বিসিসি’র প্রস্তাবিত বাজেট প্রায় ৪১৬ কোটি টাকা

বাজেট হচ্ছে একটি দেশের সম্ভাব্য আয়-ব্যয়ের হিসাব। সরকারকে দেশ চালাতে হয়, সরকারের হয়ে যাঁরা কাজ করেন তাঁদের বেতন দিতে হয়, আবার নাগরিকদের উন্নয়নের জন্য রাস্তাঘাট বানানোসহ নানা ধরনের উদ্যোগ নিতে হয়। সুতরাং একটি নির্দিষ্ট অর্থবছরে কোথায় কত ব্যয় হবে, সেই পরিকল্পনার নামই বাজেট।

বাংলাদেশের সংবিধানে অবশ্য বাজেট শব্দটি ব্যবহার করা হয় নি। এর পরিবর্তে সমরূপ শব্দ ‘বার্ষিক আর্থিক বিবরণী’ ব্যবহার করা হয়েছে, যেখানে একটি নির্দিষ্ট অর্থবৎসরের জন্য প্রাক্কলিত সরকারের প্রাপ্তি ও ব্যয়সমূহ দেখানো হয়।

নতুন কোন করারোপ ছাড়াই বরিশাল সিটি করপোরেশনে ২০২১-২০২২ অর্থ বছরের জন্য প্রায় ৪১৬ কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে গত অর্থ বছরে ঘোষিত ৪২৭ কোটি ৬২ লাখ ৬৪ হাজার ৩৪৫ টাকার প্রস্তাবিত বাজেটের বিপরীতে ১২১ কোটি ৯৬ লাখ ১৯ হাজার ৯৪৮ টাকার চূড়ান্ত বাজেট অনুমোদন দেয়া হযেছে। সে হিসেবে গত অর্থ বছরে প্রস্তাবিত বাজেটের ২৮ দশমিক ৫২ ভাগ বাস্তবায়ন হয়েছে।

মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে সিটি মেয়র সেরনিয়াবত সাদিক আবদুল্লাহর পক্ষে ১ নম্বর প্যানেল মেয়র গাজী নাইমুল হোসেন লিটু ৪১৫ কোটি ৭২ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬৬ টাকার প্রস্তাবিত বাজেট বাজেট ঘোষণা করেন।

ঘোষিত বাজেটে নিজস্ব বিভিন্ন উৎস্য থেকে রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ১১৩ কোটি ৫৬ লাখ ৭০ হাজার ২২ টাকা। সরকারি অনুদান (রাজস্ব) ৯ কোটি ৮১ লাখ ১ হাজার ৯৬০ টাকা, সরকারি থোক বরাদ্দ ২০ কোটি টাকা এবং সরকারি বিশেষ অনুদান ধরা হয়েছে ২৫ কোটি টাকা। এছাড়া সরকারি ও দাতা সংস্থার সাহায্য হিসেবে ২১১ কোটি ১২ লাখ ২১ হাজার ৪৩১ টাকা ধরা হয়েছে। 

বাজেট ঘোষণা অনুষ্ঠানে মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে বলেন, রাস্তা-ড্রেন-ব্রীজ-কালভার্ট, পুকুর ও খাল সংরক্ষণ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২৬৪ কোটি ২১ লাখ ২৪ হাজার ৯৯৮ টাকা, করোনা মোকাবেলায় ৬ কোটি টাকা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ৩৬ কোটি ১৫ লাখ টাকা, পানি-বিদ্যুত ও পরিবহন খাতে ১৯ কোটি ১৫ লাখ ৩৬ হাজার ৯৪৮ টাকা এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও আনুতোষিক সহ ৪১ কোটি ৪৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। 

তিনি বলেন, ২০২০-২১ অর্থবছরে কোনো প্রকল্প না পাওয়া সত্বেও আমাদের নিজস্ব অর্থায়নে এ প্রথম পাঁচ বছরের গ্যারান্টিতে ৬ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ, ৪১ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার, ২০০ মিটার ফুটপাত নির্মাণ, ১ দশমিক ২০ কিলোমিটার ড্রেন কাম ফুটপাত নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া ৩ দশমিক ৫ কিলোমিটার খাল পুনঃখননও পরিষ্কারকরণ, এডিস মশা ও ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব এড়াতে বরিশাল নগরীকে কয়েকটি জোনে বিভক্ত করে নতুনভাবে জার্মানি থেকে আমদানি করা ফগার মেশিন এবং হ্যান্ড স্প্রেরের মাধ্যমে জীবাণুনাশক ছিটানো হচ্ছে। নিরবিচ্ছিন্ন সুপেয় পানির সরবরাহ নিশ্চিতকল্পে নতুন ৩টি উৎপাদক নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া নতুন ৮ কিলোমিটার পানি সংযোগ লাইন স্থাপন করায় ১০ লাখ গ্যালন পানি সরবরাহ বেড়েছে।

মেয়র বলেন, এডিপির আওতায় বাস্তবায়নযোগ্য কিছু প্রকল্প আমরা প্রস্তাব করেছি। এর মধ্যে নতুন নগর ভবন নির্মাণ, বরিশাল মহানগরীর রিংরোড নির্মাণ প্রকল্প, বেলতলা ও রূপাতলী সারফেজ ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট দু’টি ব্যবহার উপযোগীকরণ সহ ওভারহেড ট্যাংক ও পানি সরবরাহ পাইপ লাইন স্থাপন প্রকল্প এবং আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্প অন্যতম।

তিনি বলেন, দুর্নীতি যত কমবে, কর্মক্ষমতা তত বাড়বে। আমি মনে করি, ১২ সিটি করপোরেশনে যদি স্বচ্ছতা আনা যায়, তাহলে দেশের চিত্র ঘুরে যাবে। বরিশাল সিটি করপোরেশনে যে পরিবর্তন আনতে পেরেছি এর প্রভাব দক্ষিণাঞ্চলের সব জায়গাতে পরবে। সুফল পাবে মানুষ, আজ না হলে কাল, কাল না পরশু সুফল পাবেই।

এছাড়া ৬৮৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নগরীর সড়ক উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন, ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় উন্নয়ন, ২৬১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নগরীর সকল খাল পুনরুদ্ধার, খনন ও সংরক্ষন এবং ২৭৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নগরীর সকল সড়কের পাশে স্মার্ট কন্ট্রোল বেস্ড এলইডি সড়ক বাতি স্থাপনের ৩টি প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া আছে বলে মেয়র জানান। এগুলোসহ অন্যান্য প্রকল্পগুলো পাশ হলে নগরীর চেহারা পাল্টে যাবে বলে তিনি আশা করেন। নগরীর উন্নয়নে তিনি নগরবাসীর সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেন। 

ভার্চুয়াল বাজেট ঘোষণা অনুষ্ঠানে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. ছাদেকুল আরেফিন, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ ফারুক আহম্মদ, সরকারি কর্মকর্তা, ওয়ার্ড কাউন্সিলরবৃন্দ, আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক এবং সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ সংযুক্ত ছিলেন।

২০০২ সালে বরিশাল সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠার পর এটি ছিলো ১৯তম বাজেট এবং মেয়র সাদিক আবদুল্লাহর নেতৃত্বধীন পরিষদের তৃতীয় বাজেট।

এ জাতীয় আরও সংবাদ

Back to top button