষে মেসি বার্সা ছাড়ার ইচ্ছার কথা জানানোর পর পিএসজির নামটা আগেভাগে উঠে এসেছিল।

পিএসজির পরই আসছে ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটির নাম। কেননা গতবছর মেসিকে কেনার জন্য ৭০০ মিলিয়ন ইউরো পর্যন্ত খরচ করার আগ্রহ দেখিয়েছিল তারা। কিন্তু বার্সেলোনার সঙ্গে আইনি ঝামেলায় জড়াতে হবে বিধায় তখন এ বিষয়ে আগাননি মেসি। এবার আর বার্সেলোনার সঙ্গে চুক্তিসংক্রান্ত কোনো ঝামেলা নেই মেসির। তবে আর্থিক দিক থেকে খানিক পিছিয়ে গেছে ম্যান সিটি। কারণ সম্প্রতি ১১৮ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে অ্যাস্টন ভিলা থেকে জ্যাক গ্রিলিশকে দলে নিয়েছে তারা। তাই হয়তো আগের মতো বিশাল অঙ্কের প্রস্তাব তারা দিতে পারবে না।

তবে বার্নার্দো সিলভা ও রিয়াদ মাহরেজকে বিক্রি করে মেসির জন্য অর্থের ব্যবস্থা করার চেষ্টায় রয়েছে ম্যান সিটি। এছাড়া দলটিতে কোচ হিসেবে রয়েছেন মেসি সাবেক গুরু পেপ গার্দিওলা। যার অধীনে সর্বোচ্চ সাফল্য পেয়েছিলেন মেসি। তাই তার ম্যান সিটিতে যোগ দেয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না।

গত বছরের আগস্টে জানা গিয়েছিল, ইন্টার মিলানের ৭০ শতাংশ শেয়ারের মালিক চীনের ইলেকট্রিক পণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সানিং মেসিকে কেনার জন্য স্পনসর খুঁজছে।এ নিয়ে নাকি চীনের সরকারের কাছ থেকে তারা সবুজ সংকেতও পেয়েছিল। তবে ইন্টার মিলানের সহসভাপতি হাভিয়ের জানেত্তি তখন এই গুঞ্জন অস্বীকার করেছিলেন।

গত জুনের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের মেজর সকার লিগের দল ইন্টার মিয়ামির মালিক ডেভিড বেকহামের সঙ্গে কথা বলেন মেসি। তখন জার্মান সংবাদমাধ্যম ‘কিকার’ জানিয়েছিল, বার্সায় চুক্তির মেয়াদ শেষে ক্যারিয়ারের বাকি সময় ইন্টার মিয়ামিতে শেষ করতে পারেন মেসি।

বেকহাম তখন বলেছিলেন, ‘মেসির ইন্টার মিয়ামিতে খেলার ব্যাপারে আমি আশাবাদী।’ এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় বাড়িও কিনেছেন মেসি। তখন গুঞ্জন বের হয়, ইন্টার মিয়ামিতে ক্যারিয়ার শেষ করার পরিকল্পনায় যুক্তরাষ্ট্রে থাকার জায়গাটা আগেই ঠিক করেছেন তিনি।

এ জাতীয় আরও সংবাদ

Back to top button