সব কীটনাশকের বিরুদ্ধে অপ্রতিরোধ্য তেলাপোকা

“তেলাপোকার আধিপত্য” কখনো শুনেছেন কি এই কথাটি? হাস্যকর হোক কিংবা দুঃস্বপ্ন – সুদূর ভবিষ্যতে এমন কিছুর সাথে আমাদের পরিচয় কিন্তু হয়ে যেতেই পারে।

German Cockroach (Blattela germina) হলো এমনই একটি প্রজাতি যা ক্রমান্বয়ে শক্তিশালী জাতে পরিণত হচ্ছে। বেশিরভাগ কীটনাশকই এখন এই প্রজাতির তেলাপোকার সামনে হার মেনেছে। আর এক ধাপ পেরোলেই পৃথিবীব্যাপি জয় হবে এর।

Source: en.wikipedia.org

গবেষণায় দেখা গেছে যে এই প্রজাতি এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে পা রাখার সময়ই প্রতিরোধ ক্ষমতা উত্তরোত্তর বাড়াতে থাকে৷ এমনকি cross resistance এও এরা সক্ষম। যার অর্থ একটি কীটনাশক একবার এদের উপর ব্যবহার করার পর এটির প্রতি তাদের সহ্যক্ষমতা গড়ে ওঠে এবং পরবর্তীতে এমন ধরণের কীটনাশক প্রয়োগে এদের দূর করা আর সম্ভব হয়ে ওঠে না।

Purdue University এর পতঙ্গবিদ Michael Scharf এই বিষয়টি নিয়ে যথেষ্ট বিস্ময় প্রকাশ করেন যে এত দ্রুত এই ক্ষমতা কীভাবে গড়ে উঠতে পারে।

বিজ্ঞানীরা Abamectinboric acid এবং thiamethoxam এই তিনটি কীটনাশক ৬ মাস ব্যাপী বিভিন্ন তেলাপোকার উপর প্রয়োগ করেন। উনারা প্রথম তিন মাসে এই তিনটি কীটনাশকই এক মাস করে প্প্র পর ব্যবহার করেন এবং তার পরের তিন মাস এই ঘটনারই পুনরাবৃত্তি করেন।

Source: njaes.rutgers.edu

পরবর্তীতে তারা দুইটি কীটনাশক ৬ মাস ব্যাপী বিভিন্ন ভাবে ব্যবহার করেন। তৃতীয় পর্যায়ে একটি কীটনাশক ব্যবহারের মাধ্যমে তেলাপোকাগুলোর সহনশীলতা পরীক্ষা করেন।

বেশ কয়েক ধরনের পরীক্ষার পরেও তেলাপোকার আকার এবং পরিমাণ কমাতে বিজ্ঞানীরা সফল হননি। একটি কীটনাশক ব্যবহারের পরেও এদের সংখ্যা প্রায় ১০% বেড়ে গিয়েছে এদের ভালো প্রতিরোধ ক্ষমতা থাকায়। দুইটি কীটনাশক ব্যবহারেও এ প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়নি। তিনটি কীটনাশক ব্যবহারে সংখ্যা হয়ত কিছুটা কম থাকে তবে একেবারে কমানো সম্ভব নয়।

একটি তেলাপোকা তার তিন মাসের জনন প্রক্রিয়ায় প্রায় ৫০টি তেলাপোকার জন্ম দেয়।  এর মধ্যে অল্প কিছু সংখ্যক তেলাপোকার প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি হলেও তা তেলাপোকার সংখ্যা আবার অতি মাত্রায় বাড়ার জন্য যথেষ্ট।

এই তেলাপোকাগুলো বিভিন্ন রোগের বাহক হিসেবে কাজ করে। E.coli, salmonella, শ্বাসকষ্টের কারণ Allergin প্রভৃতি জীবাণু বহন করে আনে এরা।

তেলাপোকার এই প্রজাতি যেভাবে কীটনাশক প্রতিরোধী হয়ে উঠছে, শুধু কীটনাশক স্প্রে করে একে নির্মূল করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। তাই পরিপূর্ণ স্বাস্থ্য সচেতনতা, ভ্যাকুয়াম, ট্র‍্যাপ ইত্যাদি পদ্ধতিও ব্যবহার আবশ্যক। আর এর মাধ্যমেই বিভিন্ন রোগ ব্যাধি থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব৷

এ জাতীয় আরও সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button