ভর্তি পরীক্ষায় রাবিতে শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে মেয়েকে নিয়ে রবিবার দিবাগত রাতে রাজশাহী আসেন শিউলি বেগম। মেয়েকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ভর্তি পরীক্ষা দেওয়াতে রাত ২টায় রাবিসংলগ্ন বিনোদপুর বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছেন তিনি। শহরে পরিচিত কেউ না থাকায় গতকাল সোমবার সকাল পর্যন্ত সেখানেই ছিলেন মা-মেয়ে। এদিন সকালেই ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

শিউলি বেগমের মতো আরো বেশ কয়েকজন বিনোদপুর বাসস্ট্যান্ডে ছিলেন রবিবার রাতে। রাজশাহীর মসজিদ, বাসস্ট্যান্ড ও রেলস্টেশনে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের আশ্রয় নিতে দেখা গেছে। শহরের আবাসিক হোটেল, শিক্ষার্থীদের মেসসহ সব জায়গা ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। তবে থাকার জায়গার ভোগান্তি উপেক্ষা করে গতকাল ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

শিউলি বেগম বলছিলেন, ‘ভেবেছিলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছলে কোনো একটা ব্যবস্থা হয়েই যাবে। কিন্তু পৌঁছতে অনেক রাত হয়। তাই বাসস্ট্যান্ডেই ছিলাম। সেখানে আমার মতো অনেকেই ছিলেন। মেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বে, এটাই স্বপ্ন।’

নীলফামারী থেকে ভর্তি পরীক্ষা দিতে এসেছেন আলমগীর ও তাঁর বন্ধু শাকিল। রবিবার রাতে রাজশাহীতে পৌঁছেছেন তাঁরা। কোনো জায়গা না পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের মহাসড়কের ফুটপাতে কাগজ বিছিয়ে রাত পার করেছেন। আলমগীর জানান, সেখানে তাঁর মতো অন্তত ১৫ জন ভর্তীচ্ছু রাত পার করেছেন। শেষমেশ পরীক্ষা দিতে পেরে তাঁরা খুশি।

তবে শিক্ষার্থীদের এ দুর্ভোগ লাঘবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছিল। ৯টি ছাত্রী হলের কমনরুম, রিডিং রুম ও টিভি রুমে নারী শিক্ষার্থীদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় জিমনেসিয়ামে অভিভাবকদের থাকার ব্যবস্থা হয়েছিল। এসব নির্ধারিত জায়গায় ঢুকতে রবিবার সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া ছিল। কিন্তু এই সময়ের মধ্যে অনেকেই পৌঁছতে না পারায় ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

রাজশাহী সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, রাজশাহীতে বিভিন্ন মেসে দেড় লাখের মতো শিক্ষার্থী ধারণক্ষমতা রয়েছে। শহরের ৬০-৬৫টি আবাসিক হোটেলে সর্বোচ্চ দুই হাজার মানুষ থাকতে পারে। তিন ইউনিটে ভর্তীচ্ছু এক লাখ ২৭ হাজার ৬৪৬ জনের মধ্যে গতকালের ইউনিটের পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন ৪৪ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী। সেই হিসাবে এই শিক্ষার্থীদের থাকার কোনো সমস্যা হওয়ার কথা ছিল না।

কিন্তু রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ শহরের বিভিন্ন শিক্ষপ্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় এসব মেস অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী দ্বারা পূর্ণ। সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের হল খোলা থাকলে ভর্তীচ্ছুরা মেসে থাকতে পারতেন। মূলত এ কারণেই এবারের ভর্তি পরীক্ষা ঘিরে এমন ভোগান্তি। মেস মালিক সমিতির সভাপতি এনায়েতুর রহমান জানান, হল বন্ধ থাকায় হলের শিক্ষার্থীরা মেসে থাকছেন। তাই সিটের সংকট দেখা দিয়েছে। অনেকে রাতে পৌঁছানোয় মেসে ঢুকতে পারেননি।

উল্লেখ্য, গতকাল সকাল সাড়ে ৯টা, দুপুর ১২টা ও বিকেল ৩টায় মোট তিন শিফটে ‘সি’ ইউনিটের (বিজ্ঞান) ভর্তি পরীক্ষা হয়। ভর্তীচ্ছু ৪৪ হাজার ১৮৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ১০ হাজার ৭৪১ জন অনুপস্থিত ছিলেন। আজ মঙ্গলবার ‘এ’ ইউনিটের এবং আগামীকাল ‘বি’ ইউনিটের পরীক্ষা হবে।

উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার গতকাল পরীক্ষাকেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন। তিনি বলেন, ‘ভর্তি পরীক্ষার সময় আবাসনের সমস্যা হয়। ভোগান্তির কথা ভেবে ছাত্রী হলগুলোতে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আর মেসগুলোতে ভর্তীচ্ছুরা যাতে বিনা মূল্যে থাকতে পারে,  সেই  ব্যবস্থা করা হয়েছে

এ জাতীয় আরও সংবাদ

Back to top button