যে কাজগুলো একজন মানুষের জীবনে ব্যর্থতার জন্য দায়ীঃ

প্রতিটি মানুষ চায় জীবনে সফল হতে। সফলতা ছাড়া জীবন অর্থহীন মনে হয়। তবে এর জন্য নিজেকে যোগ্য হিসেবে গড়ে তোলা অনেক বেশি প্রয়োজন। এতো সহজে সফলতা মানুষের হাতে এসে ধরা দেয় না। এর জন্য প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা, দিক নির্দেশনা এবং কঠোর পরিশ্রম।

কারণ মানুষ তার নিজের সফলতা নিজেই গড়ে তোলে, কেউ তার হাতে এনে দিতে পারবে না। তাই এই যাত্রাটা শুধু একার। এর আগে নিজেকে সফলতার ঐ শিখরে দেখতে চাইলে আপনাকে পরিকল্পনা থেকে সফলতা এই পথটা সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান অর্জন করতে হবে। এর সম্পর্কে সব কিছুই জানতে হবে।

তাহলেই এই পথটা সহজে অতিক্রম করা যায়। তবে আপনার সঠিক পরিকল্পনা যেমন আপনাকে সফলতার প্রান্তে নিয়ে যেতে পারে তেমনি আপনি কিছু ভুল পদক্ষেপ আপনাকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য থেকে বহু দূর সরিয়ে দিতে পারে। তাই সফলতার পথে যত দ্রুত এগিয়ে যান না কেন কোনো ভুল পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না।

সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। এমন কিছু কাজের বা পদক্ষেপের সম্পর্কে বিস্তারিত জানবো আজ, যেগুলোর জন্য একজন মানুষ তার কাঙ্ক্ষিত সফলতা অর্জন করতে পারে না। ব্যর্থতার দায় বয়ে বেরায় আজীবন।

১। পর্যাপ্ত পরিকল্পনার অভাব: যেকোনো কাজের প্রথম ধাপ হলো পরিকল্পনা। আপনি আপনার কাজে কি করতে চান? কতদূর এগিয়ে যেতে চান? কীভাবে আপনার কাজটি সম্পন্ন হবে তা আপনাকে কাজের শুরুতে পরিকল্পনায় নির্ধারণ করে নিতে হবে। আপনি কোন পথে গেলে সহজ হবে কাজ আপনার জন্য বা কোনো পরিকল্পনা সফল না হলে তাৎক্ষণিক কী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন তা আগে থেকেই নির্ধারণ করে রাখতে হবে।

২। সহজে হাল ছেড়ে দেওয়া: মানুষ স্বভাবতই নতুন কোনো বিষয়ে সহজে আকৃষ্ট হয়ে যায়। এই আগ্রহ থেকেই হঠাৎ কিছু পদক্ষেপ নিয়ে থাকে। তবে তার সেই সিদ্ধান্তে বেশি সময় টিকে থাকতে পারে না। এছাড়া যেহেতু সফলতার কোনো নির্দিষ্ট সময় নেই কতদিনে তা আপনার কাছে আসবে বা আসবেও কি না। তাই অনেকে হাল ছেড়ে দেয় এই ভেবে যে তারা বুঝি সফলতা পাবে না। তবে কোনো কাজের ক্ষেত্রেই এটা করা উচিৎ না। কারণ আপনি যদি সঠিক পদক্ষেপ নিয়ে এগিয়ে যেতে থাকেন তাহলে একদিন সফলতা আপনার কাছে আসবেই।

৩। রিস্ক না নেওয়া: কোনো কাজের ক্ষেত্রে বলা হয় ঝুকি হলো গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। কারণ যেখানে ঝুকি নেই সেখানে সফলতাও অনেক দূরে। এজন্যই ঝুকি নিতে ভয় পেলে চলবে না। তবে ঝুকির মধ্যেও পার্থক্য আছে। এমন ঝুকি নেওয়া যাবে না যেটাতে কোনো সম্ভাবনা নাই। ঝুকি নিলেও সব দিক বিবেচনা করে বুঝে শুনে তারপর নিতে হবে যেন সফল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। ভাগ্যের উপর নির্ভর করে ঝুকি নেওয়া যাবে না। যেখানে সম্ভাবনা আছে সেখানেই এগিয়ে যেতে হবে। তবে সঠিক সময়ের সঠিক রিস্ক মানুষকে এক ধাপে অনেকাংশে এগিয়ে নিয়ে যায়।

৪। রাতারাতি সফল হতে চাওয়া: আমরা যেকোনো কাজ শুরু করার পরেই সফলতা পেতে চাই। তাই আমাদেরকে যেকোনো কাজের পূর্বে এটা মাথায় রাখতে হবে সফলতা কোনো রাতারাতি হওয়া বিষয় না। এটা সময়ের সাথে সঠিক সময়ে চলে আসবে। তাই জলদি সফল হতে গিয়ে কোনো ভুল পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না। তারাহুরার কাজ সাধারণত খারাপ হয়। এজন্য জলদি সফল হতে গেলে উলটো হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি থাকে। এছাড়া যদি কেউ সফলতা পেয়েও যায় তাহলেও তা বেশি দিন ধরে রাখা যায় না। এজন্য সফলতার পথে তারাহুরা না করে নিজের সর্বোচ্চ দিয়ে কাজ করে যেতে হবে। তাহলেই সফলতা জলদি আসবে।

৫। অহংকার করা: সফলতার পথে কিছু পদক্ষেপও অনেকের মাঝে অহংকারের উৎপত্তি ঘটায়। কিন্তু এই অহংকার পতনের মূল। আপনি আপনার কাজে যতটা সফল হোন না কেন তাতে আপনার অন্যকে অহংকার দেখানো সোভা পায় না। যে যার জায়গায় সফল অথবা ব্যার্থ হতে পারে এর সাথে আপনার সফলতার কোনো সম্পর্ক নেই। যখন কেউ তার কাজের প্রতি মনোযোগ কমিয়ে দিয়ে সফলতার অহংকার নিয়ে চলে তখন তার কাজের মাঝে ঘাটতি চলে আসে তাই তার সফলতার মাঝেও পতনের আভাস চলে আসে। এজন্যই কখনো অহংকার করা যাবে না। নাহলে আপনার সকল পরিশ্রম মুহুর্তেই বৃথা হয়ে যেতে পারে।

পরিশেষে এতটুকুই বলা যায়, মানুষ অনেকভাবেই সফল হতে পারে তবে তার সফলতার সিঁড়ি একটি মাত্র ভূল পদক্ষেপ এর মাধ্যমে শেষ হয়ে যেতে পারে। তাই এই কাজগুলো করার বেলায় আমরা কয়েকবার ভেবে নিবো। সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো যেন কখনোই এমন কিছু না করতে হয় যা আমাদের জীবনের ব্যর্থতার জন্য দায়ী হয়ে থেকে যায়।

এ জাতীয় আরও সংবাদ

Back to top button