রংধনু। পর্বঃ ২

রংধনুতে রঙের ভেতর বাহির

রংধনুতে সবসময় লাল রঙ রংধনু-বৃত্তের বাইরে অবস্থান করে। আর বেগুনি রঙ ভেতরের দিকে থাকে। বাকি রঙগুলোও একটি নির্দিষ্ট ক্রমানুসারে সাজানো থাকে। সবসময় এই সজ্জার এদিক সেদিক হয় না। কিন্তু কেন? কেন এত নিয়মতান্ত্রিকতা?

আসলে এটা খুবই সহজ ব্যাপার। প্রতিটি রঙেরই একটি নির্দিষ্ট তরঙ্গ দৈর্ঘ্য আছে। সাতটি রঙকে তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের ক্রমানুসারে সাজালে এই ক্রমটি পাওয়া যাবে- বেগুনী ► নীল ► আসমানী ► সবুজ ► হলুদ ► কমলা ► লাল। তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের পরিমাণ কম বেশি হলে প্রিজমের মধ্যে তাদের বেঁকে যাবার পরিমাণও কম বেশি হয়। মানে বেঁকে যাবার দিক থেকে সাতটি আলোই আলাদা। পদার্থবিদ্যার নিয়ম সবখানে সবসময় এক। তাই সবসময় লাল রঙ রংধনুর বৃত্তের বাইরে অবস্থান করে। আর বেগুনী রঙ বৃত্তের ভেতরের দিকে অবস্থান করে। তরঙ্গদৈর্ঘ্যের ক্রমানুসারে প্রতিবার বিশ্লিষ্ট হয়ে একই ক্রম-রঙের রংধনু সৃষ্টি করে।

বৃষ্টি হলেই কি রংধনু হবে?

হ্যাঁ। নিশ্চয়ই হবে। তবে তার জন্য সূর্যের উপস্থিতি থাকা লাগবে। কিন্তু তা দেখা যাবে কিনা তা নির্ভর করবে দর্শকের সাপেক্ষে সূর্য উপযুক্ত কোণে অবস্থান করছে কিনা তার উপর। অর্থাৎ অবস্থানগত কারণে রংধনু নাও দেখা যেতে পারে, যদিও তখন রংধনু উৎপন্ন হয়েছে ঠিকই। ভালভাবে রংধনু দেখতে হলে আমাদের অবস্থান এমন হতে হবে যেন সূর্য আমাদের পেছনে আর রংধনু সামনে থাকে।

এখানে একটা মজার ব্যাপার আছে। ধরা যাক একজন ব্যক্তি তার বন্ধুর সাথে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছে। সে হিসেবে তাদের চোখের অবস্থান আলাদা। সুতরাং দুটি চোখের উৎপন্ন কোণ ভিন্ন ভিন্ন। একজন যে রংধনু দেখছে অপরজন সেটা দেখতে পাচ্ছে না। সে দেখছে অন্যটি। তবে এদের দেখতে একই দেখায়।

যে বৃষ্টিফোঁটা হতে আলো একজনের চোখে এসে পড়ছে তারই পাশের বৃষ্টিফোঁটা হতে আলো পড়ছে অন্য বন্ধুটির চোখে। কেউ যদি সামান্যও নড়ে তাহলে তার রঙধনু পাল্টে অন্য রংধনু দেখবে। কিন্তু দুটির সজ্জা একই হওয়াতে আগেরটি হতে কোনো পার্থক্য ধরা পড়বে না। এর মানে হচ্ছে, রংধনু উৎপন্ন হয় হাজারে হাজার। এ যেন হাজারে কোটিতে রংধনু দেখে না মোর আঁখি।

এ জাতীয় আরও সংবাদ

Back to top button