“বর্তমান বিশ্বে IOTএর গুরুত্ব”

:বর্তমান আধুনিক জীবন ব্যবস্হা সহজ করার পেছনে অন্যতম প্রধান কারণ ইন্টারনেটের ব্যবহার। যদিও এর ব্যবহার এতদিন শুধু স্মার্টফোন আর পিসির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল, কিন্তু আজ তা প্রতিটি জিনিসের মধ্যে ছড়িয়ে ফেলার প্রতি মনোনিবেশ করেছে উন্নত বিশ্ব। আর আমাদের ব্যবহৃত প্রতিটি জিনিসকে ইন্টারনেটের সাথে সংযুক্ত করার পদ্ধতিকে বলা হচ্ছে IOT (অর্থাৎ Internet of things)। সহজ ভাষায় IOT হচ্ছে এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে আপনার মানুষের ব্যবহৃত প্রতিটি জিনিস ইন্টারনেটের সাথে যুক্ত হয়ে data বা তথ্য প্রেরণ করবে, গ্রহন করবে এবং মানুষ তা দুর থেকে ইন্টারনেটের সাহায্যে নিয়ন্ত্রন করতে পাবে।

এটি ব্যবহৃত হতে পারে ব্যক্তি কেন্দ্রিক, বানিজ্য কেন্দ্রিক এমনকি রাষ্ট্র কেন্দ্রিক। ধরুণ আপনার বাড়িতে একটি বাগান আছে। অফিসের ব্যস্ততার জন্য আপনি সেটার দেখাশুনা করতে পারেন না। IOT সিস্টেম ব্যবহার করে আপনি অফিস থেকে বাগানের পরিচর্যা করতে পারেন। আপনার বাগানের মাটিতে একটি moisture sensor সংযুক্ত করে তাকে ইন্টারনেটের সাথে সংযুক্ত করতে হবে। (sensor হচ্ছে এমন একটি ডিভাইস যা রোবট বা কোন ইলেক্ট্রনিক ডিভাইসের ইন্দ্রিয়র মত কাজ করে।) এই moisture sensor মাটির আদ্রতা সম্পর্কে তথ্য ইন্টারনেটে প্রেরণ করবে। আপনি অফিসে বসে সে সম্পর্কে অবগত হয়ে বাগানের পানির পাম্প চালু হওয়ার নির্দেশ দিতে পারেন। যা IOT সিস্টেম ইন্টারনেটের মাধ্যমে আপনার নির্দেশ পেয়ে পাম্প চালু করবে এবং কি পরিমান পানি সরবরাহ হবে সেটাও আপনি নিয়ন্ত্রন করতে পারেন। এই পদ্ধতিতে আপনি আপনার বাড়ির নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে পারেন। IOT নির্ভর সিসি ক্যামেরা ও অন্য কোন ডিভাইসের মাধ্যমে আপনার বাড়ির আসে পাশে কারও আগমন আপনি অফিসে বসে পর্যবেক্ষণ করতে পারেন।

এভাবে আপনার বাড়ির প্রতিটি জিনিস লাইট, ফ্যান থেকে শুরু করে বাড়ির দরজা IOT সিস্টেম ব্যবহার করে দুর থেকে নিয়ন্ত্রন করতে পারেন। আপনি যদি বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় ভুলে লাইট জ্বালিয়ে আসেন আপনি রাস্তায় থেকে সেটা দেখে নিভাতে পারেন। আপনার অনুপস্হিতিতে যদি খালি বাড়িতে কোন অতিথি আসে আপনি বাড়িতে না গিয়ে বাড়ির দরজা তার জন্য খুলে দিতে পারেন। এক কথায় বাড়িটাকে একটা স্মার্ট বাড়িতে রুপান্তর সম্ভব। একই ভাবে একটি শহরকে রুপান্তর করা যায় স্মার্ট সিটিতে। ব্যবসা-বানিজ্যে এর ব্যবহার অধিক কার্যকারী হবে।

ইতিমধ্যে Huawei, জার্মান কম্পানী DHL, আমেরিকান কম্পানী GE, বৃটিশ কম্পানী Rolls Royce এবং Dell এই IOT এর উপর প্রজেক্ট শুরু করেছে। আমেরিকান নটওয়ার্কিং কম্পানী Cisco ইতিমধ্যে স্মার্ট সিটি নির্মানের কাজ শুরু করেছে। সুতরাং বাংলাদেশেও IOT এর উপর কাজ শুরু করার কোন বিকল্প নেই। রাজধানী ঢাকাকে বাস যোগ্য করে তুলতে এটি একটি কর্যকর প্রক্রিয়া হতে পারে। ঢাকা শহরের ট্রান্সপোর্ট গুলোকে এই পদ্ধতিতে ইন্টারনেটের সঙ্গে সংযুক্ত করে তাদের সার্বক্ষনিক পর্যবেক্ষণ করতে পারবে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বিশেষ করে এই করোনা ভাইরাসের সময় বাসে ঝুকিপূর্ণ ভাবে অধিক যাত্রী তুলছে কিনা এছাড়া বাসে গনধর্ষণের মত অঘটন ঘটতে গেলে প্রশাসন তৎক্ষনাত অবগত হতে পারে এবং GPS ট্র্যকারের সাহায্যে ট্রান্সপোর্টটির অবস্হান সম্পর্কে জানতে পারবে।

এছাড়া প্রতি মুহুর্তে জ্বালানীর পরিমান সম্পর্কে অবগত হতে পারে পরিবহনের কর্তৃপক্ষ যার ফলে জ্বালনী চুরিসহ দুর্নীতি রোধ করা সহজ হবে। এছাড়া ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্হানের ডাস্টবিন গুলো এই সিস্টেমের আওতা ভুক্ত করার মাধ্যমে সেগুলো পরিষ্কার রাখা সহজ হয়ে যাবে। যেখানে ডাস্টবিন আবর্জনা পুর্ণ হবে সেখানকার IOT ডিভাইস ইন্টারনেটে সিগনাল পাঠিয়ে দিতেপারে সিটিকর্পরেশন অফিসে এবং সিটিকর্পরেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গুগল মেপে দেখতে পারবেন ঠিক কোন স্হান থেকে সিগনাল আসছে। তাৎক্ষনাত সেখানে সিটিকর্পরেশনের গাড়ি বা লোক তার দায়িত্ব পালন করতে পারবে। এছাড়া রাস্তার রোড লাইটগুলো ইন্টারনেটের সাথে যুক্তকরা সম্ভব। এতে সুদুরপ্রসারী পরিকল্পনা দরকার হলেও আমরা শুরু করতে পারি। স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান মনস্ক শিক্ষার্থীদের ছোট ছোট প্রজেক্ট নিয়ে কাজ করার জন্য IOT একটা উল্লেখযোগ্য প্লাটফর্ম।

তবে অনেক এক্সপার্টগন IOT এর অসুবিধার দিক নিয়ে আলোচনা করেছেন। এমন সিস্টেম চালু করার আগে এর নিরাপত্তা নিশ্চিত অত্যাবশ্যকীয়। কারণ এই সিস্টেমের security নিশ্চিত না করলে। বিভিন্ন ওয়েব সাইট, ফেসবুক একাউন্টের মত হ্যাকাররা IOT সিস্টেমটাকেও হ্যাক করে পুরো সিস্টেমের কন্ট্রোল নিয়ে নিতে পারে, এবং অনেক ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নষ্ট হতে পারে।

এ জাতীয় আরও সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button