নুরুলের ব্যাটিংএ হতাশ ডমিঙ্গো

চট্টগ্রাম টেস্টের চতুর্থ দিন শেষে বাংলাদেশ এখন হারের মুখে। জয়ের জন্য আগামীকাল পঞ্চম দিনে পাকিস্তানের প্রয়োজন ৯৩ রান। দ্বিতীয় ইনিংসের ব্যাটিং ব্যর্থতাই টাইগারদের ডুবিয়েছে।

এক লিটন দাস ছাড়া আর কেউ রুখে দাঁড়াতে পারেননি। ইয়াসির আলীর কনকাশন সাব হিসেবে ব্যাটিংয়ে নামা নুরুল হাসান সোহানের আউটটা (১৫) ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় বলে মনে করছেন অনেকে।

স্কোরবোর্ড তখন দেখাচ্ছে বাংলাদেশ এগিয়ে আছে ১৯৭ রানে। লিটন দাসের সঙ্গে তখন ব্যাটিং করছেন ইয়াসির আলীর বদলি নুরুল হাসান।

 লং অন সীমানায় ফিল্ডার থাকার পরও অফ স্পিনার সাজিদ খানকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে সীমনায় ধরা পড়েন।

সোহানের এমন কাণ্ডে হতাশ দেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা। স্রেফ একটি শট হয়তো একটি দিন বা একটি ম্যাচের নিয়ামক হয় না। তবু দিনশেষে প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গোও তার শিষ্যের এমন কাণ্ডে হতাশ গোপন করেননি। ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে ডমিঙ্গো বলেন, ‘কখনোই আমি মিডিয়ায় ক্রিকেটারদের সমালোচনা করব না।

তবে ওই সময়টায় আমরা কিছুটা মোমেন্টাম পেতে শুরু করেছিলাম। ৬ উইকেট হারিয়ে ১৯৬ রানে এগিয়ে ছিলাম। ওই জুটি আর ৪০-৫০ রান করতে পারলে পাকিস্তানকে চাপে রাখা যেত।’

মোটামুটি একটা জুটি দাঁড়িয়েছে, দুজনই উইকেটে থিতু। হাতে চার উইকেট, একটু দৃঢ়তার সঙ্গে ব্যাটিং করলে লিডটাকে আড়াই শর আশপাশে নিয়ে যাওয়া খুবই সম্ভব।

কিন্তু এমন একটা সময়ে নুরুল হাসানের মাথায় কী খেলে ছিল, কে জানে। অফ স্পিনার সাজিদ খানের নির্বিষ এক বলে এগিয়ে এসে তুলে মারলেন। লং অনে দাঁড়িয়ে সেটি সহজেই ধরে নিলেন পাকিস্তানি ফিল্ডার।

ম্যাচের ওই পরিস্থিতিতে নুরুলের অমন শট খেলার ক্রিকেটীয় যুক্তি খুঁজে বের করাটা খুবই কঠিন। নুরুল হয়তো নিজেও আউট হওয়ার ওই শটটির ভিডিও ফুটেজ আর কোনো দিনই দেখতে চাইবেন না।

প্রতিটি ম্যাচ হারের পর ‘ভুল থেকে শিক্ষা’ নেওয়ার মুখস্ত বুলি শোনা যায়। ডমিঙ্গোর আশা, এই ভুল আর দুইবার করবেন না সোহান, ‘সোহানকে যদি জিজ্ঞেস করা হয়, “এই বলে তুমি কি করবে?” আমি নিশ্চিত, সে আর এই শট খেলবে না। অবশ্যই সে নিজেকে হতাশা করেছে ওই সময়ে ওই শট খেলে।

আমরা ওই সময় ম্যাচে এগিয়ে ছিলাম। ১৯৬ রানে এগিয়ে ছিলাম, দুজন থিতু ব্যাটসম্যানকে নিয়ে ভালো অবস্থায় ছিলাম আমরা। এভাবে আউট হয়ে সে নিজেকে ও দলকে হতাশ করেছে।’

আউট হওয়ার আগে ভালোই খেলছিলেন নুরুল হাসান

এরপর বাংলাদেশের লিডে যোগ হয়েছে মাত্র ৪ রান। পাকিস্তানও ২০২ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নামার সুযোগ পেল ব্যাটিংয়ের জন্য দিনের সবচেয়ে আদর্শ সময়ে।

ম্যাচের মোড় ঘুরে যাওয়া মুহূর্তে ভিলেন বনে যাওয়া নুরুলের সমালোচনা করেছেন দলের প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গোও।

আজ দিনের খেলা শেষে অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, ‘আপনি যদি সোহানকে (নুরুল) জিজ্ঞেস করেন, এমন বলে তুমি কোন শট খেলতে চাও? সে আজ যে শট খেলেছে, নিশ্চয়ই সেই শটটা খেলবে না। সে নিজেকে ও তার দলকে ওই শটটা খেলে হতাশ করেছে। এতে কোনো সন্দেহ নেই।’

ম্যাচের অবস্থার কারণেই হয়তো নুরুলের ওপর চটেছেন ডমিঙ্গো। তিনি বলছিলেন, ‘আমি ক্রিকেটারদের সমালোচনা মিডিয়ার সামনে করতে চাই না। আমরা আজ ভালোই ছন্দে ছিলাম। মনে হচ্ছিল আমরা এগিয়েই আছি। ১৯৭ রানের লিড, হাতে চার উইকেট, দুজন ব্যাটসম্যান ভালো করছিল। আমরা যদি তখন জুটি গড়ে ৪০-৫০ রান যোগ করতে পারতাম, তাহলে পাকিস্তান চাপে থাকত। তাদের হয়তো ব্যাট করতে হতো দিনের খেলা শেষ হওয়ার ঘণ্টাখানেক আগে।’

চতুর্থ দিনের খেলা শেষে মাঠ ছাড়ছেন বাংলাদেশের লিটন দাস ও পাকিস্তানের আবিদ আলী

কিন্তু বাংলাদেশ দলের প্রত্যাশামতো এগোয়নি চট্টগ্রাম টেস্ট। মাত্র ২০২ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে পাকিস্তান আজকের দিন শেষ করেছে কোনো উইকেট না হারিয়ে ১০৯ রান করে। প্রথম ইনিংসের মতো দ্বিতীয় ইনিংসেও আবিদ আলী ও আবদুল্লাহ শফিক জোড়া অর্ধশতক করে পাকিস্তানের দাপুটে জয়ের চোখ রাঙানি দিচ্ছেন।

তবে নিবু নিবু হলেও আশার প্রদীপ জ্বলছে বাংলাদেশ দলের ড্রেসিংরুমে। এখন পর্যন্ত চট্টগ্রাম টেস্টের সিংহভাগ উইকেট পড়েছে সকালের সেশনে। কাল পঞ্চম দিনের খেলায় সকালের সেশনে দ্রুত কিছু উইকেট নিলে হয়তো ম্যাচে ফিরবে বাংলাদেশ।

কোচের আশাটা সে রকমই, ‘দেখা যাচ্ছে যে সব উইকেটই পড়ছে প্রথম সেশনে। ওদের ৯৩ রান দরকার। আমাদের জিততে হলে বিশেষ কিছু করতে হবে। টেস্ট ক্রিকেটে কিন্তু সবকিছুই হতে পারে। আমাদের কাল মাঠে আসতে হবে জেতার বিশ্বাস নিয়ে। যদি এক-দুটি উইকেট নিতে পারি প্রথম আধা ঘণ্টায়, তাহলে যেকোনো কিছুই হতে পারে।’

এ জাতীয় আরও সংবাদ

Back to top button