নাসিক মেয়র আইভির কে কাউন্সিলর দুলাল প্রধানের কঠোর হুশিয়ারি

সিটি মেয়র সেলিনা আয়াত আইভীর বক্তব্য নিয়ে বন্দরের সর্বত্র আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় বইছে। আইভী আওয়ামীলীগ করে এবং নৌকা প্রতীক নিয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। অথচও আপনার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন মিস্টার ওসমান বেশি কথা বলবেন না। আপনি নিজে চিন্তা করে দেখেন কোন মঞ্চে বসে বক্তব্যে দিয়েছেন। আপনার চেয়ারের পাশে আওয়ামীলীগের কেউ নাই।

বিএনপির মহানগর নেতা কাউন্সিলর হান্নান সরকার, কাউন্সিলর সুলতান আহম্মেদ, আফরোজা আক্তার বিভাসহ চারপাশে বিএনপির নেতাকর্মীদের দ্বারা বেষ্টিত। আপনি কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নৌকা প্রতীক নিয়ে মেয়র হয়েছেন। ২০১৬ সালের ২২ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হয়েছেন। সিটি নির্বাচনে কোন প্রকার উত্তাপ ছিল না।

প্রভাবশালী সাংসদ শামীম ওসমান সাংবাদিক সম্মেলন করে নৌকা প্রতীকের পক্ষে কাজ করার ঘোষনা দেন। তার ঘন্টা না যেতেই সর্বত্র আপনাকে নিয়ে ওর্য়াডে ওর্য়াডে নৌকার শ্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠে। ওই সময় বর্তমানে আপনার চারপাশে থাকা বিএনপির উনারা কিন্তু নৌকার ভোট চাইনি। বিএনপির প্রার্থী এড. শাখাওয়াত হোসেনের পক্ষে ভোট চেয়েছিলেন। যা আপনি নিজেও জানেন। কিন্তু তারপরও আপনার মুখে শুধু ওসমান পরিবার বিরেধীচারন। কেন, আপনার জানতে হবে ওসমান পরিবার আছে বলে না’গঞ্জে আওয়ামীলীগের রাজনীতি চাঙ্গা আর বিএনপির উনারা আপনার আশ্রয়ে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে।


মহানগর সেচ্ছাসেবকলীগের সাধারন সম্পাদক ও নাসিক ২৩ নং ওর্য়াডের নির্বাচিত দুই বারের কাউন্সিলর সাইফুদ্দিন আহমেদ দুলাল প্রধান তার বক্তব্যের তীব্র নিন্দা আর প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, সাংসদ সেলিম ওসমানের প্রতি হঁশিয়ারি উচ্চারণ করে মেয়র আইভী আরো বলেন , মিস্টার ওসমান, বেশি কথা বলবেন না। বাজে কথা বলা বন্ধ করেন। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নিয়ে অনেক কথা বলেছেন। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে কথা বলার আপনি কে? আপনিতো করেন অন্যদল। আওয়ামী লীগের প্রার্থী নিয়ে কথা বলার আপনি কে? আমাকে কথা বলা বন্ধ করার হুমকি দেন! ধমকে ভয় পাওয়ার মানুষ আমি নই। মেয়র আইভী আরো বলেন, আমাকে কেন ক্ষমা চাইতে হবে? ক্ষমা চাইবেনতো আপনারা। মানুষ মেরেছেন আপনারা। বহু অপকর্ম করে বেড়াচ্ছেন। ক্ষমা চেয়ে মানুষের কাতারে আসেন। নয়তো পালানোর পথ পাবেন না।


একজন সংসদ সদস্য তার নির্বাচনী এলাকা নিয়ে কথা বলবে না। তাহলে কে বলবে আপনি না আপনার চারপাশে থাকা বিএনপির লোকজন। সাংসদ সেলিম ওসমানের মত একজন দানশীল ব্যাক্তিকে বলেন মানুষ মেরেছেন আপনারা। বহু অপকর্ম করেছেন। ক্ষমা চেয়ে মানুষের কাতারে আসেন। নয়তো পালানোর পথ পাবেন না। সামনে আবারো সিটি নির্বাচন দেখবো দল আপনাকে নমিনেশন দিলে বিএনপির গুলো আপনার ভোট চাইবে নাকি ওসমান পরিবার বলয়ের লাখ লাখ নেতাকর্মী।


উল্লেখ্য যে, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডাঃ সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার র্নিদেশে বন্দরে ২১ নং ওয়ার্ডে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স, মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরনে সড়ক ও সোনাকান্দা বালক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নির্মান কাজের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করা হচ্ছে। সাধারন পাঠাগার কমিটিতে যারা ছিলেন আমি সকলের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আমি আপনাদের সাথে মিটিং করেছি। আপনারা বলেছেন এখানে একটি মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স করা হোক। পাঠাগার হোক। আমি কোন ব্যাক্তির নামে নয় আমি মুক্তিযোদ্ধার নামে রাস্তা ঘাট করে দিয়েছি। কিছু কিছু কাজ বাকি আছে আশা করি এগুলো অচিরেই হযে যাবে।


মেয়র আইভ আরো বলেন, নারায়ণগঞ্জে বিশাল একটি প্রতিপক্ষ রয়েছে। সেটি আবার আমার দলেরেই। তারা কর্মী সভার নামে গিবত মঞ্চ তৈরি করেছে। যারা বড় বড় কথা বলে তারা সবাই ঢাকা থাকে। আমার ঢাকায় কোন বাড়ি বা ফ্লাট নেই। ২ বছর আগে মেরে ফেলতে চেয়েছেন। মহান আল্লাহ ও মা বাবার দোয়ায় বেঁচে আছি। ৪০ বছর ধরে নারায়ণগঞ্জ লুটপাট করছেন। আপনাদের ভয়ে মুক্তিযোদ্ধারও কথা বলতে পারে না। গতকাল শনিবার বিকেলে বন্দর ২১ নং ওয়ার্ডে প্রাথমিক বিদ্যালয় স্কুল, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লে¬ক্সের ভিত্তি প্রস্তর ও মুক্তিযোদ্ধা সড়ক উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।


সাংসদ সেলিম ওসমানের প্রতি হঁশিয়ারি উচ্চারণ করে মেয়র আইভী আরো বলেন , মিস্টার ওসমান, বেশি কথা বলবেন না। বাজে কথা বলা বন্ধ করেন। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নিয়ে অনেক কথা বলেছেন। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে কথা বলার আপনি কে? আপনিতো করেন অন্যদল। আওয়ামী লীগের প্রার্থী নিয়ে কথা বলার আপনি কে? আমাকে কথা বলা বন্ধ করার হুমকি দেন! ধমকে ভয় পাওয়ার মানুষ আমি নই। মেয়র আইভী আরো বলেন, আমাকে কেন ক্ষমা চাইতে হবে? ক্ষমা চাইবেনতো আপনারা। মানুষ মেরেছেন আপনারা। বহু অপকর্ম করে বেড়াচ্ছেন। ক্ষমা চেয়ে মানুষের কাতারে আসেন। নয়তো পালানোর পথ পাবেন না।


নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ২১ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আলহাজ¦ হান্নান সরকারের সভাপতিত্বে ভিত্তি প্রস্তর অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের বন্দর থানা ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার বীরমুক্তিযোদ্ধা মোঃ আব্দুল লতিফ, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের বন্দর থানা ভারপ্রাপ্ত ডেপুটি কমান্ডার বীরমুক্তিযোদ্ধা আলহাজ¦ কাজী নাসির।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র বিভা হাসান, জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ¦ আবু সুফিয়ান, ১৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আলহাজ¦ ফয়সাল মোহাম্মদ সাগর,২২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সুলতান আহাম্মেদ, ২২,২৩ ও ২৪ নং ওয়ার্ডের মহিলা কাউন্সিলর শাওন অংকন প্রমুখ। ভিত্তি প্রস্তর অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বীরমুক্তিযোদ্ধা জব্বার সরদার, বীরমুক্তিযোদ্দা জালাল উদ্দিন জালু, বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুল আজিজসহ স্থানীয় এলাকার গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ।

এ জাতীয় আরও সংবাদ

Back to top button