শ্রদ্ধায় মাথা নীচু হয়ে যায়।

ক্ষোভের আগুনে ঠোঁট কামড়ে ধরি…. চোখ ভিজে যায় কষ্টে…. ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও কিছু করতে পারছিনা বলে খুব লজ্জা লা‌গে, খুব বেশী লজ্জা লা‌গে! আজ তাঁর হা‌তের ছোঁয়ায় স্বাধীন হওয়া এই দেশে আমি মাথা উঁচু করে দাঁপিয়ে বেড়াই… আনন্দে মাতি… অপব্যায়ের পথে গর্বিত পা ফেলে এগিয়ে চলি.. অথচ এ বীর মুক্তিযোদ্ধা ৯২ বছর বয়সে পাঁপড়ভাজা বিক্রয় করে জীবনযাপন করেন, মৃদুপায়ে হেঁটে হেঁটে রোদ-বৃষ্টি- ঝড় মাথায় নিয়ে, পাঁপড়ের বস্তাটার সাথে।

জাতির একজন শ্রেষ্ঠসন্তান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সামাদ প্রত্যেকদিন পাঁপড়ভাজা ফেরি করে বেড়ান ঢাকার তিনটি থানা এলাকায়। জীবন যুূদ্ধে অকুতোভয় এই মহান মুক্তিযোদ্ধা যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছেন ঠিকই কিন্তু নিজে আজ ও পরাধীন। ৯২ বয়সেও হার মানেননি তিনি জীবন যুদ্ধে। বিশ্বব্যাপী দাঁপিয়ে বেড়ানো করোনা ভাইরাসও তাঁকে দমাতে পারেনি। এখনো রোজ পাঁপড় নিয়ে চষে বেড়ান পেটের দায়ে।

বয়সের ভারে ন্যুব্জ হয়েও মাথায় বয়ে বেড়ান নিজের বোঝা…. তবু নিজেকে বানাতে চাননা দেশের বোঝা… নিতে চাননা হাত পেতে কোনো সাহায্য… এই করোনা কালেও। নিজের ব্যক্তিত্ব, মান সম্মান খুঁইয়ে কারো সাহায্য চাইতে রাজী নন এই মহান মানুষটি। আর্থিক সহযোগিতার কথা বলতেই দূর আকাশের দিকে শূণ্যদৃষ্টিতে তাকিয়ে হাসিমুখে তিনি বলেন, “যেই হাতে অস্ত্র চালায়ে দেশ স্বাধীন করছি….সেই হাতে ভিক্ষা করবো না বাজান!! আমি কারো দয়াও চাই না।

এই খুব ভালো আছি।” তাঁর প্রয়োজন আর্থিক মুক্তি…. যাতে সামনের আর যে কয়টা দিন তিনি বেঁচে থাকবেন একটু শান্তিতে থাকতে পারেন… একটু সুস্থ থাকতে পারেন…একটু নির্ভয়ে থাকতে পারেন… আর দু’চোখে আনন্দাশ্রু নিয়েই শেষবারের মতো চোখদু’টো বুজতে পারেন…এই দেশ তাকে কিছু না দিলেও দেশের মানুষ তাকে শেষ বয়সে দু’দন্ড শান্তির পরশ দিয়েছে ক্লান্তি মুছে দিয়ে।

জানিনা একা একা কতদূর যেতে পারবো… তবুও আমি তাঁর জন্য ফান্ড তৈরি করার চেষ্টা করছি, যাতে সামনের বেঁচে থাকা দিনগুলোতে নিয়মিত ভাবেই প্রতিমাসে তাঁর যাবতীয় খরচ বহন করা যায়। আমি জানি.. ভালো করেই জানি… বিন্দু বিন্দু জলের দ্বারাই সিন্ধু তৈরি হয়… আমাকে বিন্দু বিন্দু জল সংগ্রহ করেই একটা সিন্ধু গড়ে তুলতে হবে। এই মহান মানুষটির জন্য কিছু করতে না পারার বেদনা নিয়ে আমি এ পৃথিবী ছেড়ে যেতে চাইনা… কিছুতেই না।

এ জাতীয় আরও সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button