নৌকার প্রার্থী কে সেটা আমার দেখার বিষয় নয়, আমরা দেখবো নৌকাকে : শামীম ওসমান এমপি

নৌকার প্রার্থী কে সেটা আমার দেখার বিষয় নয়, আমরা দেখবো নৌকাকে। আমরা নৌকা পক্ষে আজ থেকে নামলাম। ১৬ তারিখ খেলা হবে এবং জয় আমরাই হবো।’

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এমন ঘোষণা দিয়েই সোমবার (১০ জানুয়ারি) থেকে মাঠে নামছেন নির্বাচনী এলাকার জনপ্রিয় এমপি একেএম শামীম ওসমান।

তাঁর ভাষ্য, ‘নারায়ণগঞ্জ নৌকার ঘাটি, নারায়ণগঞ্জ শেখ হাসিনার ঘাটি, নারায়ণগঞ্জ বঙ্গবন্ধুর ঘাটি। নারায়ণগঞ্জ মুক্তিযোদ্ধের স্বপক্ষের ঘাটি। এখানে অন্য খেলা, খেলার চেষ্টা করবেন না। কে প্রার্থী এটা আমাদের দেখার বিষয় না। আমাদের দেখার বিষয় একটাই, এটা আমাদের স্বাধীনতার নৌকা, এটা আমার বঙ্গবন্ধুর নৌকা, এটা শেখ হাসিনার নৌকা, এটা আমাদের রক্ত দিয়ে গড়া নৌকা, এটা আমাদের ৪৯ জন লাশের নৌকা, এটা চন্দনশীলের দু’পায়ের বিনিময়ে নৌকা, এটা মনির-পাপ্পুর লাশের উপর গুলির বিনিময়ের নৌকা। আমরা যারা আওয়ামী লীগ করি, তাদের এই নৌকার বাহিরে যাওয়ার সুযোগ নাই।’

এই প্রেস ব্রিফ্রিং জীবনের সবচেয়ে বড় কষ্টের প্রেস কনফারেন্স বলে উল্লেখ করে শামীম ওসমান বলেন, সেদিন আমি কাউকেই অভিযুক্ত করিনি। কবরস্থানে যখন শশ্মানের মাটি দিয়ে ঠেকে দেওয়া হয়েছে, তখন আমি বলে ছিলাম, এটা ইবলিশ ওরুফে শয়তানের কাজ। এটা কোন মানুষ করতে পারে না। কেউ কেউ আমাকে একটা ব্যক্তি বা মহিলার নাম ধরে বলেছিলেন, আপনি কি তাকে, দোষারোপ করছেন? আমি তাকে ধমক দিয়ে বলে ছিলাম। তার নাম কেন বলছেন, সেতো কোন বিষয় না। কারণ আমার বিশ্বাস ছিল। কিন্তু একটা প্রেস বিজ্ঞপ্তি, আমার হৃদয়কে ক্ষতবিক্ষত করে দিয়ে ছিল। মানুষ যদি ভুল করে মাফতো চাইবেই, মানুষের কাছে ক্ষমা চাওয়াও ব্যাপার না। সেখানে আমি এক লোককে বলে ছিলাম চুপ করে হোক, আর যে ভাবেই হক, আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে। ক্ষমা চাওয়াটা যেমন সুন্দর, ক্ষমা করে দেওয়াটা তারচেয়েও বেশি ভালো কাজ।

শামীম ওসমান আরও বলেন, ‘মৃত্যুর ১৫ থেকে ৩০ মিনিট আগে বাবা আমাদের ৩ ভাইকে একজনের হাতে তুলে দিয়েছিলেন। সে হচ্ছে জাতীর পিতার কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, আমার ছেলেরা যদি বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার চাইতে গিয়ে মারা যায়, আমি যেখানেই থাকি, আমি শান্তিতে থাকবো। আমরা সেই পিতার সন্তান, যে বঙ্গবন্ধু পরিবারের জন্য জীবন দেওয়ার জন্য আমার নেত্রী শেখ হাসিনার হাতে তুলে দিয়েছেন। সেখানে আমার অবস্থান নৌকার বাহিরে থাকতে পারে না।’

এসময় শামীম ওসমান বলেন, এখানে আমার প্রেস কনফারেন্স করার কথা না। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে মাত্র ৫ লাখ ১৯ হাজার ভোটার। সেখানে সিটির মাত্র ১০টি ওয়ার্ড আমার নির্বাচনী এলাকায়। পাশেই ফতুল্লার ৩টি ইউনিয়নে আরও ৬ লাখের বেশি ভোটার আছে, আরও দু’টি ইউনিয়ন নিয়ে ভোটার সংখ্যা ৭ লাখের কাছাকাছি। সেখানেও কিছু দিন আগেই নির্বাচন হলো ইভিএমএ। সেই নির্বাচনে আমি গেলামও না, কথাও বললাম না, নির্বাচন হয়ে গেলো, টেরও পেলাম না। কিন্তু সিটি নির্বাচনটা আসলেই কেন জানি একটা সমস্যা হয়ে যাচ্ছে। গরিবের বউ যেমন সবার ভাবী হয়, তেমনই আমার অবস্থা হয়েছে এই। কেউ বলে, আমি উনার, উনিও বলে আমি উনার আবার দু’জন দু’জনকে দিয়ে দিতে চায়। কি এক অবস্থায় আমি আছি। আমি জানি না।

শামীম ওসমান বলেন, আমি একজন সংসদ সদস্য, আইন প্রণেতা। নির্বাচনে নামলে আইন লংঘন হবে। তাই নিয়ম অনুযায়ী, আমি নির্বাচনে আসারও কথা না। কিন্তু আমার না আসা নিয়ে একটি পক্ষ একের পর এক ইস্যু তৈরি করেছেন। আমার দলকে ক্ষতিগ্রস্থ করা হচ্ছে, সে জন্য আমি ভাবলাম, আমার কথা বলা উচিৎ। তাই এই প্রেস কনফারেন্স। আমার জীবনের সবচেয়ে বড় কষ্টের প্রেস কনফারেন্স এটা। আমার জীবনের সবচেয়ে কষ্টদায়ক দিন হয়তো বা এটা। তারপরেও এখানে আসছি, আমার বড় ভাই সেলিম ওসমান আমাকে আপার হাতে আমাদের ৩ ভাইকে তুলে দেওয়ার কথা স্মরণ করিয়ে বলেছেন, এই নৌকা কার? আমি বললাম আপার। এই নৌকা কার? আমি বললাম ‘বঙ্গবন্ধুর’। তিনি বললেন, বাকিটা আপার উপর ছেড়ে দাও। উনি আমাদের অভিভাবক।

এসময় উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহীদ বাদল, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট খোকন সাহা, মহানগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি এড. চন্দনশীল, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. মজিবুর রহমান প্রমুখ।

এ জাতীয় আরও সংবাদ

Back to top button