নওগাঁয় করোনায় মৃত্যু ব্যাক্তির দাফনে কাজ করছে পুলিশ!

“Paths of glory lead but to the grave..” Tomas Gray
করোনার এই ক্রান্তিলগ্নে নতুন মাত্রা সংযোজিত হচ্ছে সামাজিক সম্পর্কগুলোর ক্ষেত্রে। স্বজন বঞ্চিত মৃতদেহগুলো পাচ্ছেনা শেষ সমাদর৷ দায় নিতে ঘরের মানুষের “থোরাই কেয়ার” এখন! এমনি একটি দৃষ্টান্ত দেখা গেলো নওগাঁ জেলাতেও ৷ তবে শেষ সমাদরটুকু এলো অন্য এক পরিবার থেকে ৷ যে পরিবারের নাম পুলিশ পরিবার।

কোনো অজানা মৃতদেহ সৎকার পুলিশের দায়িত্বে পরে কিনা তা নিয়ে বাক্যালাপ হতেই পারে, তবে দায়িত্বের বাইরে যেয়ে মৃতব্যক্তির দাফনকাজ সম্পন্নকরার জন্য কোন বাধাই পিছু হটাতে পারেনি অদম্য পুলিশ সদস্যদের।
নওগাঁ জেলার বদলগাছী থানার মেয়ে নাসিমা বেগম। পোশাক কারখানার শ্রমিকের কাজ করেন।ঈদের ছুটিতে গ্রামের বাড়িতে আসেন। এরপর জ্বর ও সর্দি নিয়ে গত ২৩ মে নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। অবস্থার অবনতি হলে ৩১ মে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখান থেকে বগুড়ার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে রাত সাড়ে ৯টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় জ্বর, সর্দি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে নাসিমা বেগমের মৃত্যু হয়।


করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়ার কথা জানার পর থেকে নওগাঁ জেলা পুলিশ সম্ভাব্য বাধার কথা চিন্তা করে রাত্রি থেকেই বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করতে থাকে। ইসলামিক ফাউণ্ডেশন, স্থানীয় প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করেন অফিসার ইন চার্জ বদলগাছী থানা। পরবর্তীতে নিহতের মরদেহ রাত ৩ টার দিকে গ্রামে নিয়ে আসা হলে গ্রামবাসী বিভিন্নভাবে বাধা প্রদান করেন। পুলিশের সহযোগীতায় লাশ গ্রামে প্রবেশ করলেও লাশ দাফন নিয়ে শুরু হয় নানা বিপত্তি। নওগাঁ জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার প্রকৌশলী জনাব আবদুল মান্নান মিয়া বিপিএম মহোদয়ের সার্বিক দিকনির্দেশনায় বদলগাছী থানা পুলিশ নানাভাবে গ্রামবাসীদের বোঝানোর চেষ্টা করে।

নিহতের বাবার বাড়িভিটা ছাড়া আর কোন জমি নেই, এমনকি ঐ ইউনিয়নে কোন সরকারি কবরস্থানও নেই। নিহতের মামার জায়গা থাকলেও তা দিতে অস্বীকৃতি জানান তারা। যখন কিছুতেই জায়গা পাওয়া যাচ্ছিলো না তখন নওগাঁ জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জায়গা কিনে লাশ দাফনের প্রস্তাব দেয়া হয় গ্রামবাসীর কাছে।

কিন্তু এলাকাবাসী তাতেও রাজী হননি। এরপর বাধ্য হয়েই বিকল্প জায়গা হিসেবে সরকারি জমিতে কবর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু কবর খুঁড়তে যে কোদাল ও সরঞ্জাম দরকার গ্রামবাসীরা তা দিতেও নারাজ। কোন সম্পর্কই যখন এগিয়ে এলো না তখন বদলগাছী থানার এস আই আরিফুল ইসলামের নেতৃত্বে ইসলামিক ফাউণ্ডেশনের প্রতিনিধিদের সাথে নিয়ে পুলিশ সদস্যরাই কবর খুঁড়ে লাশটি নদীর ধারে কবর দেয়ার ব্যবস্থা করলেন।

এ জাতীয় আরও সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button