ল্যারিনজাইটিস কি এবং কেন হয়?

কেমন লাগে যখন হঠাৎ করে আমাদের কণ্ঠস্বর পরিবর্তন হয়ে যায়, কথা বলতে অসুবিধা হয় এবং তা স্বাভাবিক রূপে ফিরে আসার জন্য আমরা অপেক্ষা করতে থাকি? নিশ্চয়ই খুব অস্বস্তি লাগে। কিন্তু কেন এই কণ্ঠস্বর পরিবর্তন হয়ে যায় এবং তা আবার স্বাভাবিক রূপে ফিরে আসে? এর অন্তরালে আসলে কী ঘটে থাকে মূলত আমাদের কণ্ঠের সাথে? এই লেখাটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন৷ আশা করি, উত্তর পেয়ে যাবেন।

আমাদের কণ্ঠ হঠাৎ পরিবর্তন হয়ে যাওয়ার এবং কথা বলতে সমস্যা হওয়ার অন্যতম একটি কারণ হলো ল্যারিনজাইটিস। ল্যারিনজাইটিস মূলত বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ, শরীরের যান্ত্রিক প্রদাহ ও ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের কারণে হয়ে থাকে।

এই ল্যারিনজাইটিসকে তিনভাবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয় যেমনঃ সরল, ডিপথেরাইটিক এবং টিউবারকুলাস বা সিফিলিটিক ল্যারিনজাইটিস।

সরল ল্যারিনজাইটিস সাধারণত ঠান্ডা ও অনুরূপ সংক্রমণের সাথে জড়িত। এক্ষেত্রে ক্লোরিন গ্যাস ও সালফার ডাইঅক্সাইড জাতীয় নানান নন-ব্যাকটেরিয়াল এজেন্ট তীব্র প্রদাহ সৃষ্টি করে। সাধারণত স্বরযন্ত্রের মিউকাস মেমব্রেন প্রধান সংক্রমণের স্থান।

এটি রক্ত ও শ্লেষ্মা জাতীয় পদার্থে পরিপূর্ণ হয়ে ফুলে ওঠে এবং এতে অনেক প্রদাহ সৃষ্টিকারী কোষও থাকে। এসময় এপিগ্লটিস(যেটা মূলত কোনোকিছু গলাধঃকরণের সময় স্বরযন্ত্রকে বন্ধ করে দেয়) ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস দ্বারা সংক্রমিত হতে পারে। ফলে স্বরযন্ত্রের কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটতে পারে এবং শ্বাসরোধের মতো অবস্থাও সৃষ্টি হতে পারে।


এছাড়াও অতিরিক্ত ধূমপান, মদ্যপান এবং ভোকাল কর্ডের অত্যধিক ব্যবহারের ফলে দীর্ঘস্থায়ী ল্যারিনজাইটিস সৃষ্টি হতে পারে। এতে করে মিউকাস মেমব্রেন শুষ্ক হয় ও পলিপ দিয়ে আবৃত হয়ে যায়। স্বরযন্ত্রের প্রাচীর ঘন ও স্ফীত হয়ে ওঠে।

এবার চলুন, জেনে নেওয়া যাক ডিপথেরাইটিক ল্যারিনজাইটিস সম্পর্কে।
ডিপথেরাইটিক ল্যারিনজাইটিস গলার উপরের অংশ থেকে ল্যারিনক্স পর্যন্ত ডিপথেরিয়া ছড়িয়ে পড়ার কারণে হয়। এখন মনে প্রশ্ন জাগতে পারে যে, ডিপথেরিয়া কী?


ডিপথেরিয়া হলো মূলত এক ধরনের মারাত্মক সংক্রমণ যা Corynebacterium diptheriae প্রজাতির ব্যাকটেরিয়ার কারণে ঘটে।

টিউবারকুলাস ল্যারিনজাইটিস হলো একটি সেকেন্ডারি ইনফেকশন যা ফুসফুসের প্রাথমিক স্থান থেকে ছড়িয়ে পড়ে। এক্ষেত্রে ল্যারিনক্স টিস্যুতে টিউবারকুলার নোডুল- এর বৃদ্ধি ঘটে। এই টিস্যুতে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের পরে মারা যায় এবং পৃষ্ঠেও আলসার ছড়িয়ে দেয়। ফলে, এপিগ্লোটিস ও ল্যারিঞ্জিয়াল কার্টিলেজের চূড়ান্ত ধ্বংস হতে পারে। বুঝতেই পারছেন, কী ভয়াবহ ব্যাপার!

সিফিলিটিক ল্যারিনজাইটিস হলো সিফিলিসের খুব জটিলতার মধ্যে একটি। সিফিলিসের দ্বিতীয় পর্যায়ে ঘা বা মিউকাস প্যাচ তৈরি হতে পারে। রোগটি তৃতীয় পর্যায়ে অগ্রসর হওয়ার সময় টিস্যু ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় এবং তাতে দাগ তৈরি হয়৷ দাগগুলো স্বরযন্ত্রকে বিকৃত করতে পারে, কণ্ঠনালিকে ছোট করতে পারে এবং কণ্ঠের স্থায়ী কর্কশতা তৈরি করতে পারে।

ল্যারিনজাইটিস এর লক্ষণ–
১) কণ্ঠের কর্কশতা
২) কথা বলতে সমস্যা হওয়া
৩) গলা ব্যথা
৪) হালকা জ্বর

এমন অবস্থায় কথা যত সম্ভব কম বলা উচিত। কণ্ঠকে রেস্ট দেওয়া উচিত। জোর করে ও চিৎকার করে কথা বলার চেষ্টা না করে শান্ত থাকা উচিত। প্রচুর তরল পান করা এবং সম্ভব হলে তা গরম করে পান করা উচিত। ধূমপান ও অ্যালকোহল পান থেকে বিরত থাকা উচিত। অবস্থা খুব খারাপ হলে, দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে।

এ জাতীয় আরও সংবাদ

Back to top button