স্বাদে সুস্বাদু না হলেও নানান গুণে ভরপুর ”করলা”

করলার তেতো স্বাদ সবার পছন্দের না হলেও এর পুষ্টি গুণ অনেক । আমরা বেশিরভাগ মানুষই করলা বা উচ্ছে তরকারি, ভাঁজি এবং ভর্তা হিসাবে খেয়ে থাকি। নিয়মিত করলা খাওয়ার অভ্যাস করলে পাওয়া যায় প্রচুর পুষ্টি উপাদান সেই সঙ্গে নানান রকমের রোগ বালাই থেকে মুক্তি। করলায় পর্যাপ্ত পরিমাণে রয়েছে ক্যালশিয়াম এবংপটাশিয়াম।

করলায় প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, এন্টি অক্সিডেন্ট, লৌহ এবং ফাইবার রয়েছে। যা সাধারণত বার্ধক্য ঠেকিয়ে রাখতে সহায়তা করে থাকে। খাদ্যোপযোগী প্রতি ১০০ গ্রাম করলায় আছে জলীয় অংশ ৯২.২ গ্রাম, শর্করা ৪.৩ গ্রাম, আমিষ ২.৫ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ১৪ মিলিগ্রাম, আয়রণ ১.৮ মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি১- ০.০৪ মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি২- ০.০২ মিলিগ্রাম, ক্যারোটিন ১৪৫০ মাইক্রোগ্রাম ও খাদ্যশক্তি ২৮ ক্যালরি।

প্রতি ১০০ গ্রাম করলায় পাবেন খাদ্যশক্তি ১৭ কিলোক্যালরি, কার্বোহাইড্রেটস ৩.৭০ গ্রাম, প্রোটিন ১ গ্রাম, খাদ্যআঁশ ২.৮০ গ্রাম, ফোলেট ৭২ মাইক্রো গ্রাম, নিয়াসিন ০.৪০০ মিলিগ্রাম, ভিটামিন এ ৪৭১ আইইউ, ভিটামিন সি ৮৪ মিলিগ্রাম, সোডিয়াম ৫ মিলিগ্রাম, পটাসিয়াম ২৯৬ মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম ১৯ মিলিগ্রাম, ম্যাগনেসিয়াম ১৭ মিলিগ্রাম।

প্রায় সারাবছর বাজারে করলা পাওয়া যায়। করলা সাধারণত সহজলভ্য মূল্যেই বাজারে কিনতে পাওয়া যায়।পুষ্টিগুণের দিক দিয়ে বিচার বিবেচনা করলে দেখা যায় করলায় রয়েছে অনেক গুণ। বড় ধরনের রোগ সারাতে করলায় লুকিয়ে আছে অসাধারণ শক্তি।

করলা বা উচ্ছে ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রন করতে সাহায্য করে।করলা ইনসুলিন রেজিস্টেন্স কমিয়ে রক্ত থেকে শরীরের কোষগুলোর সুগার গ্রহণ করার ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয় । তাছাড়া করলা শরীরের কোষের ভিতর গ্লুকোজের বিপাক ক্রিয়াও বাড়িয়ে দেয়। ফলে রক্তের সুগার কমে যায়। ডায়াবেটিসের রোগীরা রক্তে চিনির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ রাখতে নিয়মিত খাদ্য তালিকায় করলা রাখতে পারেন।

এছাড়া করলা রক্তের দূষিত উপাদান দূর করে রক্তকে বিশুদ্ধ রাখে। তাই নিয়মিত করলা খেলে রক্তের দূষিত উপাদান দূর হয়ে যায় এবং এলার্জি জনিত সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

যাদের চোখের সমস্যা আছে তারা করলা খতে পারেন।কারণ,করলায় রয়েছে প্রচুর পরিমানে বিটা ক্যারোটিন বা ভিটামিন এ। দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে বিটা ক্যারোটিন খুবই উপকারী। তাই যাদের চোখের সমস্যা আছে তাঁরা নিয়মিত করলা খেলে চোখ ভালো থাকবে।
নিয়মিত করলা খেলে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়। করলার ভিটামিন সি ত্বক ও চুল ভালো রাখে। এটি শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেয় এবং রক্ত পরিষ্কার করে। করলার সবচেয়ে বড় গুণ এটি বার্ধক্য ঠেকিয়ে রাখতে সাহায্য করে। তাই করলা খেয়ে ধরে রাখুন তারুণ্য।

যে কোনো ধরনের সংক্রমণের বিরুদ্ধে শরীরকে লড়তে সাহায্য করে করলা। নিয়মিত করলা খেলে সর্দি,কাশি, মৌসুমী জ্বর ও অন্যান্য ছোটখাটো সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।করলায় রয়েছে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা সৃষ্টিকারী লুটিন এবং ক্যানসার প্রতিরোধকারী লাইকোপিন। গবেষকদের মতে করলা ক্যান্সাররোধী হিসাবে কাজ করে, যেমন করলা লিভার ক্যান্সার, লিউকেমিয়া, মেলানোমা ইত্যাদি প্রতিরোধ করে থাকে।
করলা রক্তের ট্রাইগ্লিসারাইড কমায় এবং ভালো কোলেস্টেরল এইচডিএল বাড়ায় । এর ফলে রক্তনালিতে চর্বি জমতে পারেনা এবং হার্ট অ্যাটাকের প্রবণতা কমে যায়।করলার রসে আছে অনেক গুণ। এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের দূষণ দূর করে। হজমপ্রক্রিয়ায় গতি বাড়ায়। পানির সঙ্গে মধু ও করলার রস মিশিয়ে খেলে অ্যাজমা, ব্রংকাইটিস ও গলার প্রদাহে উপকার পাওয়া যায়।করলার বড় গুণ হচ্ছে এটি হজমের জন্য উপকারী। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে এর ভূমিকা আছে। পরিপাকতন্ত্রের জটিলতা দূর করতে নিয়মিত করলা খেতে পারেন।করলা ফাইটোনিউট্রিয়েন্টস ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এর বড় উৎস, যা দেহের অতিরিক্ত ওজন কমাতে সক্ষম।করলাতে থাকা এন্হেলমিন্টক কম্পাউন্ডস কৃমিনাশক হিসেবে কাজ করে। এজন্য খালি পেটে করলার জুস পান করা উত্তম।

এছাড়া করলা খাবারে রুচি আনে, বাতের ব্যাথা নিরাময় করে, করলার রস শক্তিবর্ধক হিসেবেও কাজ করে। এটি স্ট্যামিনা বাড়ানোর পাশাপাশি ভালো ঘুমে সহায়তা করে। করলা হিমোগ্লোবিন তৈরি করতে সাহায্য করে কারন করলায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আয়রন। সুতরাং করলা খান সুস্থ্য সুন্দর জীবন যাপন করুন।

তবে,একদিনে অতিরিক্ত পরিমানে করলা না খাওয়াই উত্তম। তলপেটে সামান্য ব্যথা হতে পারে। গর্ভবতী মহিলারা ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে করলার রস খাবেন।

এ জাতীয় আরও সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button