বিটিএস সাপোর্ট করা মানে কি LGBT সাপোর্ট করা?

ধর্ম সবার আগে! আমার মনে হয় না আমাদের ফ্যানডমে এমন কেউ আছে যারা BTS কে ধর্মের আগে স্থান দেয়! আমার ধর্ম LGBT সাপোর্ট করেনা, সেখানে আমার LGBT সাপোর্ট করা তো প্রশ্নই আসেনা! তবে কিছু মানুষের লজিক দেখলে কথা না বলে থাকতে পারিনা।
তাদের প্রশ্নঃ “বিটিএস LGBT সাপোর্ট করে জানো তো?
তুমি একজন মুসলিম হয়ে কিভাবে বিটিএস সাপোর্ট করো।

ওয়েট…….বিটিএস যদি LGBT সাপোর্ট করে থাকে তাহলে আমার কি? তাদের ধর্মে তো কোনো বাধ্যবাধকতা নেই এটি সাপোর্ট করার তাহলে কেন তারা সাপোর্ট করবে না? আর বিটিএস সাপোর্ট করা মানে যদি আমার LGBT সাপোর্ট করা হয় তাহলে আপনার ও ” বার্সেলোনা” সাপোর্ট করা মানে LGBT সাপোর্ট করা সেটা কি আমি ধরে নেবো?

সারাবিশ্বে এতো এতো সেলিব্রিটি LGBT সাপোর্ট করে, কই! তখন তো আপনাদের এসব নিয়ে কথা বলতে আসতে দেখিনা!! তাহলে বিটিএস এর ক্ষেত্রেই আপনাদের এতো বাধ্যবাধকতা কেন?মানে একটা বয়ব্যান্ড যারা কিনা গান গায়, শুধু তাদের গান শুনার কারণে যদি BTS Army দের

এতো কৈফিয়ত দিতে হয় তাহলে সরি, আমি মোটেই এসব প্রশ্নের উত্তর দিতে আমার টাইম ওয়েস্ট করবো না। নেক্সট টাইম নূন্যতম লজিক নিয়ে কথা বলতে আসবেন।

কিন্তু কথা হচ্ছে BTS কে কেনো সম্পূর্ণ আলাদা করে একটা ইস্যু বানিয়ে হারামের প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা হবে?

BTS কি? BTS কোরিয়ার একটা বয় ব্যান্ড যারা গান গায়! ওদের মত এমন ব্যান্ড কিন্তু আরো অনেক রয়েছে! শুধু কোরিয়াতেই না আমাদের বাংলাদেশেও রয়েছে! জেমস, আইয়ুব বাচ্চু, আর্টসেলের শিল্পীরাও কিন্তু ওদের মতোই গান গায়! বিটলস, কুইন, মাইকেল জ্যাকসন ও ওদের মতোই গান গেয়েছে!


কিন্তু যখন হারাম বা গুনাহের কথা আসে তখন শুধুমাত্র BTS কেই কেনো পয়েন্ট আউট করে হবে?
হিপোক্রেসির ও লিমিট থাকে ভাই! যেখানে তুমি ধর্মের প্রচার করতে গিয়ে ধর্ম বাদ দিয়ে একটা গান গাওয়া ব্যান্ড কে ব্যবহার করছো, BTS হারাম বলে ওদের কে নিয়েই রিসার্চ করছো সেখানে বোঝাই যাচ্ছে ঘাপলা টা ঠিক কোথায় আছে!


তোমাদের মতে ফেসবুক বায়ো তে কালিমা লিখলে আর প্রোফাইলে কাবার ছবি থাকলেই সে আদর্শ মুসলিম! আর BTS লক্ষ লক্ষ মানুষের মাঝে পজিটিভ চিন্তা ভাবনা ছড়াচ্ছে, বেচেঁ থাকার অনুপ্রেরণা দিচ্ছে তাদের নিয়ে কথা বললেই নাস্তিক!

BTS যুবসমাজ কে ধ্বংস করে দিচ্ছে! ভাইরাসের মতো ছড়িয়ে গেছে! এত কিছু জানো তাহলে তোমার এটাও জানা উচিত ছিল যে BTS ইউনিসেফ এর সাথে যুক্ত হয়ে একমাত্র যুবসমাজকে নিয়ে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে! কিছুদিন আগে যে BTS জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে নিজেদের উপস্থাপন করেছে সেখানে তাদের মূল থিম ছিল “ইউথ টুডে”! তাদের লক্ষ্য যুবসমাজকে কিভাবে ভায়োলেন্স মুক্ত করা যায়, তারা যুবসমাজকে শিখিয়েছে অন্যদের থেকে আলাদা হওয়া ভুল কিছু না, শিখিয়েছে নিজেদের অধিকারের জন্য আওয়াজ তুলতে, শিখিয়েছে নিজেদের ভালোবাসতে! এতে যদি যুবসমাজ ধ্বংস হয়ে যায় তাহলে আমি জানিনা আর কিভাবে যুবসমাজকে গড়া যাবে!

যাইহোক, ধর্ম থেকে অনেক দূরে চলে আসলাম! ধর্মের কথা বলতে গেলে যার যার ধর্ম তার তার কাছে! তাই ধর্মের ব্যাপারটা যার যার টা তার তার উপর ছেড়ে দিলেই কি ভালো হয় না?

(আমি আর আপনিই বা কতটুকু ধর্ম মেনে চলতে পারছি? ধর্ম খুবই সেনসিটিভ জিনিস, সেটা নিয়ে কখনো এসব কথা টানবেন না। আমরা আমাদের ধর্ম মেনে চলার চেষ্টা করি কিন্তু শুধু গান শুনাটাকে পুরো একটা হারাম ইস্যু বানিয়ে গোটা ধর্ম বা জাতিকে অ্যাটাক করবেন না)

এ জাতীয় আরও সংবাদ

Back to top button