নাসিক ২২নং ওয়ার্ডে ক্ষমতাসীনদের ৩ প্রার্থীর মধ্যে আলোচনায় সবার মুখে মুখে খান মাসুদের নাম

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে সাধারন ভেটারদের উৎসাহ ততই বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে নাসিক ২২নং ওয়ার্ডে ক্ষমতাসীণ দলের ৩জন প্রার্থীর মধ্যে রয়েছে মহানগর মহিলা আ’লীগ সভাপতি ইসরাত জাহান খান স্মৃতি,কদম রসুল পৌর যুবলীগের সাধারন সম্পাদক কাজী জহিরুল ইসলাম ও বন্দর থানা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খান মাসুদ।

এদের ৩জনের ব্যক্তি ইমেজ ও জনপ্রতিনিধি হলে এরা জনগনের জন্য কতটুকু সুফল বয়ে আনবে এ নিয়ে চলছে নানা হিসেব নিকেশ। তবে ক্ষমতাসীণ দলের উর্ধ্বতন নেতারা ইদানিং বলেছেন দলীয় কর্মকান্ডে যারা সরব ছিল,দলের দূর্দিনে যারা ত্যাগ স্বীকার করেছেন,দেশের প্রাকৃতিক দূর্যোগে যারা জনবান্ধব ছিলেন একমাত্র সেই ব্যাক্তিদেরই দল মূল্যায়ণ করবে। ক্ষমতাশীন দলের এই ৩প্রার্থীই ওসমান পরিবারের বলয়ে রাজনীতি করেন। এক্ষত্রে মাঠ পর্যায়ে হিসেব নিকেশ করলে এই ৩জন প্রার্থীর মধ্যে জনসমর্থনে এগিয়ে রয়েছেন বন্দর থানা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খান মাসুদ। দীর্ঘদিন থেকেই খান মাসুদ মাঠে সক্রীয় রয়েছেন। নাসিক ২২নং ওয়ার্ডে এবার তার নিজস্ব ভোট ব্যংকও রয়েছে।

তথ্যমতে,নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ২২নং ওয়ার্ডে ক্ষমতাসীন দলের মধ্যে মহানগর মহিলা আ’লীগ সভাপতি ইসরাত জাহান খান স্মৃতি ফতুল্লা-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমানের অনুগামী। দীর্ঘদিন ধরে সে ওসমান পরিবারের রাজনীতি করে আসছে। গত নির্বাচনে সংরক্ষিত আসনে ২২,২৩ ও ২৪নং ওয়ার্ডে নতুন এক প্রার্থী শাওন অংকনের সাথে বিপুল ভোটে ধরাশায়ী হয়। এবার তিনি সাধারন পদে প্রতিদ্বন্দীতা করবেন। কিন্তু এখনও তার কোন প্রচার প্রচারনা দেখা যাচ্ছেনা। তিনি এবার দলীয় সমর্থনের অপেক্ষায় রয়েছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।

অপরদিকে কদম রসুল পৌর যুবলীগের সাধারন সম্পাদক কাজী জহিরুল ইসলাম সেও ওসমান পরিবারের অনুসারী। এমপি শামীম ওসমানের কর্মী মহানগর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন সাজনু বলয়ের। দলীয় সমর্থণ পেতে সে ইতিমধ্যে দৌড়ঝাপ শুরু করছে। প্রতিদিনই সে স্থানীয় ওয়ার্ডে বিভিন্ন মসজিদ ও মন্দিরে সালাম আদাব দিচ্ছে।

এদিকে ক্ষমতাসীন দলের ২২নং ওয়ার্ডেও আরেক প্রার্থী খান মাসুদ। সে পূর্বের কমিটি বন্দর থানা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। সেও এমপি শামীম ওসমানের অনুগামী ও ওসমান পরিবারের রাজনীতি করছে। দীর্ঘদিন ধরে কমিটি না হওয়ায় সে বর্তমানে যুবলীগের ব্যানারে রাজনীতি করছে। একেএম শামীম ওসমানের শ্যালক ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এহসানুল হাসান নিপুর আস্থাভাজন। খান মাসুদ দীর্ঘদিন ধরে দলের নিবেদিত প্রান হয়ে মাঠে কাজ করছেন। করোনা সংক্রমনকালেও তিনি নিজস্ব অর্থায়নে রাতের আধারে দূস্থ্য মানুষের বাড়ি বাড়ি খাবার পৌছে দিয়েছেন। শ্রমিকদের সমস্যা সহজেই নিরসন করেছেন। কোন শ্রমিক মারা গেলে নিজ উদ্যোগে দাফনের ব্যবস্থাসহ নানা উন্নয়ণমুলক কাজ করেছেন। তিনি এবার ২২নং ওয়ার্ডে নির্বাচনী মাঠ জরিপে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন। নির্বাচনী আলোচনায় সবার মুখে মুখে খান মাসুদের নাম।

সচেতন মহলের মতে,নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ভোটার হচ্ছে প্রায় ২৩হাজার। এদের মধ্যে পুরুষ ভোটার অপেক্ষা নারী ভোটার বেশি। বিগত করোনা সংক্রমনকালে ২২নং ওয়ার্ডে ঘরবন্ধী সাধারন মানুষের মাঝে যখন খাদ্যের হাহাকার ছিল। যখন মানুষ দৈন্যদশায় ছিল তখন যারা মানুষের প্রতি নিবেদিত ছিল সেই ব্যাক্তিকেই এবার মানুষ মূল্যায়িত করবে। অঢেল সম্পদের মালিক অথচ মানুষের দূর্দিনে খুজে পাওয়া যায়না,বদমেজাজী, অহংকারী এমন কাউকে এবার জনগন ভোট দিবেনা। দলীয় পরিচয় পুজি করে প্রার্থী হলেই জনগন আপনাকে ভোট দিবে এটা চিন্তা করা বুকামী। কে ভাইয়ের লোক কিংবা বোনের লোক এগুলো দেখে এবার জনগন ব্যালট ভর্তি করবেনা। যারা জনগনের কাছাকাছি থেকে বিপদে কাছে পেয়েছে সেই প্রার্থি যাচাই করে এবার ভোট প্রয়োগ করবে।

নাসিক ২২নং ওয়ার্ডের এক ভোটার বলেন,নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে ২২নং ওয়ার্ডে এখন প্রার্থীদের ছড়াছড়ি। নির্বাচন এলেই ভোটারদের কদর বাড়ে। তবে এবারের নির্বাচনে আমরা খান মাসুদকে জনপ্রতিনিধি হিসেবে চাই। কেননা,করোনার সময়ে রাতের আধারে বাড়ি বাড়ি গিয়ে যে ব্যাক্তি আমাদের আহারের ব্যবস্থা করেছে,যাকে সব সময়ই কোন সমস্যায় পড়লে কাছে পাই তাকেই আমরা এবার নির্বাচিত করব। ভাল-মন্দ তো অনেক দেখলাম। বিপদেই বন্ধুর পরিচয়। নির্বাচন এলেই সবাই জনপ্রতিনিধি হতে চায়। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে আসে। নির্বাচন চলে গেলে কেউ খবরও রাখেনা। তবে খান মাসুদ তরুন হলেও সে সব সময় মানুষের দূর্দিনে পাশে দাড়ায়। এবার আমরা এমন তরুন একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে পেতে চাই।

এ জাতীয় আরও সংবাদ

Back to top button