মহামারী করোনার মধ্যেও থেমে নেই বরগুনার যুব রেড-ক্রিসেন্টের সদস্যরা।

 

আমি ৫২’র ভাষা আন্দোলন দেখিনি,
আমি ৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধ দেখিনি,
আমি মহামারী করোনায় দেখেছি বরগুনা যুব রেড- ক্রিসেন্টের কিছু সাহসী করোনা যোদ্ধাদের।
কেবল একটিমাত্র ফোন কল। নির্ধারিত কোন সময় বাঁধা নেই। দিন আর রাতকে এক করে ছুটে চলেছেন জেলার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। এমন কিছু আত্মত্যাগী রেডক্রিসেন্ট যুব সদস্যরা স্বপ্রণোদিত হয়ে মানবতার দায়িত্ব পালন করে চলছে প্রতিনিয়ত। কেবল প্রশাসনের সাথে করোনা সচেতনতায় কিংবা ত্রান কার্যক্রমেই নয়, বরং করোনার টিকা প্রদানেও সহযোগিতা করে চলছে এ যুব সদস্যরা। এছাড়াও নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিনিয়ত করোনা রোগীদের জন্য অক্সিজেন সরবরাহ করে চলছে এই সদস্যরা।

রেড ক্রিসেন্ট এর প্রতিষ্ঠাতা হেনরি ডুনান্ট এমন একটি সংগঠনের জন্ম দিয়ে গেছেন, যা আজও বিশ্বজুড়ে প্রবাহমান।এই সংগঠনটি মানবতার সেবায় প্রতিনিয়ত নিয়োজিত। সংগঠনটির প্রত্যেকটি সদস্য নিজের জীবনকে উৎসর্গ করতেও সদা প্রস্তুত।
বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট বরাবরই বন্যার্তদের পাশে দাঁড়িয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতা করে গেছেন। এ সংগঠনটি আজ কেবল বন্যার্তদের মাঝে আটকে নয় বরং করোনার শুরু থেকে থেকেছেন মৃত ব্যক্তির কবর কিংবা সৎকারের কাজে। যেখানে নিজের পরিবারের কোনো সদস্য যেতে নারাজ ছিল অথচ সেখানে রেড ক্রিসেন্টের এই তরুণ সদস্যরাই করোনা রোগীর পাশে থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।

করোনায় মৃত্যু বরণকারী ব্যক্তিদের দাফন কিংবা সৎকারের কাজের গোসল করানো থেকে শুরু করে লাশ বহন করে কবরে রাখা পর্যন্ত প্রথম বরগুনা রেড ক্রিসেন্টের যুব সদস্যরাই শুরু করেছিল। পরবর্তীতে রেড ক্রিসেন্ট এর সদর দপ্তর থেকে বিষয়টিকে বাহবা জানিয়ে সারা বাংলাদেশ এ কর্মতৎপরতা চালু করেন।

বিশ্বনন্দিত এ বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট আজ প্রতিটি মানুষের মুখে। রেডক্রিসেন্ট মানেই অসহায় মানুষটির দীর্ঘ নিঃশ্বাস সমাপ্তি ঘটা। রেড ক্রিসেন্ট মানেই একটুখানি সহযোগিতার হাত পাওয়া। রেড ক্রিসেন্ট মানেই চোখ বন্ধ করে পথচলা। এ যেন নির্ভরশীল ও বিশ্বাসযোগ্য একটি স্থান।
দোয়া রইল সকল সেচ্ছাসেবী এবং করোনা যোদ্ধাদের জন্য যারা নিজেদের জীবন বাজি রেখে প্রতিনিয়ত ছুটছে অপরের কল্যানের জন্য

এ জাতীয় আরও সংবাদ

Back to top button