ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় লিচুর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ১৩৬৮ মেট্রিকটন।


ভারতের ত্রিপুরা সীমান্তবর্তী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা-আখাউড়া এবং বিজয়নগর উপজেলার পাহাড়ি জমিতে বোম্বে,পাটনাইয়া এবং চায়না থ্রি জাতের লিচুর বাগান রয়েছে। মৌসুমের শুরুতে কিছুটা প্রতিকূল আবহাওয়া থাকলেও ফলন ভালো হওয়ায় খুশি বাগান মালিক ও পাইকাররা। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এ বছর লিচুর ফলন খুব ভালো হয়েছে। প্রতিদিন উপজেলার বিভিন্ন বাজারে লাখ লাখ টাকার লিচু বেচাকেনা হচ্ছে। এতে লিচু চাষি ও বাগানের মহাজনদের মুখে হাসি ফুটেছে।

কৃষি বিভাগ বলছে, লিচুর উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।এদিকে পাটনাইয়া জাতের লিচু ইতোমধ্যে বাগান থেকে পাইকারদের কাছে বিক্রি শুরু হয়েছে। বাগান থেকে এসব লিচু কয়েকদফা হাতবদল হয়ে রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে চলে যাচ্ছে। মৌসুমের শুরুতে ভালো দাম পেয়ে খুশি পাইকাররা।


বাগানে বাগানে সারিবদ্ধ লিচু গাছ। প্রতিটি গাছে ঝুলে আছে থোকা থোকা বিভিন্ন জাতের রসালো লিচু। লিচুর ভারে গাছের ঢালগুলো মাটিতে নুয়ে পড়েছে। প্রতিটি থোকাতেই ১০/ ১২টি করে লিচু ধরেছে। গাছগুলোতে চোখ পড়লে নজর কাড়বে যেকোনো মানুষের। এ মনোরম দৃশ্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সীমান্তবর্তী উপজেলা আখাউড়া, কসবা, ও বিজয়নগরে।
সরেজমিনে বাগানগুলো ঘুরে দেখা যায়, চলতি মৌসুমে পাটনায়, বম্বে, চায়না থ্রি এবং দেশীয় জাতের লিচু আবাদ করা হয়েছে।

মধুমাস জ্যৈষ্ঠের মাঝামাঝি হওয়ায় লিচুগুলো রসালো তো বটেই সুমিষ্ট ও মাংসল হয়েছে। পরিপক্ব লিচুগুলো বাগান থেকে পাড়তে ব্যস্ত সময় পার করছেন লিচু চাষিরা। প্রতিটি গাছ থেকে দুই/তিন জন করে লিচু পাড়ছেন।
অন্যদিকে মাটিতে আরেকদল সারিবদ্ধভাবে বসে লিচু বাছাই করে ১০০টির থোকা বানাচ্ছেন। জাত ভেদে ১শ লিচু বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত। ক্রেতারাও দরদাম করে লিচু কিনে তা বিভিন্ন পরিবহনে করে দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাচ্ছেন।


কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, জেলায় ২০০১ সাল থেকে বাণিজ্যিকভাবে লিচুর আবাদ শুরু হয়। তারপর থেকে বছর বছর বাড়ছে আবাদের পরিমাণ। এবার ৪৫৫ হেক্টর জমিতে লিচু আবাদ হয়েছে। ছোট বড় মিলিয়ে বাগান রয়েছে ৪২০টির মত। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা হলো ১৩৬৮ মেট্রিকটন।
বাগান মালিক ইকবাল হোসেন বলেন, আমি সাতকানি জায়গা জুড়ে লিচু বাগান করেছি। প্রায় ৮০টির উপরে লিচু গাছ রয়েছে। কৃষি বিভাগের পরামর্শ নিয়ে ২০০৫ সালে আমার জায়গায় লিচু গাছ রোপণ করেছি।

তিন/চার বছরের মধ্যে ফলন ধরা শুরু হয়েছে। এ বছর লিচু ধরা থেকে শুরু করে পাকা পর্যন্ত আমার এক লাখ টাকা খরচ হয়েছে আর লিচু বিক্রি করতে পেরেছি চার লাখ টাকার।
বাগান মালিক আশিক মিয়া বলেন, ফলন আসার পর থেকে প্রতিটি গাছে নিয়মিত পরিচর্যা করতে হয়। ফল ধরার সময় বিভিন্ন পোকামাকড়ের হাত থেকে রক্ষার জন্য বিভিন্ন ওষুধ গাছে ব্যবহার করি।

এ বছর আমার ৪৫টি গাছে ষাট হাজার টাকার মত খরচ হয়েছে। ফলন ভাল হওয়াতে বিক্রি মাত্র শুরু হয়েছে। পাইকাররা আগে থেকেই গাছ চুক্তি লিচু কিনে ফেলে। পরে দূর-দূরান্ত থেকে খুচরা ব্যবসায়ীরা লিচু তাদের কাছ থেকে দরদাম করে কিনে নেয়।


জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ রবিউল হক মজুমদার বলেন, করোনার মধ্যেও নিয়মিত কৃষকদের পরামর্শ দিয়েছি। ফল ধরার সময় গাছে যাতে পোকামাকড় আক্রমণ না করতে পারে সময়ে সময়ে আমাদের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা নিয়মিত বাগানগুলো পরিদর্শন করেছেন এবং চাষিদের পরামর্শ দিয়েছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার ফলন ভাল হয়েছে। জেলায় এ বছর প্রায় ১৪ কোটির টাকার মত লিচু বিক্রি হবে। চাষিরাও ভাল দাম পাবে

এ জাতীয় আরও সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button