২০২০ সালের ব্যালন ডি’অরটা লেভানদোস্কির পাওয়া উচিত ছিল: মেসি

প্রাপ্তির ভাঁড়ারটা একরকম শূন্যই থেকে গেল রবার্ট লেভানডফস্কির জন্য। ঠিক শূন্য হয়তো বলা যাবে না, যে কাজ সবচেয়ে ভালো পারেন, সেই গোল করার জন্য স্বীকৃতি পেয়েছেন গত রাতেও। ব্যালন ডি’অর প্রদান অনুষ্ঠানে লেভানডফস্কির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বছরের সেরা স্ট্রাইকারের ট্রফি।

কিন্তু লেভানডফস্কি কি শুধু এই পুরস্কার চেয়েছিলেন? অবশ্যই নয়। পোলিশ স্ট্রাইকারের চোখ ছিল সবচেয়ে বড়, সবচেয়ে আকর্ষণীয় ট্রফিটার দিকেই। যে ট্রফি পাওয়ার জন্য দুই বছর ধরেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এবারো ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদার পুরস্কার ব্যালন ডি’অর জিতেছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি। সোমবার দিবাগত রাতে প্যারিসের আলো ঝলমলে থিয়েটার ডু চ্যাটেলেটের অডিটোরিয়ামে ইতিহাসের প্রথম ফুটবলার হিসেবে সপ্তম ব্যালন ডি’অর গ্রহণ করেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। যাকে পেছনে ফেলে এই পুরস্কার জিতেছেন, মঞ্চে সেই লেভানদোস্কির প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন মেসি।

বায়ার্ন মিউনিখের পোলিশ স্ট্রাইকার রবার্ট লেভানদোস্কি সম্পর্কে মেসি বলেন, ‘তোমার (লেভানদোস্কি) সঙ্গে লড়াই করা সত্যিই অনেক সম্মানের। সবাই জানে এবং আমরা প্রত্যেকে মানি, গত বছর তুমিই ছিলে এই পুরস্কারের একমাত্র দাবিদার। আমি মনে করি ফ্রান্স ফুটবলের উচিত তোমাকে তোমার ২০২০ সালের ব্যালন ডি’অর দিয়ে দেওয়া। এটা তোমার ঘরে থাকা উচিত।’

লেভানডফস্কি পেয়েছেন সেরা স্ট্রাইকারের পুরষ্কার

গত বছর করোনাভাইরাস বেরসিকের মতো বাধা না দিলে ব্যালন ডি’অরের পুরস্কার নিয়ে হাসিমুখে পোজ দিয়ে হয়তো ছবি তুলতেন লেভানডফস্কিই। অনুষ্ঠান বাতিল হওয়ার কারণে হয়নি সেটা। তাই বলে হতাশায় নুয়ে পড়েননি বায়ার্ন মিউনিখের এই গোল মেশিন। নতুন উদ্যমে আবারও গোল করা শুরু করেছেন।

গত বছর সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৪২ ম্যাচ খেলে গোল করেছেন ৫৩টি, করিয়েছেন ৬টি। সব মিলিয়ে গড়ে ৬৭ মিনিট পরপর ১টি গোল করেছেন। গোলের হিসেবে মেসি বরং পিছিয়েই ছিলেন এবার। কিন্তু শেষমেশ পরম আরাধ্য কোপা আমেরিকা শিরোপাই নির্ধারণ করে দিল ব্যালন ডি’অরজয়ী কে হবেন। নিশ্চিত হলো, মেসিই জিতছেন সপ্তম ব্যালন ডি’অর।

শিরোপা পেয়ে হাস্যোজ্জ্বল মেসি

তাই বলে লেভানডফস্কির গত বছরের অর্জন কি সব মিথ্যা হয়ে যাবে? মিথ্যা না হলেও গত বছরের ব্যালন ডি’অরটা তো আর পাচ্ছেন না লেভানডফস্কি! মেসি বোঝেন ‘লেভা’র এই কষ্ট। আর বোঝেন দেখেই শিরোপা জয়ের পর এবার নিজের সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বীর কথা ভুললেন না মোটেও।

জানিয়ে দিলেন, গতবারের ব্যালন ডি’অরটা লেভানডফস্কির হাতেই তুলে দেওয়া উচিত, ‘আমি লেভানডফস্কির কথা বলতে চাই। রবার্ট, সবাই জানে, আমরাও এটা বিশ্বাস করি যে গতবারের ব্যালন ডি’অর বিজয়ী তুমিই ছিলে। আমার মনে হয়, ফ্রান্স ফুটবলের উচিত, তোমাকে ২০২০ সালের ব্যালন ডি’অরটা দিয়ে দেওয়া। এটা তোমার প্রাপ্য, এটা তোমার বাসায় থাকা উচিত।’

মেসির কথা এখন ফ্রান্স ফুটবল সাময়িকী শোনে কি না, দেখা যাক।

ব্যালন ডি’অর না পেলেও বছরের সেরা স্ট্রাইকারের নতুন এক পুরস্কার দেওয়া হয়েছে লেভানডফস্কিকে। সে পুরস্কার নিয়েই ভগ্নহৃদয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মেসিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অভিনন্দনবার্তা পোস্ট করেছেন লেভা, ‘সবার প্রথমে আমি লিওনেল মেসিকে অভিনন্দন জানাতে চাই, যে এবার ব্যালন ডি’অর জিতেছে। আমি প্রত্যেক সাংবাদিককে ধন্যবাদ জানাতে চাই, যাঁরা আমাকে ভোট দিয়েছেন। যাঁরা মনে করেছিলেন আমি ২০২১ সালে যা যা করেছি, তা গুরুত্বপূর্ণ।’

ভক্ত-সমর্থকসহ নিজের ক্লাব ও পরিবারকেও ধন্যবাদ জানাতে ভোলেননি লেভানডফস্কি, ‘আমি বছরের সেরা স্ট্রাইকারের পুরস্কার পেয়েছি। কিন্তু কোনো খেলোয়াড়ই ব্যক্তিগত পুরস্কার জিততে পারে না, যদি তাঁর পেছনে শক্তিশালী এক দল ও অনুগত সমর্থক না থাকে। আমার ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। আমি বায়ার্ন মিউনিখকে ধন্যবাদ জানাতে চাই আমাকে সফল হওয়ার মঞ্চ তৈরি করে দেওয়ার জন্য। পোল্যান্ড জাতীয় দল ও বায়ার্নে আমার সব সতীর্থকে ধন্যবাদ জানাই। প্রতিদিন আমার ওপর বিশ্বাস রাখার জন্য ধন্যবাদ জানাতে চাই আমার ভক্তদের। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যেটা, আমি ধন্যবাদ জানাতে চাই আমার পরিবারকে। মাকে ধন্যবাদ, আনাকে ধন্যবাদ।’

মেসি আরো বলেন, ‘লেভানদোস্কি দারুণ একটি বছর কাটিয়েছে। বছরের পর বছর নিজেকে নতুন উচ্চতায় তুলেছে এবং দেখিয়েছে সে কতটা ভালো একজন স্ট্রাইকার।’

প্রথমবারের মতো প্রবর্তিত সেরা স্ট্রাইকারের পুরস্কার উঠেছে লেভানদোস্কির হাতে। এই প্রসঙ্গে মেসি বলেন, ‘চলতি বছর সে সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে পুরস্কৃত হয়েছে। অবশ্যই সে সামনের বছর নিজেকে পরের ধাপে উন্নীত করার অনুপ্রেরণা পাবে। সে অনেক বড় ক্লাবের হয়ে খেলে।’

এ জাতীয় আরও সংবাদ

Back to top button