Skin Picking Disorder কাদের হয়?

Skin Picking Disorder কেন হয়?
বি.দ্র.( দুর্বল হার্টের মানুষরা ছবি টি ভালো করে পর্যবেক্ষন করার দরকার নাই। )
অনেকেই আছেন যারা নিজের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের চামড়া তুলতে পছন্দ করেন বা চামড়া তুলে মানসিক আনন্দ পান। একে Skin Picking Disorder বা Excoriation বা Dermatillomania বলা হয়।Excoriation ডিসঅর্ডার অবসেসিভ কম্পালসিভ ডিসঅর্ডার বা ওসিডি এর সাথে সম্পর্কিত একটি মানসিক রোগ।

Excoriation রোগীরা নিজের শরীরের কোনো অপূর্ণতা বা কোনো ক্ষতের দাগ সহ্য করতে পারেন না। ক্ষত হওয়া অংশের চামড়া তুলার জন্য ব্যাকুল হয়ে পড়েন এবং শরীরের বিভিন্ন অংশের চামড়া তুলে সেখানে ক্ষত করে ফেলেন। এর ফলে তাদের ত্বকে রক্তপাত হয়, অনেক কাটাছেঁড়ার মতো দাগ বা ঘা হয়ে যায়।ত্বকে ফুসকুড়ি, কোনো ইনফেকশন বা ছোট আঘাতে ছিলে গেলে সেই স্থানে আস্তে আস্তে কালো চামড়া বেঁধে যায়। এই রোগে আক্রান্ত রোগীরা চামড়া বাঁধার বিষয়টি মেনে নিতে পারেন না, তারা এটিকে এক ধরনের শারীরিক বিকৃতি হিসেবে ধরে নেন। তাদের মস্তিষ্ক তাদেরকে জোর করে শরীরের সেই অংশের চামড়া তুলে ফেলতে। তাই তারা ক্ষত নিরাময়ের আগেই নিজে থেকে সেই স্থানের চামড়া তুলে ফেলেন।

এভাবে যতবার ক্ষতস্থানে চামড়া বাঁধে ততবার তারা চামড়া তুলে ফেলেন। আক্রান্ত ব্যক্তিরা অনেক সময় ত্বকের ছোটখাটো বিকৃতি, যেমন: ব্রণ সহ্য করতে পারেন না এবং ব্রণ হওয়া স্থানে খুঁচিয়ে সেখানে ক্ষত করে ফেলেন। কেউ কেউ আবার শরীরের কোনো স্থানে অ্যালার্জি হলে সে স্থান বার বার নখ দিয়ে চুলকান এবং ক্ষত করে ফেলেন। এই রোগ সাধারণত ১৩-১৫ বছর বয়সীদের বা প্রাপ্তবয়স্কদের হতে পারে। তবে অনেক সময় এটি ১০ বছরের কম বয়সী বাচ্চাদেরও হয়।


এই ধরনের রোগীরা যখন মানসিক চাপে থাকে তখন নিজের অবচেতন মনেই তারা নখের চারপাশে ত্বক বা শরীরের কোনো অংশের চামড়া তুলে ফেলে, এতে তারা মানসিক চাপ থেকে মুক্তি পায়। এই ধরনের কাজ বার বার করে তারা মানসিক প্রশান্তি অনুভব করে এবং ধীরে ধীরে এটি তাদের অভ্যাসে পরিণত হয়। স্কিন পিকিং ডিসঅর্ডারকে এক ধরণের পুনরাবৃত্তিমূলক আচরণের মধ্যে ফেলা হয়। একে Body Focused Repetitive Behavior (BFRB) বলে।

অন্যান্য ধরণের BFRB এর মধ্যে রয়েছে ইচ্চাকৃতভাবে চুল, নখ টানা বা তুলে ফেলা যা দেহের ক্ষতি করে।
মস্তিষ্ক তাদের পুনরাবৃত্তিমূলক আচরণ করতে বাধ্য করে বলে একে DSM-V হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে যা অবসেসিভ কম্পালসিভ ডিসঅর্ডার এর একটি ধরণ। এই ব্যাধিটি সাধারণত দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং সময় যাওয়ার সাথে সাথে এর লক্ষণগুলো আরো তীব্র হয়ে ওঠে। চরমভাবে আক্রান্ত রোগীরা অনেক সময় কয়েক ঘন্টা ধরে বসে বসে চামড়া খুঁটেন।

পর্যাপ্ত চিকিৎসা এবং Cognitive-behavioral therapy (CBT) এর মাধ্যমে এই রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যেতে পারে। যদি পর্যাপ্ত চিকিৎসা না করা হয় অনেক বছর পর্যন্ত এই রোগ স্থায়ী হতে পারে এবং মারাত্মক রূপ ধারণ করতে পারে।

এ জাতীয় আরও সংবাদ

Back to top button