বদ নজর সম্পর্কে ইসলামে কি বলা হয়েছে?

বদ নজর বা মুখ দোষ এর ব্যাপারে হাদিস ও এর চিকিৎসা দোয়া ও উপায় সমূহ । বদ নজর সম্পর্কে ইসলামে কি বলা হয়েছে?ইসলামে বদ নজর (evil eye) বলতে কি আদৌ কিছু আছে? থাকলে এর প্রতিকার কী?

জি, বদ নজর একটি সত্য বিষয়। এটার উপর বিশ্বাস রাখা ফরজ। কারণ এটি অসংখ্য বিশুদ্ধ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। এটি অস্বীকার করা কুফরি।রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
‘‘তোমরা বদ নজর থেকে রক্ষা পেতে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করো। কেননা বদনজর সত্য।’’
_[ইবনে মাজাহ: ৩৫০৮, (সহিহ)]

আল কুরআনেও বদনজরের প্রসঙ্গ এসেছে একাধিক স্থানে। তার একটি নিচের আয়াতে—‘‘(ইয়াকুব আঃ) বললেন, হে আমার প্রিয় সন্তানগণ! তোমরা (শহরে) কোনো একটি প্রবেশ পথ দিয়ে (একসাথে) সবাই প্রবেশ করো না বরং বিভিন্ন প্রবেশপথ দিয়ে প্রবেশ করো। আমি তোমাদের আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা কোন বিপদ থেকে রক্ষা করতে পারবো না।’’
_[সূরা ইউসুফ, আয়াত: ৬৭]

ইসলামের শ্রেষ্ঠ মুফাসসিরগণ তথা কা’ব, মুজাহিদ, যাহহাক, কাতাদা এবং সুদ্দি (রাহিমাহুমুল্লাহ) বলেছেন যে, ইয়াকুব (আঃ) বদ নজরের ভয়ে এমনটি বলেছিলেন। কেননা তার সন্তানরা খুবই সুন্দর সুঠাম দেহের অধিকারী ছিলেন। বদনজরের ক্রিয়া বাস্তব। তবে, একই সাথে তিনি এটিও বলেছেন যে, এ ব্যবস্থা আল্লাহর তাকদিরকে প্রতিহত করতে পারবে না। তিনি যা চাবেন তাই হবে। __[ইমাম ইবনু কাসির, তাফসিরুল কুরআনিল আযিম: ২/৪৮৫]

বদ নজর কত ভয়ানক বিষয় তা নিচের দুটো হাদিস থেকে সহজে বোঝা যায়।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
‘‘বদ নজর মানুষকে কবর পর্যন্ত পৌঁছে দেয় এবং উটকে ডেগচি পর্যন্ত।’’
_[সহিহ আল জামে’: ১২৪৯ (সহিহ)]

অন্যত্র তিনি বলেন,
‘‘বদ নজর (এর খারাপ প্রভাব) সত্য। এমনকি যদি কোন বস্তু তাকদিরকে অতিক্রম করতো, তবে বদ নজর তা অতিক্রম করতো। সুতরাং তোমাদের যখন (এর প্রভাবমুক্ত হওয়ার জন্যে বিশেষ) গোসল করতে বলা হয়, তখন তোমরা গোসল কর।’’
_[সহিহ মুসলিম: ২১৮৮, সহিহ বুখারি: ৫৭৪০]

অতএব, বদ নজর থেকে বাঁচতে বিশেষ গোসল করতে হবে (যা উপরের হাদিসে এসেছে) এবং শরিয়তসম্মত ঝাড়-ফুঁক করতে হবে।

আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,
‘নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বদ নজর থেকে বাঁচার জন্যে ঝাড়-ফুঁক করার নির্দেশ দিতেন।’
_[সহিহ বুখারি: ১০/১৭০, সহিহ মুসলিম: ২১৯৫]

এ জাতীয় আরও সংবাদ

Back to top button