প্রকৃতি সেজেছে নতুন সাজে, ভ্রমণ পরিকল্পনায় থাকুক সাগরকন্যা কুয়াকাটা

অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি সাগর কন্যা কুয়াকটা (Kuakata Sea Beach) যা পটুয়াখালী জেলায় অবস্থিত। কুয়াকাটা দক্ষিণ এশিয়ায় একটি মাত্র সমুদ্র সৈকত যেখানে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত অবলোকন করা যায়। সমুদ্রের পেট চিরে সূর্য উদয় হওয়া এবং সমুদ্রের বক্ষে সূর্যকে হারিয়া যাওয়ার দৃশ্য অবলোকন করা নিঃসন্দেহে দারুন ব্যপার।বিশ্বময় করোনা নামক মহামারি পাল্টে দিয়েছে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।

অন্য সব দেশের মতো বাংলাদেশের মানুষের জীবনেও সব কিছুতেই যেন বাধা সৃষ্টি করছে করোনা। যাঁরা প্রতিনিয়ত ভ্রমণ করেন, দীর্ঘ লকডাউন তাঁদের যেন বন্দি করে দিয়েছে। স্বাভাবিক পরিস্থিতির অপেক্ষায় রয়েছেন তাঁরা। হয়তো অনেকেই পরিকল্পনা করছেন করোনা-পরবর্তী ভ্রমণের। আপনার সেই ভ্রমণ পরিকল্পনায় থাকুক কুয়াকাটা। কারণ দীর্ঘদিন লকডাউনে থাকায় পর্যটকহীন প্রকৃতি সেজেছে নতুন রূপে। সৈকত কুয়াকাটার রূপ যেন আপনার জন্যই অপেক্ষা করছে। বর্তমানের কুয়াকাটা দেখলে মনে হবে, প্রকৃতি যেন নিজেই সাজিয়েছে তার সৌন্দর্য। প্রকৃতি হয়ে উঠেছে আগের চেয়ে সজীব ও সতেজ।

কল কল ধ্বনিতে সমুদ্রের বুকে এখন শুধু উন্মুক্ত ঢেউয়ের গর্জন। এমন প্রকৃতি উপভোগ করতে কুয়াকাটায় এখন নেই পর্যটক। সৈকত ছাড়াও একাধিক ভ্রমণপ্রিয় স্থান কুয়াকাটা ভ্রমণের উচ্ছ্বাসকে অারো বাড়িয়ে দেয়। ইকোপার্ক, লাল কাঁকড়ার চর, ঝাউবন, লেম্বুর বন, তিন নদীর মোহনা, গঙ্গামতিসহ পাশের স্পটগুলো কুয়াকাটাকে করেছে আরো ভ্রমণপ্রিয়। এ ছাড়া ভ্রমণপিপাসুদের মনের মতো করেই সাজানো হয়েছে ইলিশ পার্ক। ভ্রমণের মধ্য দিয়ে দেখা যাবে জেলেদের জাল-নৌকার খুনসুটি।

দেখতে পাবেন, শুঁটকিপল্লির শ্রমিকদের কঠোর কর্মযজ্ঞ। উন্মুক্ত আকাশের নিচে বসে কাঁকড়া ফ্রাই বা ফিস বারবিকিউ খাওয়ার সুযোগ হবে ভ্রমণের উপরি পাওনা। বিচ সংলগ্ন কুয়াকাটা চৌমাথায় রয়েছে চার শত বছরের ঐতিহাসিক স্বর্ণনির্মিত নৌকা, প্রায় চল্লিশ ফুট দৈর্ঘ্য ও পনের ফুট প্রস্থ। মিশ্রিপাড়া রয়েছে বৃহৎ আকৃতির একটি বুদ্ধমূর্তি। সৈকতের পাশেই রয়েছে একটি রাখাইন পল্লি। আদিবাসী রাখাইনদের জীবনব্যবস্থা, তাদের জীবিকা ও বসতি সম্পর্কে জানার সুযোগ রয়েছে কুয়াকাটা ভ্রমণের মধ্য দিয়ে। পল্লির পাশে রয়েছে একটি রাখাইন মার্কেট।

সেখানে মিলবে তাঁতে বোনা বিহারি রংয়ের পোশাক, বার্মিজ প্রসাধনী, বার্মিজ জুতা, আচারসহ হরেক পণ্য। দেখতে পাবেন রাখাইন উপাসনালয় এবং কুয়াকাটা নামকরণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সেই পানির গভীর কূপটি। পর্যটকদের আবাসিক সেবা দিতে প্রস্তুত শতাধিক হোটেল-মোটেল। মাত্র ৫০০ থেকে শুরু করে ১০ হাজার টাকার অধিক আরামদায়ক কামরা প্রস্তুত রয়েছে। আর খাবারের চাহিদা পূরণ করতে এখানে রয়েছে একাধিক রেস্তোরাঁ। এসব রেস্তোরাঁয় মিলবে একাধিক সামুদ্রিক মাছ ও শুঁটকি মাছের ভর্তা। যে ভাবে অাসবেন : সড়ক পথ ও নৌ পথে রয়েছে ভ্রমনে সুযোগ। সুস্থ হয়ে উঠুক বিশ্ব করোনা হউক বিলুপ্ত বিদায় নিবে লকডাউন । স্বাভাবিক হয়ে উঠবে মানুষের জীবনযাত্রা। ঘরবন্দি সময়ের অবসান হবে। ভ্রমণের জন্য উতলা হবেন আপনিও। সমুদ্রের কল কল ধ্বনিতে মুখরিত হবেন অাপনি ও অাপনার পরিবার।

এ জাতীয় আরও সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button