বুড়োকালে লোকে ধর্ম-কর্ম বেশি করে কেনো

একটি সমাজে যত বেশি বুড়ো লোক, সেই সমাজে ধর্ম এবং স্রষ্টায় বিশ্বাস লোকের সংখ্যা তত বেশি । কারণ, তুলনামূলকভাবে বুড়োরা গডে বিশ্বাসী হয় বেশি । আর ধর্ম মানেই স্রষ্টা বিশ্বাসকেন্দ্রিক ।

হাজার দশেক বছর আগে মানুষ যখন অর্গানাইজড রিলিজিয়নগুলোর উদ্ভাবন করে অথবা রিলিজিয়নগুলোর আবির্ভাব হয় মানব সমাজে, তার অন্যতম একটি কারণ ছিল মৃত্যু ভয় । মৃত্যুর পর কি হয় এই অনিশ্চয়তা মানুষের ভেতর যে উদ্বিগ্নতা, ভয় এবং দুঃখবোধের জন্ম দেয়, তার থেকে বের হওয়ার জন্য এক ধরনের সুপার পাওয়ার সেন্ট্রিক রিচুয়াল মানুষকে হেল্প করে । সেটারই আনুষ্ঠানিক রূপ হলো ধর্ম, বিশ্বাস, ধর্মের অনুষ্ঠান, এবং বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা ।

সচরাচর দেখা যায়, বয়স যখন কম থাকে, লোকে ধর্মের বিশ্বাস বা আনুষ্ঠানিকতায় তেমন গায়ে মাখে না । কিন্তু মানুষ যখন বুড়ো হয়, তখন ধর্মে-কর্মে অনেক বেশি মন দেয় । বুড়ো হলে সমাজের বেশিরভাগ মানুষ নামাজ পড়ে, পুজো করে, চার্চ এ যেতে থাকে । এমন হবার কারণ অনেকগুলো ।

এক. জীবন সম্পর্কে তার কৌতুহল কমে আসছে বলে তেমন কিছু করার থাকেনা, অথবা করতে ভালো লাগেনা ।

দুই. মৃত্যু ভয় তাকে পরবর্তী সময় গুলোতে অনিশ্চিত করে তুলে । শেষ সময়ে তাই চিন্তা করে যে – কিছু রিচুয়াল পালন করে হলেও সেই ভয় কাটিয়ে উঠতে পারে ।

তিন. বুড়ো হলে সামনের সময় থেমে যায় । তখন কল্পিত পরকাল সামনের সময়ের প্রতীক হয়ে বর্তমান সময়টিতে টিকে থাকতে সাহায্য করে । সময়ের বাস্তব অক্ষমতাকে একটি সুপার পাওয়ারের কাছে সমর্পন মনকে সান্তনা দেয়, পেছনের ব্যর্থতাকে ভুলায় ।

চার. বুড়ো হলে বয়সের কারণে শরীরে বিভিন্ন ধরনের রোগ এবং পেইন বেড়ে যায় । ধর্মের আনুষ্ঠানিকতা এবং বিশ্বাস তখন শারীরিক কষ্টকে মেনে নেয়া এবং ভুলে থাকতে সাহায্য করে ।

পাঁচ. বুড়ো হলে মানুষ ক্রমশ সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকে, নিজ কেন্দ্রিক হয়ে ওঠে । চারপাশ তার ছোট হয়ে যায় । বয়স যখন কম ছিল, ব্যস্ততা তার সময়কে চালাতো । কিন্তু বুড়ো হতে থাকলে সময়ে চালাতে তার ব্যাস্ত হয়ে উঠতে হয় । একদিকে সামাজিক বিচ্ছিন্নতা, একাকিত্ব, কাছাকাছি বয়সীদের মৃত্যু, ব্যস্ততাহীনতা থেকে বের হতে ধর্মের কাজে আত্মসমর্পণ তার সময়টিকে ব্যস্তময় করে তুলে ।

ছয় . বুড়ো হলে মোরাল স্পিরিট বাড়ে এথিক্যাল হয়ে ওঠার কারণে নয় । বরং নিজের অতীত ভুলগুলো সামনে চলে আসে । সেগুলো ভীত করে, কষ্ট দেয়, কিন্তু ভুলগুলো শুধরে নেয়ার পথ থাকে না । মরণশীল জীবনের প্রায়শ্চিত্তের সুযোগ নেই বলে ধর্মের আফটার লাইফ অমরণশীল কনসেপ্টটি তখন একটি সান্তনা দেয় । ফলে ধর্মের কাছে আত্মসমর্পণের রূপটি মোরাল এথিক্স না বাড়িয়েই তার মোরাল স্পিরিট এন্ড একটিভিটি বাড়িয়ে দেয় ।

Opurbo Chowdhury

London, England

এ জাতীয় আরও সংবাদ

Back to top button