বৃহত্তর দেওভোগ বাসীর সাথে আওয়ামীলীগের মনোনীত মেয়র প্রার্থী আইভী মতবিনিময় সভা

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনীত মেয়র প্রার্থী ডা. সেলিনা হায়াত আইভী বলেছেন, ২০০৩ এর ১৬ জানুয়ারি আমি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে ছিলাম তৎকালীন সময় নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার। যারা আমার পাশে ছিলেন আমি কাউকে ভুলি নাই, আমি কারো নাম বলতে চাই না। কিন্তু আমার মনে আছে কারা আমার পাশে ছিলেন আর ছিলেন না। ছিলেন না যারা তাদের আমি ভুলে যেতে চাই। যারা ছিলেন তাদেরকে মনে রাখতে চাই, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই।

শনিবার (১৮ ডিসেম্বর) বিকালে বৃহত্তর দেওভোগবাসীর মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। আলী আহমেদ চুনকা ফাউন্ডেশনের আয়োজনে এ মতবিনিময় সভা উপস্থিত ছিলেন নারায়নগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন।

আইভী আরও বলেন, রাজনৈতিক বা সামাজিক ভাবে হোক প্রতিষ্ঠিত হতে হলে তার পরিবার, এলাকাবাসী, ও আত্মীয়-স্বজনদের অবদান অনেক বেশী থাকে। রাজনৈতিক দলের ও অবদান থাকে। কারো যদি তার এলাকায়, মহল্লায় বা ওয়ার্ডে জন সমর্থন না থাকে তাহলে ওই প্রার্থীকে দাম বা মুল্যায়ন মানুষ করতে চায় না। আমার বাবা বরাবরের মতই এই দেওভোগবাসীকে সম্মানিত করে এসেছেন। আমার বাবার ধারাবাহিকতার হাত ধরেই আমি চেষ্টা করি। আমি আমার বাবার মতো হয়তো পারবো না, আমার পক্ষে সম্ভব না। আমরা সব ভাই বোনরা চেষ্টা করি আমার বাবার কথা মানার জন্য ও করার জন্য।

আইভী বলেন, ২০১১ সাল আমার জন্য সব থেকে কঠিন সময় ছিলো। আমার মা সর্ব প্রথম আমাকে বলেছিলো অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়তে হলে তোমাকে নির্বাচন করতে হবে। সেদিন আমি মার সাহসে সাহসী হয়েছিলাম। আমি তখন বলেছিলাম আমি এক ভোট পেলেও আমি নির্বাচন করবো। সেই নির্বাচন ছিলো আমার অন্যায়ের প্রতিবাদ, সন্ত্রাসের প্রতিবাদ, চাঁদা বাজের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ। সেই দু:সময় আপনারা আমাকে দোয়াত কলম মার্কায় ভোট দিয়েছেন।

তিনি বলেন, ২০১৬ সালে আমি বলেছিলাম আমি নির্বাচন করবো না কিন্তু আমার আসু কাকা আমাকে বলেছিলেন নির্বাচন করতে। আমি বলেছিলাম নৌকা না দিলে আমি নির্বাচন করবো না যেহেতু আমি একটা দল করি দলের শৃঙ্খলার প্রতি সম্মান দেখাতেই হবে। সেই দিনও জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে নৌকা তুলে দিয়েছিলেন। সেই নৌকার নির্বাচন আপনারা করেছেন। বিভিন্ন সময় আপনাদের আমি সময় দিতে পারি না কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়। তাই আজ আপনারা বলতে পারেন নারায়ণগঞ্জে এত কাজ হয়েছে।

ডা.আইভী আরও বলেন, ২০২২ সালেও যে নির্বাচন হতে যাচ্ছে তা দল মিটিং করে সিদ্ধান্ত আগেই দিয়ে দিয়েছে। আমি এবারও বলেছিলাম যদি দল আমাকে নৌকা দেয় তাহলে নির্বাচন করবো না হলে করবো না, আমি দলের বাইওে যেয়ে দলের সিধান্ত অমান্য করে নির্বাচন করবো না। কিন্তু আল্লাহের কাছে অসেস রহমত মাননীয় প্রধান মন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মোননয়ন বোর্ড আমাকে নির্বাচিত করেছেন নৌকা দিয়েছেন। আমার দলের সিনিয়র নেতারা আমাকে সমর্থন জানিয়েছেন। মহানগর আওয়ামী লীগ, জেলা আওয়ামী লীগ, জেলা যুবলীগসহ সকল অঙ্গ সংগঠন আমাকে সমর্থন জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, বিগত সময় আমরা তিন তিনটা নির্বাচন করেছি, আমরা অনেক কঠিন সময় পার হয়ে এসেছি, এইবারও যে কঠিন হবে না তা নয়। এত বেশি ষড়যন্ত্র হচ্ছে যে আমি একটি সাধারণ কথা বলেছি পার্টি অফিসে তা কাট করে আগে পিছে সব বাদ দিয়ে আমার বিরুদ্ধে প্রচার চালানো হচ্ছে। আমি যাই বলি না কেনো তা বিভিন্ন ভাবে বিকৃত করে আগাত করার চেষ্ট্ করে। বিশেষ করে ধর্মীয় অনুভুতিতে আগাত করার জন্য একটা গ্রুপ বা মিডিয়া সচ্চার হয়ে আছে। এই মিডিয়াকে ব্যবহার করে কি ভাবে আমাকে আগাত করা যায় ধর্মীয় অনুভুতিতে আগাত করা যায় তা চেষ্টা চলছে ও ভ্যবিষতে আরো বলবে। আপনারা বিভ্রান্ত হবেন না।

আমরা আল্লাহ ওয়ালা লোক, আমরা আল্লাহ রাসুল ও পীর মুরসিদের খেদমত করেই আমরা এখানে এসেছি। এটার সাথে আমি কোনদিন ও কম্পোমাইজ করবো না। আমি অব্যশই সুন্নিয়াতের লোক , আমি অব্যশই পীর মুরসিদকে সম্মান করি। আমি অব্যশই অন্যান্য তরিকাকে সম্মান করি। প্রত্যেকের মত আলাদা কিন্তু উদ্দেশ্য একটাই আল্লাহকে পাওয়া।

নির্বাচন যেই করুক না কেনো তার সাথে আমার নির্বাচন করতে হবে। যদি মনে করি নির্বাচন একটু হালকা তা মনে করার অবকাশ নাই। নির্বাচনকে আমাদের সিরিয়াস নিতে হবে। আমার লোকদের বলি আমরা কেউ যেনো আচরন বিধি লঙ্ঘন না করি। সরকারী দলের বদনাম বেশি থাকে। কোন ভাবেই ২৯ তারিখ পযর্ন্ত আপনারা নৌকার স্লোগান দিবেন না। ষড়যন্ত্র একটু গভীর হচ্ছে তাই আমি আপনাদের কাছে দোয়া চাচ্ছি।

এ জাতীয় আরও সংবাদ

Back to top button