বিশ্বকাপের আগে বাংলার অধিনায়কের সাথে

‘সাইলেন্ট অ্যাসাসিন’ নামটা খুব বেশি উচ্চারিত হয় না। তবে ক্রিকেট মাঠের নীরব ঘাতক পরিচয়টা মাহমুদ উল্লাহর পুরনো। আইসিসির কোনো ইভেন্ট এলেই নৈপুণ্য দিয়ে পুরনো পরিচয়টা মনে করিয়ে দেন তিনি। এবার তো অধিনায়কের দায়িত্ব নিয়েই আইসিসির কোনো আসরে মাঠে নামছেন মাহমুদ, ওয়ার্ল্ড টি-টোয়েন্টিতে। এরই মধ্যে দলবল নিয়ে পৌঁছে গেছেন ওমানে। যাওয়ার আগে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে দলের বোঝাপড়া আর বিশ্বকাপ সম্ভাবনা নিয়ে বাংলাদেশ অধিনায়ক কথা বলেছেন যুবরাজ বড়ালের সঙ্গে।

প্রশ্ন : গত কিছুদিনে তো ইন্টারভিউ দেওয়ার বিশ্বরেকর্ডই গড়ে ফেলেছেন। তা এটা ঠিক কত নম্বর ইন্টারভিউ?

মাহমুদ উল্লাহ : হা হা হা…ঠিক গুনে বলতে পারব না এটি কত নম্বর। তবে এটি সত্যি যে গত কিছুদিনে যত ইন্টারভিউ দিয়েছি, আমার পুরো ক্যারিয়ারেই অতগুলো দিইনি। এবার দিলাম কারণ মনে হচ্ছিল, বিশ্বকাপের আগে সবাই আমার কাছ থেকে কিছু শুনতে চাচ্ছে।

প্রশ্ন : পূরণ হোক বা না হোক, সব অধিনায়কই মনের গহিনে খুব বড় একটা স্বপ্ন লালন করেন। মাহমুদ উল্লাহর সেই স্বপ্নটি কী?

মাহমুদ : স্বপ্ন সবারই থাকে। কিন্তু আপনারা তো জানেনই যে আমি খুবই অন্তর্মুখী ধরনের একজন মানুষ। তাই স্বপ্নের কথাটি এখনই বলতে চাই না। যদি পূরণ হয়, তখন না হয় বলব।

প্রশ্ন : ২০১৫ বিশ্বকাপের পর এক ইন্টারভিউতে অবশ্য বলেছিলেন, কোনো একদিন অধিনায়ক হিসেবে বিশ্বকাপ ট্রফি তুলে ধরতে চান। বলতে না চাওয়া স্বপ্নটি যদি এ রকম হয়, তাহলে এই বাংলাদেশ দল সেই স্বপ্ন সত্যি করার কতটা কাছাকাছি বা কতটা দূরে আছে?

মাহমুদ : শুধু আমিই নই, পুরো দলেরই কোনো না কোনো একটি স্বপ্ন থাকে। দারুণ কিছু অর্জন করার স্বপ্ন সবাই দেখে। বড় স্বপ্ন লালন করে সবাই। আমরা সবাই এর পেছনেই ছুটে চলতে থাকি এবং কষ্ট করতে থাকি। তবে প্রতিটি বড় স্বপ্নে সফল হতে গেলে আগে অসংখ্য ছোট ছোট লক্ষ্যে পৌঁছাতে হয়। এর পরই আপনি আপনার স্বপ্নের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারেন। এই সংস্করণে আমরা এখনো উন্নতির ধারায় আছি। এটিকে যদি ওপরের দিকেই রাখতে পারি, তাহলে অবশ্যই আমরা বড় কিছুর দাবিদার নিজেদের মনে করতে পারব।

প্রশ্ন : এক অনুষ্ঠানে মুশফিকুর রহিমকে বলতে শোনা গিয়েছে যে তিনি এই বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম করতে চান, যাতে দলও চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য লড়াই করতে পারে। অত দূর ভাবছেন?

মাহমুদ : আমি বিশ্বাস করি, সেই সামর্থ্য আমাদের এই দলের আছে, আছে সেই স্কিলও। তবে মানসিক চ্যালেঞ্জগুলো আমরা কিভাবে সামলাই, সেটিও দেখার ব্যাপার আছে। কঠিন পরিস্থিতিতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়লেই আর লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবেন না। দল হিসেবে তাই মানসিকভাবে অনেক শক্ত থাকতে হবে। যে কম্বিনেশন আমাদের আছে, আমি বিশ্বাস করি এই দলটিই অনেক ভালো কিছু করবে। তবে আমি আগেই বললাম এখনই কিছু প্রকাশ করতে চাই না। আমাদের অবশ্যই দক্ষতা আছে। আমরা পুরো বিশ্বকে এই সংস্করণে নিজেদের সক্ষমতার জানানও দিতে চাই। সে জন্য ছোট ছোট পদক্ষেপে এগোতে হবে।

প্রশ্ন : টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ যেহেতু, তাই প্রাসঙ্গিকভাবেই একটি বিষয় জানতে চাচ্ছি। ২০১৬-র বিশ্বকাপে ভারতের কাছে হার আজীবনই আপনাকে তাড়া করে ফিরবে বলে জানিয়েছেন বিভিন্ন সময়ে। তবে সময়ে অনেক ক্ষতই শুকিয়ে যায়। এটা কি শুকিয়েছে?

মাহমুদ : দেখুন, ওটা একটি ভুল ছিল। প্রত্যেক মানুষের জীবনেই এমন অনেক ভুল থাকে, যেটি থেকে হয়তো বা সারা জীবনের একটি শিক্ষা মানুষ পেয়ে থাকে। আমিও নিয়েছি। তা ছাড়া এই সংস্করণেই অনেক বেশি কঠিন মুহূর্তের চ্যালেঞ্জ সামলাতে হয়। আমি যেহেতু মিডল ও লোয়ার মিডল অর্ডারে ব্যাটিং করি, কাজেই আমাকে ওরকম পরিস্থিতি হরহামেশাই সামলাতে হবে।

প্রশ্ন : এক ইন্টারভিউতে দেখলাম বলেছেন যে সেরা হতে হলে সেরা দলগুলোকে হারিয়েই তা হতে হবে। সে জন্য দলের তিন সেরা মুশফিক, মুস্তাফিজ ও সাকিবের কাছে আপনার প্রত্যাশা কী?

মাহমুদ : ওরা তিনজনই আমাদের জন্য অমূল্য। সেটি ওরা নিজেরাও জানে। ওরা সবাই চ্যাম্পিয়ন খেলোয়াড়। আশা করি, ওরা এই বিশ্বকাপে নিজেদের ফর্মের চূড়ায়ই থাকবে। মুশির কথা যেমন আপনিই বললেন। ওর মতো খেলোয়াড় সত্যিই দলের জন্য বিস্ময়কর কিছু করতে সক্ষম এবং আমি বিশ্বাস করি, সেটি বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চেই।

প্রশ্ন : ২০১৯ বিশ্বকাপে সাকিব যা করেছেন, এক কথায় তা ক্রিকেট রূপকথা। এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও কি সাকিবের কাছ থেকে সেরকম অবিশ্বাস্য কিছুই আশা করছেন?

মাহমুদ : সাকিবের সেই সক্ষমতা আছে। আমি মনে করি, ২০১৯ বিশ্বকাপে সাকিব যেরকম পারফরম করেছে, এবার তার চেয়েও ভালো কিছু করবে। তবে শুধু সাকিব নয়, দলের জয়ে সবারই অবদান চাই আমি।

প্রশ্ন : ২০১৯ বিশ্বকাপের আগে আইপিএলে ম্যাচের পর ম্যাচ সুযোগ না পাওয়া সাকিব জেদ থেকে তাক লাগানো কিছুর জন্য নিজেকে তৈরি করেছিলেন। এবারও আইপিএলে সেই একই নিয়তি (ইন্টারভিউ নেওয়ার পর অবশ্য খেলার সুযোগ পেয়েছেন সাকিব) তাঁর জেদ বাড়িয়ে দিলে তো বাংলাদেশেরই উপকৃত হওয়ার কথা। নাকি? 

মাহমুদ : এই মুহূর্তে সাকিব যে ম্যাচ খেলছে না, সেটি ওর জেদ বাড়িয়েও দিয়ে থাকতে পারে। এটা সাকিবই ভালো বলতে পারবে। তবে আমরা চাই, সাকিব ম্যাচ খেলুক। আর ও যখন খেলবে, নিজের সেরাটাই দেবে।

প্রশ্ন : আপনার এই বাংলাদেশ দলের বিশেষত্ব কোথায়?

মাহমুদ : ব্যাটিং ইউনিটের কথা যদি বলি, আমাদের দলে প্রচুর স্কিলফুল হিটার আছে। স্কিলফুল হিটিংয়ের দিকে যখন আমরা নজর দিই, তখন আমরা খুব ভালো অবস্থায় থাকি। প্রয়োগটাও তখন ভালো হয় আমাদের। সেই সঙ্গে আমাদের বোলিং ইউনিটও অসাধারণ। মুস্তাফিজের কথা বলতেই হয়। ও ছাড়া মনে হয় আর কোনো পেস বোলার র্যাংকিংয়ের সেরা দশে নেই (নিউজিল্যান্ডের টিম সাউদি আছেন)। সাকিবও আছে সেরা দশেই।

প্রশ্ন : আপনার প্রসঙ্গে আসি। ওয়ানডে বিশ্বকাপে প্রথমবার কোয়ার্টার ফাইনাল খেলার মতো মাইলফলক আপনার ব্যাটে গড়া। ব্যাট হাতে এবার অধিনায়ক মাহমুদ উল্লাহ কোন মাইলফলক গড়তে চাইবে?

মাহমুদ : আমি কখনোই মাইলফলকের কথা চিন্তা করি না। দলের জন্য খেলতে পছন্দ করি। চিন্তাও করি সাধারণভাবেই। সাধারণভাবে চিন্তা করলে অনেক কঠিন জিনিসও সহজ হয়ে যায়। আমি শুধু আমার সত্ভাবে চেষ্টা করার ব্যাপারটিতেই ভরসা রাখি।

প্রশ্ন : শেষ প্রশ্ন। টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার কোনো সম্ভাবনা কি আছে?

মাহমুদ : কোনো সম্ভাবনাই নেই।

এ জাতীয় আরও সংবাদ

Back to top button