সামনে আবারও আসতে পারে কঠোর লকডাউন

দেশের সার্বিক অর্থনীতি এবং জনসাধারণের কথা চিন্তা করে লকডাউন শীথিল এবং সীমিত মাত্রায় সব কিছু খুলে দিলেও জনসাধারণ মানছে না সামাজিক দূরত্ব। বাস স্টান্ড, রেল স্টেশন, মার্কেট বাজার এবং চায়ের দোকানে উপচে পড়া ভিড় থেকেই বোঝা যায় মানুষ কতটা সচেতন। গবেষকরা বলছে এভাবে চলতে থাকলে করোনা ভয়াবহ আকার ধারন করতে পারে। এমনকি দেশের ৮০% করোনায় আক্রান্ত হতে পারে। এমনটাই মনে করেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের করোনা শনাক্তকরণ কিট উদ্ভাবক দলের প্রধান বিজ্ঞানী ড. বিজন কুমার শীল।।

করোনা ভাইরাসের সংক্রমনের হার অন্যান্য ভাইরাসের তুলনায় অনেক বেশী। ইটালি আমেরিকা, ব্রাজিলের মতো বাংলাদেশেও যদি করোনা ভয়াবহ আকার ধারণ করে তবে বাংলাদেশের মতো তৃতীয় অর্থনীতির দেশের পক্ষে সেটা মোকাবেলা করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হবে। ড. বিজন কুমার শীল এর মতে ইতিমধ্যে বাংলাদেশের 30 থেকে 40 শতাংশ মানুষ কারনায় আক্রান্ত হয়েছে। অনেকেই হয়ত বুঝতেই পারছে না। করোনা আক্রান্ত হয়েছেন কিন্তু তার মধ্যে কোনো লক্ষণ প্রকাশ পায়নি কিন্ত তার মাধ্যমে অন্য সকলের করোনা ছড়াচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে করোনা অতি শীঘ্রই ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। যা আমাদের অর্থনৈতিক বিপর্যয় এবং অর্থনৈতিক মন্দার কারণ হতে পারে।

গত বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য বিষয়ক একটি ভিডিও কনফারেন্সে “রিসার্জেন্ট বাংলাদেশ: রোডম্যাপ টু রিকভারি” শিরোনামের একটি সংলাপে উন্নয়ন গবেষক আহসান এইচ মনসুর, এমসিসিআই সভাপতি ব্যারিস্টার নিহাদ কবির, ডিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি আবুল কাশেম খান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, সাবেক মুখ্য সচিব আব্দুল করিম ও সিপিডির সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমানসহ আরও কয়েকজন অংশগ্রহণ করেন। বাংলাদেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে উক্ত কনফারেন্সে অংশগ্রহণকৃত সকলেই পুনরায় কঠোর লকডাউন দেওয়ার প্রস্তাব করেন। এ সম্পর্কে নিহাদ কবির বলেন আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি আবার যদি পুনরায় ১৫ থেকে ২০ দিনের লকডাউন দেওয়া যায় তবে ভয়াবহ করোনা সংক্রমন হার অনেকটাই কমে আসবে। এবং যারা ইতিমধ্যে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন তাদের থেকে নতুন করে কারো করোনা সংক্রমন হবে না।তিনি আরো বলেন সাধারণ ছুটির মতো বিভ্রান্তিকর কোনো তথ্য না দিয়ে অত্যন্ত কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে। এছাড়া করনা একটি ব্যয়বহুল চিকিৎসা। এর রোগ নির্ণয় এবং ওষুধ অত্যন্ত ব্যয়বহুল। এই বিপুল জনগোষ্ঠির করোনা চিকিৎসা বাংলাদেশ সরকারের জন্য অত্যান্ত চ্যালেন্জিং হয়ে দাড়াবে। তাই এখনই সময় উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করে সরকার এবং জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় করোনা প্রতিরোধে সবাইকে এগিয়ে আসা। এজন্য সরকারের দীর্ঘমেয়াদি এবং কঠোর পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

এছাড়া ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারম্যান আহসান মনসুর বলেন আমরা যদি অতি দ্রুত করোনা রোগ বিস্তার রোধ করতে না পারি তবে বৈশ্বিক বাজার ধরতে পারবো না। চীন, জাপান, ইতালির মতো দেশ এখন উপযুক্ত বিনিয়োগ বাজার খুজছে।বাংলাদেশ যদি অতি দ্রুত করোনা প্রতিরোধ করতে পারে তবে বাংলাদেশের সামনে একটি অতি সম্ভাবনাময় সময় অপেক্ষা করছে। এজন্য আর কোনো বিভ্রান্তি নয়।

পুনোরায় ১০-১৫ দিনের কঠোর লকডাউন কর্মসূচি গ্রহনের মাধ্যমে করোনা সংক্রমণ অনেকাংশেই নিয়ন্ত্রনে আসবে বলে মনে করেন উক্ত কনফারেন্সে অংশগ্রহণকৃতত ব্যাক্তিবর্গরা। উক্ত বিষয়গুলো বাংলাদেশ সরকার এবং স্বাস্হ্য মন্ত্রণালয়কে বিশেষভাবে বিবেচনা করার জন্য অনুরোধ করেন তারা।

এ জাতীয় আরও সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button